খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ, ১৪৩৩

ভোটের জন্য গ্রামে গ্রামে ছুটছেন সালাউদ্দিন টুকু, তুলে ধরছেন উন্নয়নের পরিকল্পনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ভোটের জন্য গ্রামে গ্রামে ছুটছেন সালাউদ্দিন টুকু, তুলে ধরছেন উন্নয়নের পরিকল্পনা

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জমে উঠেছে প্রচারণা। এই প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক ও ধানের শীষের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। প্রতিদিনই তিনি বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন এবং তাঁর উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরছেন।

ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক এই কেন্দ্রীয় সভাপতি সকাল ৯টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নিজের জন্মস্থানের মাটিতে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছুটছেন। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন, তাঁদের সমস্যা শুনছেন এবং সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন। কোথাও মানুষের জটলা দেখলেই গাড়ি থেকে নেমে কুশল বিনিময় করেন। কোথাও অংশ নিচ্ছেন পথসভায়, কোথাও আবার নির্বাচনী অফিসে মতবিনিময় করছেন। এছাড়া সন্ধ্যা ও রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে সভা ও মতবিনিময়েও অংশ নেন। এতে গ্রামবাসীর মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।

গতকাল খাস কাকুয়া স্কুল মাঠে এক ফুটবল ফাইনাল টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এক চা দোকানি জানান, দিন যত যাচ্ছে ধানের শীষের অবস্থান শক্ত হচ্ছে এবং এলাকায় ৭০ ভাগ মানুষ এখন ধানের শীষের পক্ষে।

ফেরার পথে সরিষা ক্ষেতে কৃষকদের কাজ করতে দেখে গাড়ি থেকে নেমে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন টুকু। সঙ্গে ছিলেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আজগর আলী। কৃষকদের আবাদ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং এক বৃদ্ধকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। এ সময় কৃষকরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। ওই কৃষক বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই বিএনপি করি, আল্লাহ যেন আপনার দিকে মুখ তুলে চায়। আমি পুরোদমে কাজ করতেছি আপনার জন্য।’

পাশেই এক নারীর কাছে গিয়ে ৩১ দফার কথা বললে তিনি টুকুকে বলেন, ‘কিছু পাইলেও ভোট দিমু, না পাইলেও ভোট দিমু। গাড়ি থেকে নাইমা যখন এখান পর্যন্ত আইতে পারছেন, তাহলে আপনারে ভোট দিমু। আমি জিনিসে খুশি না, কথায় খুশি। ওখান থেকে এখানে আসছেন- এটাই তো মেলা কিছু।’

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনটি একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪১২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ১০৮ জন, পুরুষ ২ লাখ ৩১ হাজার ৩০৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ জন। মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৩০টি।

এই আসনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ছাড়াও আরও ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আহসান হামীব মাসুদ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এ কে এম শফিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খন্দকার জাকির হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের ফাতেমা আক্তার, স্বতন্ত্র মো. ফরহাদ ইকবাল, জাতীয় পার্টির মো. মোজাম্মেল হক, গণঅধিকার পরিষদের মো. শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির মো. হাসরত খান ভাসানী এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সৈয়দ খালেকুজ্জামান মোস্তফা।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে ৩৫০টি মামলার মুখোমুখি হন এবং ১২ দফা কারাভোগ করেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। মোট প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে থাকা এই বিএনপি নেতা এবারই প্রথম টাঙ্গাইল-৫ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, ফলে নতুন ইতিহাস গড়ার প্রত্যাশা তাঁর।

ইতিমধ্যে তাঁর সরাসরি জনসংযোগ ও স্বভাবসুলভ আচরণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখা যাচ্ছে। তিনি ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারম্যানের টাঙ্গাইলের নির্বাচনী জনসভায় টাঙ্গাইলবাসীর পক্ষ থেকে সাতটি উন্নয়নমূলক দাবি তাঁর কাছে তুলে ধরা হয়, যা বাস্তবায়নের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। তারেক রহমানের এই ঘোষণায় টাঙ্গাইলবাসী উচ্ছ্বসিত। চা স্টল থেকে শুরু করে অফিস-আদালতের আড্ডায় এসব দাবি নিয়ে আলোচনা চলছে।

এদিকে এলাকাবাসীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সহজ করতে ‘জনতার সংযোগ’ ফোন বুথ উদ্বোধনের উদ্যোগ নিয়েছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এই বুথের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে এলাকার যেকোনো সমস্যা, অভিযোগ বা প্রয়োজন সহজে জানানো যাবে।

স্থানীয়রা মনে করেন, ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা হওয়া সত্ত্বেও টাঙ্গাইল সদরে উন্নয়নের ছোঁয়া তুলনামূলক অনেক কম। সাবেক এমপি-মন্ত্রী প্রয়াত মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসানের পর এই অঞ্চলে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। এমন একটি অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজন জাতীয় পর্যায়ের শক্তিশালী নেতৃত্ব, যিনি মেধা ও দক্ষতায় এগিয়ে। সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে তেমনই একজন যোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখছেন অনেকে। তিনি জয়ী হলে টাঙ্গাইল-৫ আসনের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে তাঁদের প্রত্যাশা।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আমি একা সব ভোটারের কাছে যেতে পারব না। তবুও যতটুকু সম্ভব মানুষের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছি। ফোনের মাধ্যমেও সবাইকে সালাম পৌঁছে দিচ্ছি। গ্রাম থেকে শহর, যেখানেই যাচ্ছি, মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ধানের শীষের পক্ষে জনজোয়ার তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, এই টাঙ্গাইলের উন্নয়নে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যেন সারাদেশের উন্নয়নের তালিকায় টাঙ্গাইল এক নম্বরে থাকে। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ টাঙ্গাইল চাই, যেখানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে দেশকে এগিয়ে নেবে।

পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক

‘পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ’ উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি আমাদের জীবনে প্রতি বছর ফিরে আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে। নতুন বছরের আগমনে পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বাংলা ১৪৩২ সালকে বিদায় জানিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ কে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে আমাদের এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্পর্ক নিবিড়। তথ্যপ্রযুক্তির এই সুবর্ণ সময়েও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কৃষক তার ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করে। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়। বৈশাখী মেলা, বৈশাখী শোভাযাত্রা, হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং আমাদেরকে ঐক্যবোধে উজ্জীবিত করে। বাংলা নববর্ষ আমাদের সামনে এনেছে নতুন প্রত্যাশা ও নতুন সম্ভাবনা। প্রকৃতির নবজাগরণ আর মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলেমিশে সৃষ্টি করে এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যাত্রা শুরু করে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার। দায়িত্ব নিয়েই এই সরকার রাষ্ট্র এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু এবং ইমাম-মোয়াজ্জিন-খতিব ও অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষক, কৃষি এবং কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে শুরু হলো কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি। আগামী দিনগুলোতে এই কৃষক কার্ড বাংলাদেশের কৃষক ও কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে—বাংলা নববর্ষে এটিই হোক আমাদের প্রত্যয় ও প্রত্যাশা।

তিনি আরও বলেন, আমি আশা করি, বাংলাদেশের জনগণের যার যার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। বিশ্ব আজ নানা সংকট ও সংঘাতে বিপর্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি—এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে আমরা অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি। নববর্ষ সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। দেশবাসীকে আবারও জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।

 

দেশবাসী ও প্রবাসীদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন জামায়াত আমির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ
দেশবাসী ও প্রবাসীদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন জামায়াত আমির

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসী ও প্রবাসী ভাই-বোনদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। (সোমবার, ১৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান।

বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, মহাকালের পরিক্রমায় আমাদের দুয়ারে সমাগত আরও একটি বাংলা নববর্ষ। এবারের নববর্ষ আমাদের জীবনে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে এসেছে। বাংলা নববর্ষে দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি ভাই-বোনদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমে প্রিয় দেশ ও জাতিকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করার আপোসহীন লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে জনগণের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তিত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। আসুন, সবার জন্য ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক মুক্তি ও মানবিক সমাজ গড়ার লক্ষ্যে একধাপ এগিয়ে যাই। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

জ্বালানি সংকটের মধ্যেই ৫০ গাড়ি নিয়ে মহড়া দিয়ে পদ হারালেন ছাত্রদল নেতা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
জ্বালানি সংকটের মধ্যেই ৫০ গাড়ি নিয়ে মহড়া দিয়ে পদ হারালেন ছাত্রদল নেতা

জ্বালানি সংকটের মধ্যেই নাটোরের গুরুদাসপুরে ৫০ গাড়ির বহর নিয়ে মহড়া দেওয়ার ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রামানিককে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গির আলম স্বাক্ষরিত পত্রে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা জানান দিতেই শোডাউন দেন মাসুদ রানা। ছাত্রদল নেতার গাড়ি বহরের এই শোডাউন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। শোডাউনে যোগান দেওয়া অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। নানা সমালোচনার মুখে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নজরে সোমবার তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এর আগে রোববার বিকেলে ৫০টি মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার নিয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারে গিয়ে শেষ হয় সেই শোডাউন। এতে অংশ নেয় অন্তত চারশ’ নেতাকর্মী। পরে শোডাউনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় নীতির বিপরীতে বিপুল পরিমাণ তেল পুড়িয়ে এমন কর্মকাণ্ডে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সদ্য বহিষ্কৃত নেতা মাসুদ রানা ৫০টি যানবাহন অংশ নেওয়ার কথা নিশ্চিত করলেও ব্যয়ের উৎস নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বলেন, শোডাউনের গাড়িগুলো জ্বালানি তেলে চালিত নয়। বেশিরভাগই এলপিজি ও সিএনজিচালিত গাড়ি। দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েও কোনো মন্তব্য করেননি।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, মাসুদ রানা দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজের জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যেই তিনি এই গাড়ি বহরের আয়োজন করেন।

নাটোর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজন বলেন, ছাত্রদল নেতা মাসুদ রানা গাড়ি বহরের বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নজরে এসেছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট কারণে সোমবার ওই নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।