সাতলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি ফল নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এবারের এসএসসি ফলাফল তুলনায় সাতলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফলাফল সবচেয়ে পিছিয়ে। বিদ্যালয়টির ৬৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৫ জন পাস করেছে, আর অকৃতকার্য হয়েছে ২৪ জন। পাসের হার ৬৫ দশমিক ২২ শতাংশ।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, বিদ্যালয়টির মানবিক বিভাগের ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩২ জন পাস করেছে এবং ২২ জন অকৃতকার্য হয়েছে। এ বিভাগে পাসের হার ৫৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের চারজনের মধ্যে দুজন পাস করেছে। বিজ্ঞান বিভাগের ১১ জন পরীক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
সাতলা ইউনিয়নের অন্য তিন বিদ্যালয়ের ফল তুলনামূলক ভালো। শিবপুর নবীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২১ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে। পূর্ব সাতলা ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২৫ জনের মধ্যে ২৩ জন এবং রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০ জনের মধ্যে ১৫ জন পাস করেছে। তাদের পাসের হার যথাক্রমে ১০০, ৯২ ও ৭৫ শতাংশ।
ফলাফল অনুযায়ী, চার বিদ্যালয়ের মধ্যে সাতলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাসের হার সবচেয়ে কম এবং অকৃতকার্যের হার সবচেয়ে বেশি- ৩৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ। রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অকৃতকার্যের হার ২৫ শতাংশ এবং পূর্ব সাতলা ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮ শতাংশ। শিবপুর নবীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কোনো পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়নি।
সাতলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফলাফলে সবচেয়ে বেশি নজরে পড়ছে মানবিক বিভাগের চিত্র। এ বিভাগের ৫৪ জনের মধ্যে ২২ জন অকৃতকার্য হওয়ায় পাসের হার নেমে এসেছে ৫৯ দশমিক ২৬ শতাংশে। অন্যদিকে বিজ্ঞান বিভাগের সব শিক্ষার্থী পাস করলেও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে অর্ধেক পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জাতীয় পর্যায়েও পাসের হার কমেছে। গত ১০ আগস্ট ফল প্রকাশের পর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার দাঁড়ায় ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বলে জানানো হয়েছে। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমার পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে।
অভিভাবকদের উদ্বেগ
সাতলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফলাফল নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের মতে, শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা পরীক্ষার আগেই চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।
একজন অভিভাবক বলেন, “একই এলাকার অন্য বিদ্যালয়গুলো ভালো ফল করছে, তাহলে সাতলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফলাফল কেন এত পিছিয়ে এটি কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।”
অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষকদের উপস্থিতি, নিয়মিত ক্লাস নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে কি না, সেটি এখন পর্যালোচনা করা জরুরি।
ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ
বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও সার্বিক কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
অতীতে দায়িত্বে থাকা ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলেও স্থানীয়রা দাবি করেছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সর্বেশ্বর বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া, শিক্ষকদের কেউ কেউ দলীয় রাজনীতিতে সময় দেন এমন অভিযোগও স্থানীয়ভাবে রয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন, বিদ্যালয়ের ফলাফল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন
Array