খুঁজুন
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩১ আশ্বিন, ১৪৩৩

সাতলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি ফল নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ

জেলা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
সাতলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি ফল নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এবারের এসএসসি ফলাফল তুলনায় সাতলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফলাফল সবচেয়ে পিছিয়ে। বিদ্যালয়টির ৬৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৫ জন পাস করেছে, আর অকৃতকার্য হয়েছে ২৪ জন। পাসের হার ৬৫ দশমিক ২২ শতাংশ।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, বিদ্যালয়টির মানবিক বিভাগের ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩২ জন পাস করেছে এবং ২২ জন অকৃতকার্য হয়েছে। এ বিভাগে পাসের হার ৫৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের চারজনের মধ্যে দুজন পাস করেছে। বিজ্ঞান বিভাগের ১১ জন পরীক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

সাতলা ইউনিয়নের অন্য তিন বিদ্যালয়ের ফল তুলনামূলক ভালো। শিবপুর নবীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২১ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে। পূর্ব সাতলা ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২৫ জনের মধ্যে ২৩ জন এবং রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০ জনের মধ্যে ১৫ জন পাস করেছে। তাদের পাসের হার যথাক্রমে ১০০, ৯২ ও ৭৫ শতাংশ।

ফলাফল অনুযায়ী, চার বিদ্যালয়ের মধ্যে সাতলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাসের হার সবচেয়ে কম এবং অকৃতকার্যের হার সবচেয়ে বেশি- ৩৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ। রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অকৃতকার্যের হার ২৫ শতাংশ এবং পূর্ব সাতলা ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮ শতাংশ। শিবপুর নবীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কোনো পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়নি।

সাতলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফলাফলে সবচেয়ে বেশি নজরে পড়ছে মানবিক বিভাগের চিত্র। এ বিভাগের ৫৪ জনের মধ্যে ২২ জন অকৃতকার্য হওয়ায় পাসের হার নেমে এসেছে ৫৯ দশমিক ২৬ শতাংশে। অন্যদিকে বিজ্ঞান বিভাগের সব শিক্ষার্থী পাস করলেও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে অর্ধেক পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।

এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জাতীয় পর্যায়েও পাসের হার কমেছে। গত ১০ আগস্ট ফল প্রকাশের পর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার দাঁড়ায় ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বলে জানানো হয়েছে। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমার পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে।

অভিভাবকদের উদ্বেগ

সাতলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফলাফল নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের মতে, শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা পরীক্ষার আগেই চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।

একজন অভিভাবক বলেন, “একই এলাকার অন্য বিদ্যালয়গুলো ভালো ফল করছে, তাহলে সাতলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফলাফল কেন এত পিছিয়ে এটি কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।”

অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষকদের উপস্থিতি, নিয়মিত ক্লাস নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে কি না, সেটি এখন পর্যালোচনা করা জরুরি।

ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ

বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও সার্বিক কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

অতীতে দায়িত্বে থাকা ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলেও স্থানীয়রা দাবি করেছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সর্বেশ্বর বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া, শিক্ষকদের কেউ কেউ দলীয় রাজনীতিতে সময় দেন এমন অভিযোগও স্থানীয়ভাবে রয়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, বিদ্যালয়ের ফলাফল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ওয়ার্ল্ডশেফসের সদস্যপদ পেল বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
ওয়ার্ল্ডশেফসের সদস্যপদ পেল বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন

ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব শেফস সোসাইটিসের (ওয়ার্ল্ডশেফস) ন্যাশনাল মেম্বারশিপ পেয়েছে বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন (বিসিএফ)। এ সদস্যপদের ফলে বাংলাদেশের শেফ ও রন্ধনশিল্পের পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা ও পেশাগত নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ডশেফসের সনদপ্রাপ্ত মাস্টার শেফ ও বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা নাজিম খান। এ সময় সংগঠনটির সভাপতি শহীদ শাহীন, সাধারন সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী, সাংঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশারফ ও অর্থ সম্পাদক বায়েজিদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিসিএফের প্রতিনিধিরা বলেন, ওয়ার্ল্ডশেফসের সদস্যপদ দেশের রন্ধনশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে দেশীয় শেফদের আন্তর্জাতিক পরিসরে দক্ষতা উন্নয়ন, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের শেফদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ বাড়বে।

দেশের রন্ধনশিল্পের অগ্রগতি এবং শেফদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম হাতে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান আয়োজকেরা। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের দক্ষ রন্ধনশিল্পী তৈরি করতে কাজ করবে সংগঠনটি।

ওয়ার্ল্ডশেফস বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেফ ও রন্ধনশিল্পের পেশাজীবীদের নিয়ে কাজ করা একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। সংগঠনটি শেফদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, জ্ঞান বিনিময় ও পেশাগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।

অধ্যাপক পিয়াস করিমের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বিশেষ প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
অধ্যাপক পিয়াস করিমের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. পিয়াস করিমের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (১৩ অক্টোবর)। ২০১৪ সালের এই দিনে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান তিনি।

এ উপলক্ষে পিয়াস করিমের স্মৃতি, অবদান ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে নানা উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অধ্যাপক পিয়াস করিমের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘স্যারের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। জাতীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ নিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। সত্যের পক্ষে অবিচল থাকার কারণেই তাঁকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। কত দুঃসহ স্মৃতি নিয়েই না চলে গেলেন স্যার! আপনাকে আজও মিস করি। আপনার স্মৃতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমিন।’

সাংবাদিক মোহাম্মদ নাহিয়ান বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় পিয়াস করিম যে বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রাম চালিয়েছিলেন, তা এই প্রজন্মের অনেকের কাছেই অজানা। তাঁর সংগ্রাম, অবদান ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য তিনি ‘পিয়াস করিম স্মৃতি সংসদ’ গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।

অধ্যাপক ড. পিয়াস করিমের জন্ম ১৯৫৮ সালের ২৩ অক্টোবর। তাঁর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। তাঁর আসল নাম ড. মঞ্জুরুল করিম। পিয়াস ছিল তাঁর ডাকনাম। পরবর্তী সময়ে এই নামেই তিনি পরিচিতি লাভ করেন।

তিনি ১৯৭৩ সালে কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৭৫ সালে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে সমাজবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

রাজনৈতিক অর্থনীতি, রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান, জাতীয়তাবাদ ও সামাজিক তত্ত্ব ছিল তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র। ২০০৭ সালে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষকতা করেন। টেলিভিশনের টক শোতে আলোচক হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন। চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে পিয়াস করিম ছিলেন পঞ্চম। তাঁর বাবা প্রয়াত অ্যাডভোকেট এম এ করিম।

সড়ক দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন তানজিন তিশা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ
সড়ক দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন তানজিন তিশা

অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। একটি শোরুম উদ্বোধন করতে মানিকগঞ্জে যাচ্ছিলেন তিনি।

যাত্রাপথে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তার গাড়ি। তবে বড় ধরনের কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি তাকে।

দুর্ঘটনার পর মানিকগঞ্জে না গিয়ে ঢাকায় ফিরেছেন জানান তানজিন তিশা নিজেই।

শনিবার (১০ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে দুর্ঘটনার বিষয়টি জানান তানজিন তিশা।

সেখানে তিনি লেখেন, ‘মানিকগঞ্জে যাওয়ার পথে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলাম। আলহামদুলিল্লাহ! দেখা হবে সবার সাথে, ইনশাআল্লাহ।’

তিশার এই পোস্টের পর তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি অভিনেত্রী।