খুঁজুন
রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২ কার্তিক, ১৪৩৩

হোস্টেলে সমকামিতা: দুই ছাত্রদল নেতাসহ ৪ জনের সিট বাতিল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
হোস্টেলে সমকামিতা: দুই ছাত্রদল নেতাসহ ৪ জনের সিট বাতিল

রাজধানীর সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে সমকামিতায় লিপ্ত থাকার দায়ে ৪ ছাত্রের সিট বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে এক বহিরাগতসহ ৫ জনকে পুলিশে সোপর্দ করার পর ইতোমধ্যেই ১৫ দিন কারাদণ্ডও ভোগ করেছেন তারা। এর মধ্যে দুইজন সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের পদধারী নেতা।

শাস্তিপ্রাপ্ত চার শিক্ষার্থী হলেন বিএএএমএস (আয়ুর্বেদিক) ৩৩ ব্যাচের আহসানুল ইসলাম চৌধুরী, ৩৪ ব্যাচের মহিবুর রহমান নয়ন ও রাব্বি হোসেন ওরফে আরিয়ান শাহ রাব্বি এবং বিইউএমএস (ইউনানী) ৩৫ ব্যাচের শাহরিয়ার পলক। এর মধ্যে আরিয়ান শাহ রাব্বি ও মহিবুর রহমান নয়ন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। বহিরাগত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল রাতে মেডিকেল কলেজটির মসজিদের গলি থেকে ৩৫ ব্যাচের ছাত্র শাহরিয়ার পলক উলঙ্গ অবস্থায় এক বহিরাগতের সঙ্গে আটক হন। তাকে জেরা করা অবস্থায় তিনি ক্যাম্পাসে থাকা আরো কিছু সমকামীর পরিচয় প্রকাশ করেন। এর মধ্যে আরিয়ান রাব্বি, নয়ন ও আহসানও ছিলেন। পরবর্তীতে তাদেরকে কাফরুল থানায় হস্তান্তর করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। একই দিন (২৩ এপ্রিল) একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ছাত্রাবাস থেকে তাদের সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২৩ এপ্রিল হোস্টেল সুপার ও আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. মকছেদ আলী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্র সমকামীতায় আসক্ত শিক্ষার্থীদের কাফরুল থানা পুলিশের নিকট সপর্দ করা হয়। এ বিষয়ে দুপুরে জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধন্ত মোতাবেক তাদের ছাত্রাবাসের সিট বরাদ্দ সাময়িক ভাবে বাতিল করা হলো।

একজন শিক্ষক জানান, ওই চার শিক্ষার্থীকে জেরা করলে তাদের মোবাইল থেকে ভয়ংকর তথ্য বের হয়ে আসে। মূলত তারা সমকামী নেতা এবং পুরুষ সমকামী (গে) কমিউনিটির প্রধান। প্রায় ৪০টি সমকামী গ্রুপের সাথে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

এছাড়া ওই চার শিক্ষার্থী হোস্টেলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদেরও সমকামিতায় লিপ্ত হতে প্ররোচিত করতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, আটকের পর আরিয়ান রাব্বির ডেস্ক থেকে বিপুল পরিমাণ যৌনচর্চায় ব্যাবহৃত জিনিসপত্র পাওয়া যায়। এমনকি হোস্টেলের ছাত্রদের খালি গায়ে থাকা অবস্থায় ছবি তুলে সমকামী গ্রুপে শেয়ার করারও প্রমাণ মিলেছে।

এদিকে এ ঘটনায় আটক একজন শিক্ষার্থী এইডস আক্রান্ত বলেও দাবি করেন তিনি। বলেন, ওই শিক্ষার্থী এমন কর্মকাণ্ডের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হয়ে এই ক্যাম্পাসে আসেন। এ ছাড়া তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে ২৮ ও ৩৩তম ব্যাচের আরও অন্তত তিনজনের নাম উঠে আসে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সমকামিতায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের আটক ও সিট বাতিলের সত্যতা স্বীকার করেছেন সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. রাশিদুজ্জামান খান।

তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়। ইতোমধ্যে তাদের কারাভোগের মেয়াদ শেষ হয়েছে। আমরা জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে তাদের সিট বাতিল করেছি। তবে তাদের ছাত্রত্ব থাকবে।

সেনাবাহিনীর প্রকৃত শক্তি শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নৈতিকতা ও জনগণের আস্থা: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
সেনাবাহিনীর প্রকৃত শক্তি শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নৈতিকতা ও জনগণের আস্থা: প্রধানমন্ত্রী

সেনাবাহিনীর প্রকৃত শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম কিংবা জনবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ এবং জনগণের আস্থার মধ্যেই একটি বাহিনীর মূল শক্তি নিহিত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সাভার সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সৈনিক সংবিধান, আইন, সামরিক বিধিবিধান এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকবেন, এটাই জনগণের প্রত্যাশা। একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা শুধু অস্ত্র ও সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করে না। বরং শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ এবং জনগণের আস্থা একটি বাহিনীর প্রকৃত শক্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সঙ্গে সেনাবাহিনীর জন্মের ইতিহাস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সেনাসদস্যরা সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। স্বাধীনতার জন্য তাদের সেই প্রতিরোধ বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে নিরাপত্তা পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের ধরন ও কৌশল। স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশীয়ভাবে উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। প্রতিরক্ষা খাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম উৎপাদনে দেশীয় সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়টি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রযুক্তি কখনোই মানুষের বিকল্প নয়। তাই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও পেশাদারিত্ব বাড়াতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে জাতীয় প্রয়োজনে তিন বাহিনী একযোগে দায়িত্ব পালন করতে পারে। দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করার ক্ষেত্রে বাহিনীগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সশস্ত্র বাহিনীর বহুমুখী দায়িত্বের বিষয়টি উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড এবং অন্যান্য জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিদেশের শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

সেনাসদস্যদের কল্যাণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন এবং অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। জাতীয় পে স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ শতাংশ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করার লক্ষ্যে ‘ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা প্রদান করা হয়। সাভার সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থেকে ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা প্রদান করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা অর্জনকারী সাতটি ইউনিটকে এই গৌরবময় স্বীকৃতির মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে একটি আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় পতাকা অর্জনকারী ইউনিটগুলোকে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর কোনো ইউনিটের জন্য জাতীয় পতাকা শুধু একটি আনুষ্ঠানিক প্রতীক নয়, বরং এটি সেই ইউনিটের গৌরবময় ঐতিহ্য, বীরত্ব, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের প্রতীক। লাল-সবুজের এই পতাকার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অসংখ্য বীরের আত্মত্যাগের ইতিহাস। জাতীয় পতাকা প্রদানের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের আস্থা, স্বীকৃতি ও সম্মানের প্রতিফলন ঘটে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রধান, সংসদ সদস্য, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন পর্যায়ের সেনাসদস্য এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদল: ট্রাম্প কার্ড হতে পারেন মওদুদ আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৯ অপরাহ্ণ
ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদল: ট্রাম্প কার্ড হতে পারেন মওদুদ আহমেদ

মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্তির পর নতুন নেতৃত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতার নাম ঘুরেফিরে সামনে এলেও সাংগঠনিক শক্তি, রাজনৈতিক যোগাযোগ ও অনুসারীদের সমর্থনের হিসাব-নিকাশে আলোচনায় আসছেন মিরপুর কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মওদুদ আহমেদ। সংশ্লিষ্ট মহলে গুঞ্জন, শেষ মুহূর্তে হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়ে ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে ‘ট্রাম্প কার্ড’ হয়ে উঠতে পারেন তিনি।

ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সাংগঠনিক পরিধিতে রয়েছে মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ, আলহাজ্ব মকবুল হোসেন কলেজ, সরকারি গ্রাফিক্স আর্টস কলেজ, মিরপুর কলেজ, দুয়ারিপাড়া সরকারি কলেজ, পল্লবী সরকারি কলেজ, হারুন মোল্লা ডিগ্রি কলেজ, ইউনানি আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মহানগর পশ্চিমের একাধিক থানা এলাকায় সংগঠনটির সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তৃত।

এই ইউনিটের আওতাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মিরপুর কলেজের সাংগঠনিক গুরুত্ব বিশেষভাবে আলোচিত। বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এখানে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নতুন কমিটি গঠনের আলোচনায় বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে মিরপুর কলেজ শাখা থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব মহানগর পশ্চিমের কমিটিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও চলছে আলোচনা।

মিরপুর কলেজ থেকে নেতৃত্বের দৌড়ে মওদুদ

নতুন কমিটি ঘিরে আলোচনায় থাকা মওদুদ আহমেদ বর্তমানে মিরপুর কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে, তিনি ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী। সাবেক সভাপতি রবিন খানের অনুসারী হিসেবেও তাকে চেনেন অনেকে।

এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব ও মিরপুরের বিএনপি নেতা মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেলের অনুসারী হিসেবে মওদুদ আহমেদের পরিচিতি রয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আছে।

তাই এসব রাজনৈতিক যোগাযোগ নতুন কমিটির নেতৃত্ব নির্বাচনে মওদুদ আহমেদের অবস্থানকে কতটা শক্তিশালী করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এদিকে শুধু নিজস্ব সাংগঠনিক বলয়েই সীমাবদ্ধ নেই মওদুদ আহমেদের তৎপরতা- এমন আলোচনা রয়েছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান ও পল্টনকেন্দ্রিক বিভিন্ন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন বলেও জানা গেছে।

তবে রাজনৈতিক যোগাযোগ কিংবা কোনো নেতার অনুসারী হিসেবে পরিচিতি থাকলেই যে সাংগঠনিক পদ নিশ্চিত হবে, এমন নয়। নতুন কমিটিতে প্রার্থীদের সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজপথে ভূমিকা, নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মূল্যায়নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

কমিটি বিলুপ্তির পর নতুন সমীকরণ

গত ৩০ সেপ্টেম্বর মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সংসদ। কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের নয় সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই কমিটিতে সভাপতি করা হয় মো. রবিন খানকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় আকরাম আহমেদকে। পরে চলতি বছরের ৪ এপ্রিল কমিটিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার কয়েক মাসের মধ্যেই তা বিলুপ্ত করা হয়।

নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরাম আহমেদ এবং সদ্য সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গোলাম মওলা গোলাপের নামও আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল সোহেল, সহসভাপতি কাওসার খান, সৈয়দ নেছার উদ্দিন রুজেন ও কাজী শাওন আলম, দপ্তর সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া খান সিজার এবং শেরেবাংলা নগর থানা ছাত্রদলের আহবায়ক রাজা আহমেদ মিন্টুর নামও সম্ভাব্য নেতৃত্ব হিসেবে সামনে আসছে।

এমন পরিস্থিতিতে মিরপুর কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মওদুদ আহমেদের অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে পরিচিতি ও রাজনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, সাংগঠনিক সক্রিয়তা এবং নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্ব পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য। ফলে ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের পরবর্তী কমিটিতে মওদুদ আহমেদ সত্যিই ‘ট্রাম্প কার্ড’ হয়ে উঠবেন, নাকি অভিজ্ঞ ও আলোচনায় থাকা অন্য প্রার্থীরা নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যাবেন- সেই উত্তর মিলবে কেন্দ্রীয় সংসদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে।

ওয়ার্ল্ডশেফসের সদস্যপদ পেল বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
ওয়ার্ল্ডশেফসের সদস্যপদ পেল বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন

ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব শেফস সোসাইটিসের (ওয়ার্ল্ডশেফস) ন্যাশনাল মেম্বারশিপ পেয়েছে বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন (বিসিএফ)। এ সদস্যপদের ফলে বাংলাদেশের শেফ ও রন্ধনশিল্পের পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা ও পেশাগত নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ডশেফসের সনদপ্রাপ্ত মাস্টার শেফ ও বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা নাজিম খান। এ সময় সংগঠনটির সভাপতি শহীদ শাহীন, সাধারন সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী, সাংঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশারফ ও অর্থ সম্পাদক বায়েজিদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিসিএফের প্রতিনিধিরা বলেন, ওয়ার্ল্ডশেফসের সদস্যপদ দেশের রন্ধনশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে দেশীয় শেফদের আন্তর্জাতিক পরিসরে দক্ষতা উন্নয়ন, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের শেফদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ বাড়বে।

দেশের রন্ধনশিল্পের অগ্রগতি এবং শেফদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম হাতে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান আয়োজকেরা। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের দক্ষ রন্ধনশিল্পী তৈরি করতে কাজ করবে সংগঠনটি।

ওয়ার্ল্ডশেফস বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেফ ও রন্ধনশিল্পের পেশাজীবীদের নিয়ে কাজ করা একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। সংগঠনটি শেফদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, জ্ঞান বিনিময় ও পেশাগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।