খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২ আশ্বিন, ১৪৩৩

পদ থেকে বিদায়, আদর্শ থেকে নয়: আবেগঘন বার্তায় নাছির উদ্দিন নাছির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ণ
পদ থেকে বিদায়, আদর্শ থেকে নয়: আবেগঘন বার্তায় নাছির উদ্দিন নাছির

রাজনীতির পথ কখনো মসৃণ হয় না। কখনো সেখানে থাকে রাজপথের উত্তাপ, কখনো অনিশ্চয়তা, কখনো ত্যাগ আর কখনো সহযোদ্ধাদের ভালোবাসায় ভেজা অসংখ্য স্মৃতি। দীর্ঘ সতেরো বছরের রাজনৈতিক পথচলা শেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের শেষ দিনে সেই স্মৃতির দরজাই যেন খুলে দিলেন নাছির উদ্দিন নাছির।

সহযোদ্ধাদের উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী বার্তায় নাছির ফিরে দেখেছেন তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত দীর্ঘ পথ। স্মরণ করেছেন আন্দোলন-সংগ্রামে হারিয়ে যাওয়া নেতাকর্মীদের, কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সহযোদ্ধাদের প্রতি, তুলে ধরেছেন অর্জন ও অপূর্ণতার কথা। আর সবকিছুর শেষে জানিয়েছেন- পদ থেকে বিদায় নিলেও ছাত্রদল থেকে নয়, আদর্শ ও ভালোবাসা থেকে নয়।

তার বিদায়ী বার্তার প্রতিটি পঙ্‌ক্তিতে যেন মিশে আছে একজন সংগঠকের দীর্ঘ পথচলার ক্লান্তি, প্রাপ্তির আনন্দ, কিছু অপূর্ণতার আক্ষেপ আর সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন।

‘এই পথচলা সহজ ছিল না’
ওয়ান ইলেভেনের দুঃসময়ে নিজের রাজনৈতিক জীবনের সূচনার কথা স্মরণ করে নাছির লিখেছেন, দীর্ঘ সতেরো বছরের সীমাহীন অনিশ্চয়তা পেরিয়ে তারা আজ ভিন্ন এক বাংলাদেশের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।

তার ভাষায়, এই পথচলায় ছিল সংগ্রাম, ত্যাগ, নির্যাতন, গুম ও খুনের ভয়াবহ বাস্তবতা। সেই কঠিন সময়ে যারা গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন তিনি।

নাছিরের কাছে তাদের ত্যাগ শুধু অতীতের কোনো ঘটনা নয়; বরং আজকের অবস্থানের ভিত্তি গড়ে দেওয়া এক দীর্ঘ আত্মত্যাগের ইতিহাস।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে
নোয়াখালীর সুবর্ণচরের সন্তান নাছির উদ্দিন নাছির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। তখন হয়তো তার কল্পনাতেও ছিল না, একদিন সেই সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব তার কাঁধে উঠবে।

কিন্তু সময় তাকে নিয়ে গেছে সেই পথেই।

বিদায়ী বার্তায় তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, রাজনীতি শুধু পদ-পদবির হিসাব নয়। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সংকটে সহযোদ্ধার হাত ধরা এবং নিজের বিশ্বাসের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকাই রাজনীতির প্রকৃত অর্থ।

আর সেই দীর্ঘ যাত্রায় ছাত্রদল তাকে দিয়েছে পরিচয়, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা এবং অসংখ্য মানুষের সঙ্গে পথচলার সুযোগ- যেগুলোকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।

জুলাই-আগস্ট: সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়
২০২৪ সালের ১ মার্চ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে পথ চলার কথা উল্লেখ করেছেন নাছির। তবে তার ভাষায়, সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট।

উত্তাল সেই সময়ে নেতাকর্মীদের রাজপথে সক্রিয় রাখা, তাদের সাহস জোগানো এবং সংগঠনের প্রতিটি স্তরকে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

তার দাবি, সেই সময়ে ছাত্রদলের অসংখ্য নেতাকর্মী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে ছিলেন। ঢাকার পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়, পাঁচ কলেজ ও চার মহানগরের তৎকালীন নেতৃত্বের ভূমিকাও বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন তিনি।

তবে ইতিহাসের পাতায় হয়তো তাদের সবার নাম লেখা থাকবে না। কিন্তু নাছিরের উপলব্ধি- কোনো গণআন্দোলনের ইতিহাস কেবল কয়েকজনের নাম দিয়ে লেখা যায় না; এর নেপথ্যে থাকে হাজারো পরিচয়হীন, নির্ভীক তরুণের ত্যাগ।

যাদের সঙ্গে রাজপথ ভাগ করে নিয়েছিলেন
জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় নাহিদ, আসিফ, হাসনাত, সারজিস, কাদের, মাহিন, রিফাত রশিদ ও হান্নান মাসুদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও স্মরণ করেছেন নাছির।

তার ভাষায়, আন্দোলনের সময়ে তারা ছাত্রদলকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছেন। পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাদের অবস্থান বা বক্তব্যে হয়তো ছাত্রদলের অবদান সবসময় সমানভাবে প্রতিফলিত হয়নি- তবু সেই সময়ের সহযোগিতার জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।

কারণ, তার কাছে সংকটের সময়ে পাশাপাশি দাঁড়ানোর মূল্য রাজনীতির তাৎক্ষণিক হিসাবের চেয়ে অনেক বড়।

বন্যার্ত মানুষের পাশে ছুটে যাওয়ার স্মৃতি
বিদায়ী বার্তার সবচেয়ে আবেগঘন অংশগুলোর একটি নোয়াখালী-ফেনীর বন্যার স্মৃতি।

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পরপরই নোয়াখালী-ফেনী অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিলে নিজের এলাকার সন্তান হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ পেয়েছিলেন নাছির।

তিনি স্মরণ করেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাকে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে তারেক রহমানও ফোন করে দ্রুত ফেনীতে যাওয়ার কথা জানান।

নেতৃত্বের নির্দেশ পাওয়ার পর রাতেই ফেনীর উদ্দেশে রওনা হন নাছির। দুই দিন পর অন্য নেতারাও সেখানে ছুটে যান।

সেই অভিজ্ঞতা থেকে নাছিরের উপলব্ধি- রাজনীতি শুধু মিছিল-মিটিংয়ের নাম নয়; মানুষের দুর্দিনে তাদের পাশে দাঁড়ানোই রাজনীতির সবচেয়ে বড় পরিচয়।

দেশনেত্রীর সেই নির্দেশকে তিনি শুধু একজন নেত্রীর আদেশ হিসেবে দেখেননি; দেখেছেন বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক মানবিক আহ্বান হিসেবে।

দুই হাজারের বেশি কমিটি, তবু রয়ে গেছে আক্ষেপ
দায়িত্ব পালনকালে প্রায় দুই হাজারের বেশি সাংগঠনিক কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন নাছির। এটিকে নিজের একক অর্জন হিসেবে দেখেননি তিনি। বরং বলেছেন, এটি ছাত্রদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল।

তবে সবকিছু সম্পূর্ণ করতে না পারার আক্ষেপও রয়েছে তার।

বিশেষ করে কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত অংশ সম্পন্ন করতে না পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি। যারা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত পদ পাননি, তাদের প্রতিও জানিয়েছেন সহমর্মিতা।

নাছিরের উপলব্ধি- একটি পদ কখনো কারও যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না। আজ যারা দায়িত্ব পাননি, আগামী দিনে তাদের অনেকেই আরও বড় নেতৃত্বে আসবেন- এমন আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

ছাত্রসংসদ নির্বাচনের ফল, যে আক্ষেপ থেকে গেল
নাছিরের বিদায়ী বার্তায় আত্মসমালোচনার জায়গাটিও বেশ স্পষ্ট।

ছাত্রসংসদ নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়াকে নিজের জন্য ভাবনার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। কোথায় ঘাটতি ছিল, কোথায় আরও ভালো করা যেত- সেসব প্রশ্ন নিজের কাছেই করেছেন।

তবে পরাজয়কে তিনি শেষ হিসেবে দেখছেন না। বরং রাজনীতির পরাজয় থেকেও শিক্ষা নেওয়ার কথা বলেছেন।

তার বিশ্বাস, এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ছাত্রদল ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী, গ্রহণযোগ্য ও সংগঠিত ছাত্রসংগঠনে পরিণত হবে।

‘ছাত্রদল থেকে নয়, পদ থেকে বিদায়’
বিদায়ী বার্তার সবচেয়ে শক্তিশালী আবেগ যেন জমা হয়েছে এই কথাগুলোতে-

‘আজ দায়িত্ব থেকে বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু ছাত্রদল থেকে নয়। পদ থেকে বিদায় নেওয়া যায়; আদর্শ থেকে নয়, ভালোবাসা থেকে নয়, সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে নয়।’

এই একটি বাক্যেই যেন নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে সংজ্ঞায়িত করেছেন নাছির।

নতুন নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখার কথা জানিয়ে বলেছেন, তাদের প্রয়োজন হলে, তাদের ডাকে আগের মতোই পাশে থাকবেন।

অর্থাৎ দায়িত্বের চেয়ার বদলালেও সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পর্কের কোনো ইতি টানছেন না তিনি।

ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেন সহযোদ্ধাদের কাছে
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পথে ভুল-ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক- এ কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন নাছির।

কোনো আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে, কোনো সিদ্ধান্তে অন্যায় হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে প্রাপ্য সম্মান দিতে ব্যর্থ হলে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

পরিবারের প্রতিও জানিয়েছেন গভীর কৃতজ্ঞতা। রাজনৈতিক জীবনের অনিশ্চয়তা, ব্যস্ততা, অনুপস্থিতি ও কঠিন সময়গুলো নীরবে সহ্য করার জন্য পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করেছেন আবেগ নিয়ে।

কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বন্ধু ও সাংবাদিকদের প্রতিও। প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনাকেও প্রয়োজনীয় হিসেবে দেখেছেন তিনি।

‘দেখা হবে অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে’
শেষদিকে এসে বিদায়ের ভাষাও যেন আরও নরম হয়ে এসেছে।

নাছির লিখেছেন, তিনি একটি দায়িত্ব থেকে বিদায় নিচ্ছেন, কিন্তু সম্পর্ক, সংগ্রাম কিংবা আদর্শ থেকে নয়। হয়তো অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে, অন্য কোনো দায়িত্বে, অন্য কোনো সময়ে আবার দেখা হবে।

এই বিদায় তাই চূড়ান্ত বিদায় নয়- বরং একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি, আরেকটি অধ্যায়ের অপেক্ষা।

শেষ পর্যন্ত তার স্বপ্নও ব্যক্তিগত নয়। তিনি এমন একটি সমৃদ্ধ ও সফল বাংলাদেশ দেখতে চান, যেখানে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে। তার প্রাণের সংগঠন ছাত্রদলও সেই বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে অবিচল থাকবে- এমন প্রত্যাশা তার।

বিদায়ী বার্তার শেষ শব্দগুলো তাই যেন একজন নেতার নয়, একজন দীর্ঘদিনের পথিকের কণ্ঠস্বর-

‘ছাত্রদলের প্রতিটি সহযোদ্ধার আগামী সুন্দর হোক। বাংলাদেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হোক।’

স্টেপের নতুন চমক, একসঙ্গে এলো ৫৬ নতুন পণ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ
স্টেপের নতুন চমক, একসঙ্গে এলো ৫৬ নতুন পণ্য

দেশের জনপ্রিয় জুতার ব্র্যান্ড স্টেপ ফুটওয়্যার ক্রেতাদের জন্য একসঙ্গে ৫৬টি নতুন পণ্য বাজারে এনেছে। আধুনিক প্রযুক্তি, নান্দনিক ডিজাইন ও আন্তর্জাতিক মানের উপকরণের সমন্বয়ে তৈরি এসব পণ্যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আরাম, স্থায়িত্ব ও সময়োপযোগী ফ্যাশনের ওপর।

সোমবার রাজধানীর ঢাকা রিজেন্সি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন পণ্যগুলোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া ও অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব যৌথভাবে নতুন কালেকশনের উদ্বোধন করেন।

স্টেপ ফুটওয়্যারের নতুন ৫৬টি পণ্য চারটি ক্যাটাগরিতে বাজারে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে এয়ারওয়াক, লাফিয়ে স্লাইড, স্পিডি স্লাইড ও কালার স্লাইড। পাশাপাশি ছেলেদের জন্য তৈরি স্টেপ স্লাইড এবার মেয়েদের জন্যও বাজারে আনা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে নুসরাত ফারিয়া বলেন, দেশের একটি জনপ্রিয় দেশীয় ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে তিনি আনন্দিত ও গর্বিত। পণ্যের মান, ডিজাইন ও ক্রেতাদের আস্থাকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন বলেও জানান। নতুন পণ্যগুলোতে আধুনিক ডিজাইনের সঙ্গে আরাম ও মানের যে সমন্বয় করা হয়েছে, সেটিও তার কাছে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে স্টেপ ফুটওয়্যারের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব বলেন, গত কয়েক বছরে পণ্যের মান ও ডিজাইনে ব্র্যান্ডটির ধারাবাহিক উন্নয়ন লক্ষ্য করা গেছে। এবারের নতুন কালেকশনেও ফ্যাশন, আরাম ও গুণগত মানের সুন্দর সমন্বয় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল নুসরাত ফারিয়ার সঙ্গে স্টেপ ফুটওয়্যারের চুক্তি। ব্র্যান্ডটির বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে তিনি স্টেপ ফুটওয়্যারের সঙ্গে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে স্টেপ ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম কবির সাংবাদিকদের সঙ্গে নতুন পণ্যগুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন। তিনি নতুন কালেকশনের প্রযুক্তি, ডিজাইন, আরাম ও ব্যবহারিক সুবিধার পাশাপাশি সাম্প্রতিক ফ্যাশন ট্রেন্ড নিয়েও কথা বলেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

শামীম কবির বলেন, ক্রেতাদের প্রয়োজন, পছন্দ এবং পরিবর্তনশীল ফ্যাশন ট্রেন্ডকে গুরুত্ব দিয়েই বরাবর স্টেপ ফুটওয়্যার তাদের পণ্য তৈরি করে আসছে। শুধু জুতা তৈরি নয়, আরাম, আত্মবিশ্বাস ও স্টাইলের মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করাই তাদের লক্ষ্য।

ক্রেতাদের আস্থা ও সহযোগিতাই প্রতিষ্ঠানটির এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম শক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই আস্থা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে স্টেপ ফুটওয়্যারকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
অনুষ্ঠানে স্টেপ ফুটওয়্যারের চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার, পরিচালক তানজিনা আনোয়ার কবির, প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ব্যবসায়িক অংশীদারসহ বিভিন্ন অঙ্গনের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

ইআ

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম ও সেক্রেটারি ইনানের মৃ ত্যু দ ণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম ও সেক্রেটারি ইনানের মৃ ত্যু দ ণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

একই রায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলেরও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় এ রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, এ মামলার তদন্তকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদন জমা দেন কর্মকর্তারা। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে দাখিল করা হয়।

একই দিন অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। ধাপে ধাপে গ্রেফতারি পরোয়ানা, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, স্টেট ডিফেন্স নিয়োগসহ শুনানি শেষে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়।

তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৯ জন। এর মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিও রয়েছে। সবমিলিয়ে ২ আগস্ট সাক্ষ্যপর্ব সম্পন্ন হয়। এর দুই দিন পর তথা ৪ আগস্ট থেকেই যুক্তিতর্ক শুরু করে প্রসিকিউশন। ৯ কার্যদিবসে প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্সের এ ধাপ শেষ হয় ১৭ আগস্ট। আর ওই দিনই রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। রায় ঘোষণার তারিখ দেওয়া হয় ১৫ সেপ্টেম্বর। এ মামলায় মোট ১২৩ সিরিজ ডকুমেন্টস প্রদর্শন করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।

সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন সারাদেশে তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক ব্যপক মাত্রায়, পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর আক্রমণ করে তাদের হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটন করেন। যা আসামির নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তায়, সম্পৃক্ততায় ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে।

শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান সারা দেশে তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রনাধীন ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক ব্যপক মাত্রায়, পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর আক্রমণ করে তাদের হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটন করেন। যা আসামির নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তায়, সম্পৃক্ততায় ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছ

উপর্যুক্ত কাজের মাধ্যমে আসমিরা হত্যা, হত্যার চেষ্টা, নির্যাতন এবং অন্যান্য অমানবিক আচরণ, অপরাধ সংঘটনের প্ররোচনা, উসকানি, ষড়যন্ত্র, সম্পৃক্ততা এবং অপরাধ সংঘটন প্রতিরোধে ব্যর্থতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠন করেছে। যা একই আইনের শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেও জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

মিরপুরে ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিস্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ণ
মিরপুরে ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিস্কার

দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর মিরপুর থানার ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদকে বহিস্কার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক (দপ্তরের দায়িত্বে) এ বি এম এ রাজ্জাক সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে ফয়সাল আহমেদকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, গত ১০ সেপ্টেম্বর ৪৮ ঘণ্টার সময় দিয়ে আপনাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। আপনি কারণ দর্শানো নোটিশের যে জবাব দিয়েছেন তা সন্তোষজনক নয়। সুতরাং দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে আপনাকে বহিস্কার করা হয়েছে।

সেখানে আরো বলা হয়, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহবায়ক আমিনুল হক এবং সদস্য সচিব মোস্তফা জামান এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

জানা গেছে, মিরপুর থানার ০৭ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য সচিব তানজীব হোসেন মিশারকে হুমকি ও মারধরের অভিযোগে ফয়সাল আহমেদকে বহিস্কার করা হয়েছে।