খুঁজুন
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩ আশ্বিন, ১৪৩৩

জকসু: শীর্ষ তিনসহ ১৫ পদে শিবির জয়ী, ছাত্রদল-ছাত্র অধিকার মিলে ৫টিতে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ
জকসু: শীর্ষ তিনসহ ১৫ পদে শিবির জয়ী, ছাত্রদল-ছাত্র অধিকার মিলে ৫টিতে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ২১টি পদের মধ্যে শীর্ষ তিন পদ ভিপি, জিএস ও এজিএস-সহ ১৫ পদে বিজয়ী হয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা।

বাকি পদগুলোর ৫টিতে জয় পেয়েছেন ছাত্রদল এবং ছাত্র অধিকার সমর্থিত প্যানেলের সদস্যরা, একটি পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত একটায় জবির শহীদ সাজিদ ভবনের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে এ ফলাফল ঘোষণা করেন জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান।

শীর্ষ তিনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে রিয়াজুল ইসলাম (শিবির সমর্থিত) ৫ হাজার ৫৫৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী একেএম রাকিব (ছাত্রদল-ছাত্র অধিকার সমর্থিত) পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৮৭০।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলে সহ-সভাপতি (ভিপি) জয়ী রিয়াজুল ইসলাম ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এ কে এম রাকিব জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের প্রার্থী।

নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদকে (জিএস) পদে ৫৪৭৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের আব্দুল আলীম আরিফ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২২২৩ ভোট।

সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে বিজয়ী শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের মাসুদ রানা পেয়েছেন ৫০২০ ভোট। একই পদে ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের আতিকুল ইসলাম তানজীল পেয়েছেন ৪০২২ ভোট।

এ ছাড়া ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ী হয়েছেন- মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে মো. নূর নবী (৫৪০০ ভোট), শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে ইব্রাহীম খলিল (৫৫২৪ ভোট), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে মোছাঃ সুখীমন খাতুন (৪৪৮৬ ভোট), স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে নুর মোহাম্মদ (৪৪৭০ ভোট), আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে হাবিব মোহাম্মদ ফারুক আজম (৪৬৫৪ ভোট) আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে নওশিন নাওয়ার জয়া (৪৫০১ ভোট), ক্রীড়া সম্পাদক পদে মো. জর্জিস আনোয়ার নাঈম (৩৯৬৩ ভোট), সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান (৩৪৮৬ ভোট), নির্বাহী সদস্য পদে ফাতেমা আক্তার (৩৮৫১ ভোট), মো. আকিব হাসান (৩৫৮৮ ভোট), শান্তা আক্তার (৩৫৫৪ ভোট), মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফারুক (২৯১৭ ভোট)।

ছাত্রদল এবং ছাত্র অধিকার সমর্থিক প্যানেল থেকে জয়ী হয়েছেন সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে মো. তাকরিম আহমেদ (৫৩৮৫ ভোট), পরিবহন সম্পাদক পদে মো. মাহিদ হোসেন (৪০২৩ ভোট), পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে মো. রিয়াসাল রাকিব (৪৬৫৮ ভোট), নির্বাহী সদস্য পদে ছাত্রদল সমর্থিত মো. সাদমান আমিন (সাদমান সাম্য) ৩৩০৭ ভোট এবং ইমরান হাসান ইমন (২৬৩৬ ভোট)।

নির্বাহী সদস্যপদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছে মো. জাহিদ হাসান।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ৩৯টি কেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হয়। ৩৯টি কেন্দ্রের ৩৮টি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) বাকি একটিতে হল সংসদ।

তবে নির্ধারিত সময়ের পরও বেশ কয়েকটি বিভাগের কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এসব ভোটারও ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনে ভোট পড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ।

নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ২১টি পদে ১৫৭ জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হলের সংসদের ১৩টি পদে ৩৩ জনসহ মোট ৩৪টি পদের বিপরীতে ১৯০ জনকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৬৬৫ জন।

এতে মোট চারটি প্যানেলে প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন। সেগুলো হলো- ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, বাম জোট–সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি–সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’।

এ ছাড়া স্বতন্ত্রভাবেও নির্বাচনে বেশ কয়েকজন প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন। নির্বাচনে ভিপি (সহসভাপতি) পদে লড়ছেন ১২ জন, জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে নয়জন আর এজিএস (সহসাধারণ সম্পাদক) পদে লড়েন ৮ জন।

স্টেপের নতুন চমক, একসঙ্গে এলো ৫৬ নতুন পণ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ
স্টেপের নতুন চমক, একসঙ্গে এলো ৫৬ নতুন পণ্য

দেশের জনপ্রিয় জুতার ব্র্যান্ড স্টেপ ফুটওয়্যার ক্রেতাদের জন্য একসঙ্গে ৫৬টি নতুন পণ্য বাজারে এনেছে। আধুনিক প্রযুক্তি, নান্দনিক ডিজাইন ও আন্তর্জাতিক মানের উপকরণের সমন্বয়ে তৈরি এসব পণ্যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আরাম, স্থায়িত্ব ও সময়োপযোগী ফ্যাশনের ওপর।

সোমবার রাজধানীর ঢাকা রিজেন্সি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন পণ্যগুলোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া ও অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব যৌথভাবে নতুন কালেকশনের উদ্বোধন করেন।

স্টেপ ফুটওয়্যারের নতুন ৫৬টি পণ্য চারটি ক্যাটাগরিতে বাজারে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে এয়ারওয়াক, লাফিয়ে স্লাইড, স্পিডি স্লাইড ও কালার স্লাইড। পাশাপাশি ছেলেদের জন্য তৈরি স্টেপ স্লাইড এবার মেয়েদের জন্যও বাজারে আনা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে নুসরাত ফারিয়া বলেন, দেশের একটি জনপ্রিয় দেশীয় ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে তিনি আনন্দিত ও গর্বিত। পণ্যের মান, ডিজাইন ও ক্রেতাদের আস্থাকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন বলেও জানান। নতুন পণ্যগুলোতে আধুনিক ডিজাইনের সঙ্গে আরাম ও মানের যে সমন্বয় করা হয়েছে, সেটিও তার কাছে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে স্টেপ ফুটওয়্যারের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব বলেন, গত কয়েক বছরে পণ্যের মান ও ডিজাইনে ব্র্যান্ডটির ধারাবাহিক উন্নয়ন লক্ষ্য করা গেছে। এবারের নতুন কালেকশনেও ফ্যাশন, আরাম ও গুণগত মানের সুন্দর সমন্বয় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল নুসরাত ফারিয়ার সঙ্গে স্টেপ ফুটওয়্যারের চুক্তি। ব্র্যান্ডটির বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে তিনি স্টেপ ফুটওয়্যারের সঙ্গে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে স্টেপ ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম কবির সাংবাদিকদের সঙ্গে নতুন পণ্যগুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন। তিনি নতুন কালেকশনের প্রযুক্তি, ডিজাইন, আরাম ও ব্যবহারিক সুবিধার পাশাপাশি সাম্প্রতিক ফ্যাশন ট্রেন্ড নিয়েও কথা বলেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

শামীম কবির বলেন, ক্রেতাদের প্রয়োজন, পছন্দ এবং পরিবর্তনশীল ফ্যাশন ট্রেন্ডকে গুরুত্ব দিয়েই বরাবর স্টেপ ফুটওয়্যার তাদের পণ্য তৈরি করে আসছে। শুধু জুতা তৈরি নয়, আরাম, আত্মবিশ্বাস ও স্টাইলের মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করাই তাদের লক্ষ্য।

ক্রেতাদের আস্থা ও সহযোগিতাই প্রতিষ্ঠানটির এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম শক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই আস্থা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে স্টেপ ফুটওয়্যারকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
অনুষ্ঠানে স্টেপ ফুটওয়্যারের চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার, পরিচালক তানজিনা আনোয়ার কবির, প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ব্যবসায়িক অংশীদারসহ বিভিন্ন অঙ্গনের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

ইআ

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম ও সেক্রেটারি ইনানের মৃ ত্যু দ ণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম ও সেক্রেটারি ইনানের মৃ ত্যু দ ণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

একই রায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলেরও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় এ রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, এ মামলার তদন্তকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদন জমা দেন কর্মকর্তারা। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে দাখিল করা হয়।

একই দিন অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। ধাপে ধাপে গ্রেফতারি পরোয়ানা, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, স্টেট ডিফেন্স নিয়োগসহ শুনানি শেষে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়।

তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৯ জন। এর মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিও রয়েছে। সবমিলিয়ে ২ আগস্ট সাক্ষ্যপর্ব সম্পন্ন হয়। এর দুই দিন পর তথা ৪ আগস্ট থেকেই যুক্তিতর্ক শুরু করে প্রসিকিউশন। ৯ কার্যদিবসে প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্সের এ ধাপ শেষ হয় ১৭ আগস্ট। আর ওই দিনই রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। রায় ঘোষণার তারিখ দেওয়া হয় ১৫ সেপ্টেম্বর। এ মামলায় মোট ১২৩ সিরিজ ডকুমেন্টস প্রদর্শন করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।

সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন সারাদেশে তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক ব্যপক মাত্রায়, পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর আক্রমণ করে তাদের হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটন করেন। যা আসামির নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তায়, সম্পৃক্ততায় ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে।

শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান সারা দেশে তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রনাধীন ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক ব্যপক মাত্রায়, পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর আক্রমণ করে তাদের হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটন করেন। যা আসামির নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তায়, সম্পৃক্ততায় ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছ

উপর্যুক্ত কাজের মাধ্যমে আসমিরা হত্যা, হত্যার চেষ্টা, নির্যাতন এবং অন্যান্য অমানবিক আচরণ, অপরাধ সংঘটনের প্ররোচনা, উসকানি, ষড়যন্ত্র, সম্পৃক্ততা এবং অপরাধ সংঘটন প্রতিরোধে ব্যর্থতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠন করেছে। যা একই আইনের শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেও জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

মিরপুরে ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিস্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ণ
মিরপুরে ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিস্কার

দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর মিরপুর থানার ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদকে বহিস্কার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক (দপ্তরের দায়িত্বে) এ বি এম এ রাজ্জাক সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে ফয়সাল আহমেদকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, গত ১০ সেপ্টেম্বর ৪৮ ঘণ্টার সময় দিয়ে আপনাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। আপনি কারণ দর্শানো নোটিশের যে জবাব দিয়েছেন তা সন্তোষজনক নয়। সুতরাং দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে আপনাকে বহিস্কার করা হয়েছে।

সেখানে আরো বলা হয়, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহবায়ক আমিনুল হক এবং সদস্য সচিব মোস্তফা জামান এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

জানা গেছে, মিরপুর থানার ০৭ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য সচিব তানজীব হোসেন মিশারকে হুমকি ও মারধরের অভিযোগে ফয়সাল আহমেদকে বহিস্কার করা হয়েছে।