মাদারীপুরে অনশনে ফিরে পেলেন প্রিয়তমাকে!
টানা চারদিনের অনশন শেষে অবশেষে প্রিয়তমাকে বুঝে পেলেন বিশ্বজিৎ নামের এক যুবক! এলাকাবাসী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের হস্তক্ষেপে প্রিয়তমা স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন তিনি।
জানা গেছে, মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের আলিসাকান্দি গ্রামের বিপ্রদাশ পাত্রের ছেলে বিশ্বজিৎ পাত্রের (২৮) সঙ্গে পাশের বাড়ির মনোতোষ বাড়ৈর মেয়ে অনুশীলা বাড়ৈ দীর্ঘদিনের প্রেম ছিল। এরপর তারা বিয়ে করেন। প্রেমিকার লেখাপড়ার খরচও যোগান দেন প্রেমিক বিশ্বজিৎ।
বিশ্বজিৎ পাত্র দাবি করেন, ১০ বছর আগে অনুশীলার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়। পরে প্রেম গড়ায় বিয়েতে। চার বছর আগে তারা কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সেই সুবাদে তার স্ত্রীর লেখাপড়ার জন্য ১৫-২০ লাখ টাকা খরচ করেন।
কিন্তু সম্প্রতি একটি চাকরিতে যোগদানের পর অনুশীলা সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। জানতে পারেন তাকে ডিভোর্সও দিয়েছে অনুশীলা! তাই বাধ্য হয়ে ৩১ মার্চ বিয়ের স্বীকৃতির দাবিতে অনশন শুরু করেন তিনি।
ভালোবাসার প্রিয় মানুষটিকে ফিরে পেতে প্রেমিকার বাড়িতে গত চারদিন ধরে অবস্থান করছেন। এমন ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ্যমাধ্যমেও আলোড়ন তোলে। দুই পরিবারের লোকজন মিলে স্থানীয়দের নিয়ে পারিবারিকভাবে মীমাংসায় বসেন। এরপরেই নিজের ভুল বুঝতে পারেন ওই তরুণী। সব অভিমান ভুলে বিশ্বজিতের কাছে ছুটে যান, ক্ষমা চেয়ে স্বামীর ঘরে ফেরেন।
বিশ্বজিৎ পাত্র বলেন, সে যখন আমাকে অস্বীকার করে, তখন আর আমার হিতাহিত জ্ঞান ছিল না। অবশেষে আমার স্ত্রীকে নিয়ে ঘরে ফিরতে পেরেছি, এটাই আমার বড় পাওয়া। ওকে আমি অনেক ভালোবাসি। আমাদের এই ভালোবাসার বন্ধন যাতে সামনে অটুট থাকে, সেই আশীর্বাদ করবেন সবাই।
অনুশীলা বলেন, আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। আমি বারবার ক্ষমা চাচ্ছি। আমার স্বামীকে নিয়ে যেন ভালো থাকতে পারি। আশির্বাদ চাই সবার।


আপনার মতামত লিখুন
Array