খুঁজুন
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪ আশ্বিন, ১৪৩৩

তারেক রহমানের স্নেহের ডাক, আবেগাপ্লুত ছাত্রদল নেত্রী সুমাইয়া

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:২১ পূর্বাহ্ণ
তারেক রহমানের স্নেহের ডাক, আবেগাপ্লুত ছাত্রদল নেত্রী সুমাইয়া

ফরিদপুরের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি এখন সৈয়দা সুমাইয়া পারভীন। ডাকনাম মীনা। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেত্রী নতুন করে আলোচনায় আসেন গত ৪ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির বিভাগীয় জনসভায়।

জনসভা চলাকালে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মঞ্চের সামনে থাকা সারি থেকে তাকে কাছে ডেকে নেন, খোঁজখবর নেন এবং কুশল বিনিময় করেন। মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি হলে সেই ছবি দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এক ছবিতেই যেন ফুটে ওঠে একজন তৃণমূল নেত্রীর রাজনৈতিক সংগ্রাম, স্বীকৃতি ও স্বপ্নের গল্প।

পারিবারিক রাজনীতির আবহে বেড়ে ওঠা:

পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সৈয়দা সুমাইয়া পারভীন একমাত্র বোন। রাজনীতি তার পরিবারের জন্য নতুন কিছু নয়। তার মেঝ ভাই সৈয়দ আলওয়াল হোসেন তনু ফরিদপুর পৌরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন। আরেক ভাই সৈয়দ আদনান হোসেন অনু বর্তমানে ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতি, আন্দোলন-সংগ্রাম ও সংগঠনের গল্প শুনেই বড় হয়েছেন মীনা।

তার বাবা সৈয়দ মোজাম্মেল হোসেন একজন ব্যবসায়ী এবং মাতা নুরুন নাহার গৃহিণী। পরিবারিক ঠিকানা ফরিদপুর পৌরসভার বায়তুল আমান। পরিবার থেকেই তিনি শিখেছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং মানুষের পাশে থাকার মানসিকতা।

শিক্ষাজীবনে কৃতিত্ব ও বহুমুখী প্রস্তুতি:

শিক্ষাজীবনেও পিছিয়ে ছিলেন না তিনি। ২০০৭ সালে ফরিদপুরের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর ২০১৯ সালে সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। ২০০৯–২০১০ সেশনে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ইডেন মহিলা কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি সৃজনশীলতার প্রতি আগ্রহ থেকে তিনি ফ্যাশন ডিজাইনে ডিপ্লোমাও সম্পন্ন করেন। তার মতে, রাজনীতির পাশাপাশি নিজের দক্ষতা ও চিন্তাকে সমৃদ্ধ করাও জরুরি।

ছাত্র রাজনীতিতে পদচারণা:

ছাত্র রাজনীতিতে তার সক্রিয়তা শুরু হয় সাংগঠনিক দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে। ২০১৮ সালে তিনি ফরিদপুর মহানগর ছাত্রদলের ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে সংগঠনের ভেতরে তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে। ২০২০ সাল থেকে তিনি ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ২০২৪ সালের ৮ জানুয়ারি স্বল্প সময়ের জন্য ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

সহপাঠী ও সহকর্মীদের মতে, সংগঠনের সংকটময় মুহূর্তে মাঠে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার মানসিকতাই তাকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে।

হামলা, প্রতিবাদ এবং তারেক রহমানের ফোন:

২০২২ সালে দলীয় একটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে ছাত্রলীগের ন্যক্কারজনক হামলার শিকার হন সৈয়দা সুমাইয়া পারভীন। সেই ঘটনায় আহত হলেও দমে যাননি তিনি। বরং সেই সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে তাকে ফোন কল করে খোঁজখবর নেন। পরে আরও একবার তারেক রহমানের ফোন পেয়েছেন বলে জানান তিনি। একজন কেন্দ্রীয় নেতার এমন ব্যক্তিগত খোঁজখবর নেওয়াকে তিনি তার রাজনৈতিক জীবনের বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেন।

রাজেন্দ্র কলেজের জনসভা ও ভাইরাল মুহূর্ত:

গত ৪ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির বিভাগীয় জনসভা ছিল দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজন। সেই জনসভায় হাজারো নেতাকর্মীর ভিড়ের মধ্যেই তারেক রহমান মঞ্চের কাছে ডেকে নেন সুমাইয়াকে। ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা পড়ে সেই মুহূর্ত-একজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে এক তৃণমূল নেত্রীর আবেগঘন সাক্ষাৎ। ছবিটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

এ বিষয়ে সুমাইয়া পারভীন বলেন, আমাদের সর্বোচ্চ আবেগের জায়গা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার সঙ্গে দেখা করে সালাম দিতে পারা আমার জন্য সত্যিই আবেগের। তিনি যখন ইশারায় মঞ্চে ডেকেছেন তখন খুশিতে কান্না চলে আসে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশে আমার রাজনৈতিক জীবনে এটি সর্বোচ্চ পাওয়া।

রাজনীতিতে আসার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলাই তার মূল লক্ষ্য। মানুষের জন্য ভালো কিছু করতে পারার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার জায়গাটাই আমাকে রাজনীতিতে টেনেছে। তিনি মনে করেন, ছাত্র রাজনীতি হলো নেতৃত্ব তৈরির প্রথম ধাপ, যেখানে আদর্শ, ত্যাগ ও শৃঙ্খলার শিক্ষা পাওয়া যায়।

রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কাজেও যুক্ত তিনি। ঢাকার নয়াপল্টনের একটি লায়ন্স ক্লাবের সদস্য হিসেবে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছেন। তার মতে, রাজনীতি আর সমাজসেবা একে অপরের পরিপূরক।

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সুমাইয়া পারভীন বলেন, দীর্ঘদিন ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত থাকার কারণে তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদে কাজ করার স্বপ্ন দেখেন। এরপর দল যেভাবে তাকে মূল্যায়ন করবে, সেভাবেই এগিয়ে যেতে চান। তিনি বিশ্বাস করেন, রাজনীতি মানে শুধু পদ নয়, দায়িত্ব ও মানুষের আস্থা অর্জন।

আমরা ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি: জামায়াত আমির

ইমরুল হাসান
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ
আমরা ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি: জামায়াত আমির

আমরা ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলের রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আজকে আমাদের আট দফা দাবি। মনে রাখবেন, এটা ৯ দফা হতে পারে, ১০ দফাও হতে পারে। আবার জাতির প্রয়োজনে যেকোনো সময় এটা এক দফায় পরিণত হতে পারে। এক দফায় যখন পরিণত হবে তখন কিন্তু পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আগে সম্প্রতি অতীত থেকে শিক্ষা নিন। শিক্ষা নিয়ে জনগণের দাবি মেনে নিন। যদি দাবি মানতে ব্যর্থ হন, তাহলে পরিষ্কার বলে দিচ্ছি কোনো চক্রান্ত কোনো কাজ হবে না।’

১১ দলের প্রথম লংমার্চ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এতে অনেকের মাথা গরম হয়ে গিয়েছে। মাথা গরমের কিছু লক্ষণ গত দুই দিন ধরে রাজধানীতে আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমরা অনুরোধ করব, হতাশ হয়ে মাথা গরম করবেন না। বরং জনতার দাবি মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা কোনো কিছুই পরোয়া করব না। কারণ, আমরা কোনো দলের দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। আমরা ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি।’

মিরপুরে যাত্রা শুরু করেছে কফি শপ ‘বিন্স অ্যান্ড ব্রু কফি’

ইমরুল হাসান
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ণ
মিরপুরে যাত্রা শুরু করেছে কফি শপ ‘বিন্স অ্যান্ড ব্রু কফি’

রাজধানীর মিরপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে নতুন কফি শপ ‘বিন্স অ্যান্ড ব্রু কফি’।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৭টা ৩০ মিনিটে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠানটির গ্র্যান্ড ওপেনিং। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পরিচিত ড্যান্সার, ফ্যাশন ডিজাইনার ও কোরিওগ্রাফার রুমি কারিম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রুমি কারিম ‘বিন্স অ্যান্ড ব্রু কফি’-এর সফলতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণীয় মুহূর্ত ছিল তার বিশেষ মোনাজাত। নতুন এই কফি শপের সফলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনায় দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে মোনাজাত করেন রুমি কারিম।

মোনাজাত শেষে রুমি কারিম নতুন কফি শপের পরিবেশ ও আয়োজনের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা যেন এখানে এসে কফি পান করেন, সময় কাটান এবং প্রতিষ্ঠানটির নতুন যাত্রার সঙ্গে যুক্ত হন এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

‘বিন্স অ্যান্ড ব্রু কফি’-এর উদ্যোক্তা ও প্রধান রাঁধুনি আজম খান। রান্নার জগতে অভিজ্ঞ এই রাঁধুনি বাংলাদেশের বিভিন্ন রান্নাবিষয়ক রিয়েলিটি শোতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিনের রান্নার অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা ও খাবারের প্রতি ভালোবাসাকে কাজে লাগিয়ে এবার নিজের উদ্যোগে কফি ও খাবারের নতুন এই ঠিকানা তৈরি করেছেন তিনি।

উদ্বোধনী আয়োজনে অতিথিদের জন্য ছিল প্রায় ১২০ পদের খাবারের আয়োজন। কফির পাশাপাশি বৈচিত্র্যময় খাবারের স্বাদ ও মানের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন উদ্যোক্তা আজম খান। তার পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে ‘বিন্স অ্যান্ড ব্রু কফি’ মিরপুরে খাবার ও কফিপ্রেমীদের জন্য নতুন একটি জায়গা হিসেবে পরিচিতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

‘বিন্স অ্যান্ড ব্রু কফি’ হাউজটি অবস্থিত রাজধানীর মিরপুর-১-এর শাহ আলী এলাকায়, ১/১ ও ১/২, রোড-২, ব্লক-জি, শাহ আলী, মিরপুর-১, ঢাকা (টেক-আউট রেস্টুরেন্টের ভবন) ঠিকানায়।

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ, জানুন পেছনের ইতিহাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৯ অপরাহ্ণ
বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ, জানুন পেছনের ইতিহাস

আজ ১৮ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব বাঁশ দিবস। পরিবেশ, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রায় বাঁশের বহুমুখী ব্যবহার ও গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতি বছর দিবসটি পালিত হয়। বিশ্ব বাঁশ সংস্থার উদ্যোগে ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালন করা হয়।

চলতি বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘Bamboo Beyond Borders’, যার অর্থ ‘সীমানা ছাড়িয়ে বাঁশ’।

গ্রামীণ জীবনের ঐতিহ্যবাহী এই উদ্ভিদ এখন পরিবেশবান্ধব শিল্প, নির্মাণ, খাদ্য ও জীবিকার অন্যতম সম্ভাবনাময় উপাদান হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশ্ব বাঁশ সংস্থার উদ্যোগে প্রতি বছর ১৮ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালিত হয়। ২০০৫ সালে World Bamboo Organization (WBO) প্রতিষ্ঠার পর বাঁশের সম্ভাবনা ও ব্যবহার নিয়ে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরির কার্যক্রম আরও জোরদার হয়। পরে ২০০৯ সালে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত অষ্টম বিশ্ব বাঁশ কংগ্রেসে ১৮ সেপ্টেম্বরকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব বাঁশ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

বাঁশ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আগ্রহ অবশ্য আরও পুরোনো। ১৯৯১ সালে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাইয়ে আন্তর্জাতিক বাঁশ কর্মশালায় একটি বৈশ্বিক বাঁশ সংগঠনের ধারণা সামনে আসে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ও সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সেই উদ্যোগ বিস্তৃত হয়।

দ্রুত বর্ধনশীল ও নবায়নযোগ্য উদ্ভিদ হিসেবে বাঁশকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ঘরবাড়ি নির্মাণ থেকে শুরু করে আসবাব, হস্তশিল্প, কাগজ ও বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরিতে বাঁশের ব্যবহার রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে বাঁশ এখন পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী ও বিভিন্ন শিল্পপণ্যের কাঁচামাল হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশ সংরক্ষণেও বাঁশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দ্রুত বেড়ে ওঠার কারণে বাঁশের বাগান ভূমিক্ষয় কমাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে বাঁশভিত্তিক শিল্প গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গেও বাঁশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ঘরের বেড়া, চাল, খুঁটি, ঝুড়ি, কুলা, ডালা, মাছ ধরার সরঞ্জামসহ নানা ধরনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরিতে বাঁশ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাঁশের তৈরি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প এখনো মানুষের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম মাধ্যম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক নকশা, প্রযুক্তি ও বাজারব্যবস্থার সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্পের সমন্বয় করা গেলে এ খাতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব বিকল্প পণ্য হিসেবে বাঁশের ব্যবহার বাড়ানো গেলে প্লাস্টিক ও অন্যান্য দূষণকারী উপকরণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হতে পারে।