খুঁজুন
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩ আশ্বিন, ১৪৩৩

নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে এবার আর্থিক সহায়তা চাইলেন হান্নান মাসউদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে এবার আর্থিক সহায়তা চাইলেন হান্নান মাসউদ

নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে এবার সমর্থকদের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ। তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে প্রার্থী।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে নিজের ফেসবুকে নিজের আইডিতে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করে তিনি এই আহ্বান জানান।

পোস্টে হান্নান মাসউদ লেখেন, ‘আমি এমন একটি রাজনীতিতে বিশ্বাস করি যেখানে ক্ষমতার চেয়ে মানুষ বড়, স্বার্থের চেয়ে সততা বড় এবং প্রভাবের চেয়ে ইনসাফ বড়। উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তা, ভবন বা অবকাঠামো নয়—উন্নয়ন মানে এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা। যেখানে ন্যায়বিচার থাকবে, বৈষম্য থাকবে না এবং জনপ্রতিনিধি সর্বদা জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকবে।’

তিনি আরো লেখেন, ‘আমি শুরু থেকেই একটি বিষয় পরিষ্কার রাখতে চেয়েছি—আমার রাজনীতি কোনো ব্যক্তি, কোনো ব্যবসায়ী কিংবা কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর অর্থে পরিচালিত হবে না। কারণ বড় অঙ্কের অর্থ প্রায়ই বড় শর্ত নিয়ে আসে, যা ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলে। আlমি চাই না হাতিয়ার মানুষের অধিকার কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থে আপসের শিকার হোক, কিংবা একজন জনপ্রতিনিধির ওপর কোনো অদৃশ্য ঋণের চাপ থাকুক। যার অর্থে রাজনীতি চলে, শেষ পর্যন্ত রাজনীতি তার কথাই শোনে— আমি চাই আমার রাজনীতি শুনুক কেবল হাতিয়ার সাধারণ মানুষের কথা।’

তিনি লেখেন, ‘এই কারণেই আমি আপনাদের কাছ থেকেই সমর্থন ও সহযোগিতা চাইছি। আপনাদের ছোট ছোট অবদান শুধু একটি নির্বাচনী প্রচারণার খরচ নয়, এটি একটি নৈতিক অবস্থান, একটি বার্তা— যে হাতিয়ার মানুষ নিজের প্রতিনিধি নিজেই গড়ে তুলতে চায়। এই অংশগ্রহণ আমাকে ভবিষ্যতে আপনাদের কাছে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানোর নৈতিক অধিকার দেবে, আর সেটাকেই আমি একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় শক্তি মনে করি।’

কাজের মাধ্যমে প্রমাণ দিতে চান উল্লেখ করে হান্নান মাসউদ লেখেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আপনারা যে আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে আমার পাশে দাঁড়াবেন, তার জবাব আমি দেব কাজ দিয়ে, কথার ফুলঝুরি দিয়ে নয়। হাতিয়ায় ইনসাফভিত্তিক, স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন উন্নয়নের যে স্বপ্ন আমি দেখছি, তা বাস্তবায়ন সম্ভব কেবল আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণেই। আসুন আমরা একসাথে প্রমাণ করি— সৎ রাজনীতি এখনো সম্ভব, আর তা সম্ভব জনগণের শক্তিতেই।’

এর আগে ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা ও বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) সংসদীয় আসনের আলোচিত প্রার্থী এবং এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ একইভাবে সমর্থকদের কাছে নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়েছিলেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে, ডা. তাসনিম জারা ও ব্যারিস্টার ফুয়াদের দেখানো পথেই হাঁটলেন আব্দুল হান্নান মাসউদ।

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ, জানুন পেছনের ইতিহাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৯ অপরাহ্ণ
বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ, জানুন পেছনের ইতিহাস

আজ ১৮ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব বাঁশ দিবস। পরিবেশ, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রায় বাঁশের বহুমুখী ব্যবহার ও গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতি বছর দিবসটি পালিত হয়। বিশ্ব বাঁশ সংস্থার উদ্যোগে ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালন করা হয়।

চলতি বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘Bamboo Beyond Borders’, যার অর্থ ‘সীমানা ছাড়িয়ে বাঁশ’।

গ্রামীণ জীবনের ঐতিহ্যবাহী এই উদ্ভিদ এখন পরিবেশবান্ধব শিল্প, নির্মাণ, খাদ্য ও জীবিকার অন্যতম সম্ভাবনাময় উপাদান হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশ্ব বাঁশ সংস্থার উদ্যোগে প্রতি বছর ১৮ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালিত হয়। ২০০৫ সালে World Bamboo Organization (WBO) প্রতিষ্ঠার পর বাঁশের সম্ভাবনা ও ব্যবহার নিয়ে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরির কার্যক্রম আরও জোরদার হয়। পরে ২০০৯ সালে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত অষ্টম বিশ্ব বাঁশ কংগ্রেসে ১৮ সেপ্টেম্বরকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব বাঁশ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

বাঁশ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আগ্রহ অবশ্য আরও পুরোনো। ১৯৯১ সালে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাইয়ে আন্তর্জাতিক বাঁশ কর্মশালায় একটি বৈশ্বিক বাঁশ সংগঠনের ধারণা সামনে আসে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ও সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সেই উদ্যোগ বিস্তৃত হয়।

দ্রুত বর্ধনশীল ও নবায়নযোগ্য উদ্ভিদ হিসেবে বাঁশকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ঘরবাড়ি নির্মাণ থেকে শুরু করে আসবাব, হস্তশিল্প, কাগজ ও বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরিতে বাঁশের ব্যবহার রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে বাঁশ এখন পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী ও বিভিন্ন শিল্পপণ্যের কাঁচামাল হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশ সংরক্ষণেও বাঁশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দ্রুত বেড়ে ওঠার কারণে বাঁশের বাগান ভূমিক্ষয় কমাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে বাঁশভিত্তিক শিল্প গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গেও বাঁশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ঘরের বেড়া, চাল, খুঁটি, ঝুড়ি, কুলা, ডালা, মাছ ধরার সরঞ্জামসহ নানা ধরনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরিতে বাঁশ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাঁশের তৈরি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প এখনো মানুষের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম মাধ্যম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক নকশা, প্রযুক্তি ও বাজারব্যবস্থার সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্পের সমন্বয় করা গেলে এ খাতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব বিকল্প পণ্য হিসেবে বাঁশের ব্যবহার বাড়ানো গেলে প্লাস্টিক ও অন্যান্য দূষণকারী উপকরণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হতে পারে।

স্টেপের নতুন চমক, একসঙ্গে এলো ৫৬ নতুন পণ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ
স্টেপের নতুন চমক, একসঙ্গে এলো ৫৬ নতুন পণ্য

দেশের জনপ্রিয় জুতার ব্র্যান্ড স্টেপ ফুটওয়্যার ক্রেতাদের জন্য একসঙ্গে ৫৬টি নতুন পণ্য বাজারে এনেছে। আধুনিক প্রযুক্তি, নান্দনিক ডিজাইন ও আন্তর্জাতিক মানের উপকরণের সমন্বয়ে তৈরি এসব পণ্যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আরাম, স্থায়িত্ব ও সময়োপযোগী ফ্যাশনের ওপর।

সোমবার রাজধানীর ঢাকা রিজেন্সি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন পণ্যগুলোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া ও অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব যৌথভাবে নতুন কালেকশনের উদ্বোধন করেন।

স্টেপ ফুটওয়্যারের নতুন ৫৬টি পণ্য চারটি ক্যাটাগরিতে বাজারে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে এয়ারওয়াক, লাফিয়ে স্লাইড, স্পিডি স্লাইড ও কালার স্লাইড। পাশাপাশি ছেলেদের জন্য তৈরি স্টেপ স্লাইড এবার মেয়েদের জন্যও বাজারে আনা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে নুসরাত ফারিয়া বলেন, দেশের একটি জনপ্রিয় দেশীয় ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে তিনি আনন্দিত ও গর্বিত। পণ্যের মান, ডিজাইন ও ক্রেতাদের আস্থাকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন বলেও জানান। নতুন পণ্যগুলোতে আধুনিক ডিজাইনের সঙ্গে আরাম ও মানের যে সমন্বয় করা হয়েছে, সেটিও তার কাছে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে স্টেপ ফুটওয়্যারের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব বলেন, গত কয়েক বছরে পণ্যের মান ও ডিজাইনে ব্র্যান্ডটির ধারাবাহিক উন্নয়ন লক্ষ্য করা গেছে। এবারের নতুন কালেকশনেও ফ্যাশন, আরাম ও গুণগত মানের সুন্দর সমন্বয় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল নুসরাত ফারিয়ার সঙ্গে স্টেপ ফুটওয়্যারের চুক্তি। ব্র্যান্ডটির বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে তিনি স্টেপ ফুটওয়্যারের সঙ্গে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে স্টেপ ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম কবির সাংবাদিকদের সঙ্গে নতুন পণ্যগুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন। তিনি নতুন কালেকশনের প্রযুক্তি, ডিজাইন, আরাম ও ব্যবহারিক সুবিধার পাশাপাশি সাম্প্রতিক ফ্যাশন ট্রেন্ড নিয়েও কথা বলেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

শামীম কবির বলেন, ক্রেতাদের প্রয়োজন, পছন্দ এবং পরিবর্তনশীল ফ্যাশন ট্রেন্ডকে গুরুত্ব দিয়েই বরাবর স্টেপ ফুটওয়্যার তাদের পণ্য তৈরি করে আসছে। শুধু জুতা তৈরি নয়, আরাম, আত্মবিশ্বাস ও স্টাইলের মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করাই তাদের লক্ষ্য।

ক্রেতাদের আস্থা ও সহযোগিতাই প্রতিষ্ঠানটির এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম শক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই আস্থা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে স্টেপ ফুটওয়্যারকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
অনুষ্ঠানে স্টেপ ফুটওয়্যারের চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার, পরিচালক তানজিনা আনোয়ার কবির, প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ব্যবসায়িক অংশীদারসহ বিভিন্ন অঙ্গনের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

ইআ

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম ও সেক্রেটারি ইনানের মৃ ত্যু দ ণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম ও সেক্রেটারি ইনানের মৃ ত্যু দ ণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

একই রায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলেরও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় এ রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, এ মামলার তদন্তকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদন জমা দেন কর্মকর্তারা। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে দাখিল করা হয়।

একই দিন অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। ধাপে ধাপে গ্রেফতারি পরোয়ানা, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, স্টেট ডিফেন্স নিয়োগসহ শুনানি শেষে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়।

তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৯ জন। এর মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিও রয়েছে। সবমিলিয়ে ২ আগস্ট সাক্ষ্যপর্ব সম্পন্ন হয়। এর দুই দিন পর তথা ৪ আগস্ট থেকেই যুক্তিতর্ক শুরু করে প্রসিকিউশন। ৯ কার্যদিবসে প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্সের এ ধাপ শেষ হয় ১৭ আগস্ট। আর ওই দিনই রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। রায় ঘোষণার তারিখ দেওয়া হয় ১৫ সেপ্টেম্বর। এ মামলায় মোট ১২৩ সিরিজ ডকুমেন্টস প্রদর্শন করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।

সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন সারাদেশে তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক ব্যপক মাত্রায়, পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর আক্রমণ করে তাদের হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটন করেন। যা আসামির নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তায়, সম্পৃক্ততায় ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে।

শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান সারা দেশে তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রনাধীন ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক ব্যপক মাত্রায়, পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর আক্রমণ করে তাদের হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটন করেন। যা আসামির নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তায়, সম্পৃক্ততায় ও জ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছ

উপর্যুক্ত কাজের মাধ্যমে আসমিরা হত্যা, হত্যার চেষ্টা, নির্যাতন এবং অন্যান্য অমানবিক আচরণ, অপরাধ সংঘটনের প্ররোচনা, উসকানি, ষড়যন্ত্র, সম্পৃক্ততা এবং অপরাধ সংঘটন প্রতিরোধে ব্যর্থতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠন করেছে। যা একই আইনের শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেও জানিয়েছে প্রসিকিউশন।