খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩ ভাদ্র, ১৪৩৩

বাংলাদেশে প্রভাব ফেলবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে প্রভাব ফেলবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয়ী হয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তৃণমূল জয়ী হয়েছে ৮০টি আসনে। পশ্চিমবঙ্গের এই রাজনৈতিক পালাবদল কেন্দ্র ও রাজ্য সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে এক নতুন মাত্রা তৈরি করতে পারে! যার প্রভাব বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্কে পড়বে বলে ধারণা করা যায়।

এতে দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলোতে পশ্চিমবঙ্গের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে কমে গিয়ে দিল্লির কূটনৈতিক অবস্থানই মুখ্য হয়ে উঠতে পারে।

আগামী দিনগুলোতে সীমান্ত ও অভিবাসন ইস্যু আলোচনার ক্ষেত্র হিসেবে সামনে আসবে। বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান অনুযায়ী সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। এর ফলে সীমান্ত নজরদারি বৃদ্ধি, ভ্রমণ ও কাগজপত্র যাচাই প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন চলাচলে কিছু বাধা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে দুই দেশের নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নানা মুখী প্রভাব দেখা যেতে পারে। বাংলাদেশ ও ভারত বাণিজ্যের একটি বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গের স্থলবন্দর ও করিডোর। বিশেষ করে পেট্রাপোল-বেনাপোল রুট নির্ভর। আগামী দিনগুলোতে কাস্টমস ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কঠোরতা বাড়লে বাণিজ্যিক ব্যয় ও সময় বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল কাস্টমস ব্যবস্থা এবং আধুনিক বন্দর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাণিজ্য আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিস্তা নদীর পানি বণ্টন ইস্যু বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অবস্থান এই আলোচনায় সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই ইস্যুতে হয় কেন্দ্রীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, অথবা রাজনৈতিক জটিলতার কারণে আলোচনা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকিও দেখা দিতে পারে।

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ও গভীর। ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক বন্ধন এই সম্পর্ককে রাজনৈতিক সম্পর্কের বাইরে একটি আলাদা মাত্রায় ধরে রেখেছে। প্রশাসনিক কিছু পরিবর্তন সাংস্কৃতিক বিনিময়ে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

বাংলাদেশকে আরও বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণে আগ্রহী হতে হবে, যেখানে ভারত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলেও একমাত্র নির্ভরতার ক্ষেত্র হবে না। আঞ্চলিক সংযোগ, ট্রানজিট ব্যবস্থা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে আরও কৌশলগতভাবে এগিয়ে যেতে হবে।

সামাজিক স্তরেও এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের কিছু প্রভাব পড়তে পারে। সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক কিছুটা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারত আন্তঃসীমান্ত মানবিক সম্পর্ক অনেকটাই গভীর।

বর্তমান সময়ে পশ্চিমবঙ্গে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবর্তন বাংলাদেশকে একাধিক নতুন চ্যালেঞ্জ এবং একই সঙ্গে কিছু সম্ভাবনাও দিয়েছে। সীমান্ত, বাণিজ্য, পানি ও অভিবাসন ইস্যুতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। একইসাথে অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশাসনিক আধুনিকায়নের সুযোগও উন্মুক্ত হতে পারে।

বাংলাদেশকে তাই বহুমাত্রিক কূটনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে অগ্রসর হতে হবে কারণ দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি বরাবরই পরিবর্তনশীল, আর সেই পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই নতুন নতুন সমীকরণ আগামী দিনে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

লেখক: মোহাম্মদ নাহিয়ান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক

নারী চালক-কন্ডাক্টর দিয়ে চলবে ‘পিংক বাস’, যেসব রুটে যাবে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
নারী চালক-কন্ডাক্টর দিয়ে চলবে ‘পিংক বাস’, যেসব রুটে যাবে

রাজধানীর সড়কে নারীদের যাতায়াত নিরাপদ ও আরামদায়ক করতে পৃথক বাস সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। নারী চালক ও কন্ডাক্টর দিয়ে পরিচালিত এ ‘পিংক বাস’ সেবা মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) চালু হবে।

বিআরটিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাকিম ভূঞার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ সার্ভিস চালু করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। ‘মহিলা বাস সার্ভিস পরিচালনা’ কার্যক্রমের উদ্বোধন মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।’

বিআরটিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাকিম ভূঞা জানান, নারীদের জন্য চালু হতে যাওয়া বিশেষ এই বাস সার্ভিসে চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে নারী কর্মীরাই দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রাথমিকভাবে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে ১০টি বাস চলাচল করবে। একই সঙ্গে বগুড়ায় দুটি এবং চট্টগ্রামে দুটি বাসসহ ঢাকার বাইরে আরো চারটি বাস এ সেবায় যুক্ত হবে।

যেসব রুটে চলবে বাস

আরটিসি সূত্র জানায়, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা সংযুক্ত করে এসব বাসের রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। মতিঝিল বাস ডিপোর অধীনে নতুন বাজার (কোকাকোলা)-মতিঝিল এবং তালতলা-মতিঝিল রুটে বাস চলবে।

নতুন বাজার (কোকাকোলা)-মতিঝিল রুটে কোকাকোলা, নতুন বাজার, উত্তর বাড্ডা, মধ্য বাড্ডা, মেরুল বাড্ডা, রামপুরা, আবুল হোটেল, মালিবাগ, কাকরাইল, পল্টন ও গুলিস্তান হয়ে মতিঝিলে যাবে বাস।

তালতলা-মতিঝিল রুটে তালতলা, খিলগাঁও রেলগেট, বাসাবো, বৌদ্ধমন্দির, মুগদা, কমলাপুর রেলস্টেশন, আরামবাগ, শাপলা চত্বর ও সচিবালয় হয়ে মতিঝিলে চলাচল করবে বাস।

যাত্রাবাড়ী বাস ডিপোর অধীনে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার-জিপিও রুটে চলবে একটি বাস। এ পথে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, বাঁশের পুল, কাজলা, যাত্রাবাড়ী, জনপথ মোড়, গুলিস্তান, পল্টন, সচিবালয় ও মৎস্য ভবন হয়ে জিপিও পর্যন্ত যাবে।

কল্যাণপুর বাস ডিপোর অধীনে মিরপুর-১০-মতিঝিল রুটে বাস চলবে।
এ রুটে মিরপুর-১০, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, আসাদগেট, কলাবাগান, শাহবাগ ও পল্টন হয়ে মতিঝিলে যাবে বাস।

এ ছাড়া মিরপুর বাস ডিপোর অধীনে মিরপুর-মতিঝিল এবং মিরপুর-১২-মতিঝিল রুটে বাস চলাচল করবে। মিরপুর-মতিঝিল রুটে মিরপুর-১২, মিরপুর-১০, মিরপুর-১, টেকনিক্যাল, শ্যামলী, ফার্মগেট, শাহবাগ, গুলিস্তান হয়ে মতিঝিল এবং মিরপুর-১২-মতিঝিল রুটে মিরপুর-১২, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, ফার্মগেট, শাহবাগ, প্রেস ক্লাব, গুলিস্তান হয়ে মতিঝিলে যাবে বাস।

মোহাম্মদপুর বাস ডিপোর অধীনে মোহাম্মদপুর-মতিঝিল রুটেও চলবে বিশেষ বাস। এ পথে মোহাম্মদপুর, শংকর, ধানমণ্ডি-১৫, সিটি কলেজ, নিউ মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, শাহবাগ ও পল্টন হয়ে মতিঝিলে চলাচল করবে।

জোয়ারসাহারা বাস ডিপোর অধীনে আব্দুল্লাহপুর-মতিঝিল রুটে চলবে বাস। এ রুটে আব্দুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, বিশ্বরোড, কুড়িল, বনানী, মহাখালী, ফার্মগেট, শাহবাগ, প্রেস ক্লাব ও গুলিস্তান হয়ে মতিঝিলে যাবে।

গাজীপুর বাস ডিপোর অধীনে গাজীপুর-বিমানবন্দর রুটেও বিশেষ বাস চলবে। গাজীপুর, শিববাড়ী, গাজীপুর চৌরাস্তা, মালেকের বাড়ি, বোর্ডবাজার, গাজীপুরা, কলেজগেট, স্টেশন রোড, আব্দুল্লাহপুর ও আশপুর হয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত চলাচল করবে বাস।

রাজধানীর বাইরে বগুড়ায় শেরপুর-মাটিডালি রুটে দুটি এবং চট্টগ্রামে কালুরঘাট-পতেঙ্গা রুটে দুটি বাস চলবে। চট্টগ্রামের বাসগুলো কালুরঘাট, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, লালখান বাজার।

অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে হারানোই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়: মাশরাফি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:১১ অপরাহ্ণ
অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে হারানোই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়: মাশরাফি

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়কে দেশের ক্রিকেটের বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি।

মাশরাফি লিখেছেন, ‘পুরো শক্তির অস্ট্রেলিয়াকে তাদের নিজেদের মাটিতে হারানো, আমার দেখা টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়।’

অভিনেত্রী রিধিকার মৃ ত্যু র ঘটনায় প্রেমিক গ্রে প্তা র

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৩ অপরাহ্ণ
অভিনেত্রী রিধিকার মৃ ত্যু র ঘটনায় প্রেমিক গ্রে প্তা র

রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকায় অভিনেত্রী ও মডেল রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা হয়েছে। মামলায় তার প্রেমিক হাসিবুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় হাসিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে ডিএমপির ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

ওসি বলেন, অভিনেত্রী রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে শনিবার আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলাটি করেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে রিধির প্রেমিক হাসিবুর রহমানকে। তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

পুলিশ জানায়, শনিবার ভোরে ভাটারা থানা এলাকার একটি বাসা থেকে রিধিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর আগে তিনি প্রেমিক হাসিবুর রহমানের সঙ্গে ভিডিও কলে ছিলেন। ওই সময় তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও ঝগড়া হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

পরে রিধিকার মরদেহ উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পেছনের বিষয়গুলো জানতে তদন্ত চলছে।

মডেলিংয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি নাটকেও অভিনয় করেছেন রিধিকা রিধি। তার অভিনীত নাটকের মধ্যে ‘এখানে মানুষ বিক্রি হয়’, ‘বহুরূপী’, ‘ডাবল হানিমুন’ ও ‘সুন্দরী’ উল্লেখযোগ্য।