খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ, ১৪৩৩

ভোট না-কি ভূততত্ত্ব!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ
ভোট না-কি ভূততত্ত্ব!

অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, বেলজিয়াম, সিঙ্গাপুর, আর্জেন্টিনা—এমন ২৬টি দেশে ভোট দেয়া কেবল নাগরিক অধিকার নয়, বরং সাংবিধানিক অথবা আইনগত বাধ্যতামূলক। বলিভিয়ায় কেউ ভোট না দিলে সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তি ব্যাংক থেকে ৩ মাস কোনও টাকা তুলতে পারবে না। আর অস্ট্রেলিয়ায় কেউ যদি ভোট না দেয়, তবে তাঁকে গুনতে হয় ২০ ডলার জরিমানা! আমরা বাংলাদেশে যেখানে ছোটবেলায় পড়ে এসেছিলাম ভোট দেয়া সুনাগরিকের গুণাবলি’। এ ছাড়া উল্টো কত পথ, কত মাধ্যমে দেখেছি মানুষ যেন ভোট না দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।

২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৪টি আসনে বিনাপ্রতিদন্ধিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর, এমপি-মন্ত্রীসহ তৎকালীন আমলা-সচিবরা গোটা নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়ার সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন করেছিল। সব সেক্টরে দুর্নীতি ছিল রন্ধ্রে রন্ধ্রে, দুনীর্তিগ্রস্ত একটা সিস্টেমই প্রতিষ্ঠাকরণের চেষ্টা করেছিল। কারণ, সেই সংসদ সদস্য হবার জন্য জনগণের ভোটেরই দরকার হয়নি তাদের! তাই অনেকে কর্তৃত্ববাদী বা স্বেচ্ছাচারী আধিপত্য বহাল রেখে চলেছিল এবং নিজেদের জোট থেকেই আরেকটি পক্ষকে বিরোধীদল বানিয়ে ‘সংসদ’কে বৈধতা দেয়া হয়, যা ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক ও লজ্জাকর অধ্যায়।

ভোট দিতে যেমন পলিটিক্যাল পার্টি বাধা দিয়েছিল, অপরপক্ষে কিছুকিছু সরকারি কর্মকর্তা, যাদের হাতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বভার ন্যস্ত থাকে, তারাই গণনায় ইচ্ছামতো প্যাঁচ সৃষ্টি করে এই ভোট ব্যবস্থাকে ভূত-ব্যবস্থা করে ফেলেছিল, যেখানে মৃতব্যক্তিও এসে ভোট দিয়ে আবার কবরে ঢুকে গিয়েছিলেন! আবার স্বাধীন নির্বাচন কমিশন পরাধীন নির্বাচন কমিশন হিসেবে নির্দিষ্ট দলের হয়ে কাজ করেছে, প্রায় ৫ লাখ ভোটার আছে যারা পায়ের ছাপ দিয়ে ভোটার হয়েছে! এটাও আমাদের দেখতে হয়েছে।

যদি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তবে ভোট কাস্টিং ৮০ শতাংশের বেশির বিকল্প নাই। এমনকি আমাদের দেশের শিক্ষকগণ সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও অর্থ-লোভ বা প্রাণ ভয়েই হোক—নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নির্দ্বিধায় অন্যায়কে বৈধতা দিয়েছেন।

তাই রাষ্ট্র যদি সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়, তাহলে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। আর তা নির্ভর করে রাজনৈতিক দলগুলোর সহিংসতার পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রের আশপাশ এলাকার আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করার মাধ্যমে। অন্যথায় সংবিধান সংস্কার কমিশন, ঐকমত্য কমিশন—যেভাবেই স্বাধীন নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের কথা বলুক না কেন, কোনও লাভ নেই। কারণ কেন্দ্রে যদি জনগণের উৎসবমুখর অংশগ্রহণ না থাকে, ভোট কাস্টিং যদি ৬০-৮০ শতাংশ না হয়, তাহলে সঠিক মতামত উঠে আসবে না।

দেশের বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে যে বিষয়গুলো ঘটে থাকে, তার মধ্যে কিছু বলি—‘নিজের টাকা খরচ কইরা ভোট দিমু না’, ‘বাইরে গন্ডগোল হবে, কেন্দ্রে যাবার দরকার নাই’, ‘আমার একটা ভোট না দিলে কী হবে’, ‘একটা লাইনে এতক্ষণ দাঁড়াতে পাড়বো না’, ‘হেঁটে হেঁটে ভোট কেন্দ্রে যাব না’, ‘ভোট দিলেই কী, আর না দিলেই কী! অমুক তো এমনিতেই পাস’, ‘শুধু একটা ভোট দেয়ার জন্য ফ্যামিলি নিয়ে ঢাকায় যাব?’, ‘না থাক সামনের মাসে আর্থিক সমস্যা হবে’… ইত্যাদি ইত্যাদি নানান রকম ইস্যু সৃষ্টি করে অনেকে ভোট দিতে যান না।

ভোট ব্যবস্থাকে নানাভাবে এই ভূত ব্যবস্থা বানানোর অন্যতম কারিগর কিছু অসাধু কর্মকর্তা, যারা নিজেদের প্রমোশন ঠিক রাখতে যেয়ে পুরো সিস্টেমকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমাদের দেশে ‘জাতীয় পরিচয়পত্র’কে অনেকে ভোটার আইডি মনে করেন। আমরাও যদি তা ধরে নিই, তবে রোহিঙ্গা নেতা মৃত মুহিবুল্লাহ কীভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র পান, এবং পাসপোর্ট বানিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে যেয়ে দেখাও করে আসেন বাংলাদেশের এয়ারপোর্ট ব্যবহার করে!

মানুষ ভোট কেন্দ্রে যেয়ে ভোট দিবে কেন? যখন সবসময়ই একটা অস্থিরতা কাজ করবে, তখন তাঁরা এমনিতেই ভোট দিতে ভয় পাবেন; এটাই স্বাভাবিক। অসম্ভব হলেও সত্যি ঢাকার প্রত্যেকটা আসনে ভোট কাস্ট হয় নামমাত্র! বিশেষ করে ঢাকা-১৭-তে ১১.৭৬% ভোট পেয়ে অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত মাত্র ২৮ হাজার ভোট পেয়ে এমপি হন, যেখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৫ হাজার ছিল।

গুলশান, বনানী, নিকেতন, বারিধারা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, করাইল, ভাসানটেকের মধ্যে গুলশান, বারিধারা, বনানীকে যদি এলিট ক্লাস বিবেচনা করি, তবে তাঁদেরই আগে ভোটকেন্দ্রে যাবার কথা। কিন্তু উল্টো তাঁরাই অনুপস্থিত বেশি থাকেন। সেই ক্ষেত্রে ‘ভূত ব্যবস্থা’কে নাগরিকের ভোট ব্যবস্থায় পুনরায় ফিরিয়ে আনতে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। যেমন ভোটের ডেটা যদি ব্যাংকের সাথে সিনক্রোনাইজ থাকে, তবে যে ভোট দিবেন না, তাঁকে ব্যাংক হতে পরবর্তী ৩ মাসের জন্য টাকা তুলতে দেয়া আদালত কর্তৃক নিষেধ থাকবে। তবে নির্বাচনের দিন তাঁদের বিশেষ সার্ভিসে গাড়ি ব্যবহার করতে দিতে হবে। এছাড়া বিরক্তিকর যেন না হয়, সেজন্য বুথ বাড়াতে হবে। যাঁরা ভোট দিবেন না, তাঁদের সন্তানদের স্কুলে ভর্তি, তাঁর নিজের ঋণ গ্রহণ একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

যদি কোনও রাজনৈতিক দলের একজন নেতাকর্মীও ভোট প্রদানে বাধা প্রদান করে, তবে শাস্তিস্বরূপ তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র ৬ মাস অথবা ১ বছরের জন্য সরকারের নিকট জমা থাকবে, যেন তিনি কোনোরকম কার্যক্রম চালাতে না পারেন। আর মফস্বল অঞ্চলে নারী ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য, যদি কোনও নারী ভোটার কেন্দ্রে না আসেন, তবে তাঁর সন্তানের স্কুলে ১ মাসের জন্য সকল প্রকার উপস্থিতি বন্ধ থাকার নিয়ম হলে, আশা করা যায় ভোট প্রদান বাড়তে পারে।

চলুন দেশের মানুষ
সবাই হই জোট
মিলেমিশে দেব ভোট
ভূতব্যবস্থা থেকে
ভোটব্যবস্থা ফিরে আসুক তবেই গণতান্ত্রিক শক্তি রক্ষা পাবে, পাবে পূর্ণতা। ফ্যাসিজম শেষ, গণতন্ত্র আসছে। আর এটা সাধারণ জনগণ করবে বলে আমার বিশ্বাস।

লেখক: কৃষিবিদ আরাফাত আদনান লিপু, রাজনৈতিক বিশ্লেষক

পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক

‘পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ’ উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি আমাদের জীবনে প্রতি বছর ফিরে আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে। নতুন বছরের আগমনে পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বাংলা ১৪৩২ সালকে বিদায় জানিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ কে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে আমাদের এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্পর্ক নিবিড়। তথ্যপ্রযুক্তির এই সুবর্ণ সময়েও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কৃষক তার ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করে। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়। বৈশাখী মেলা, বৈশাখী শোভাযাত্রা, হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং আমাদেরকে ঐক্যবোধে উজ্জীবিত করে। বাংলা নববর্ষ আমাদের সামনে এনেছে নতুন প্রত্যাশা ও নতুন সম্ভাবনা। প্রকৃতির নবজাগরণ আর মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলেমিশে সৃষ্টি করে এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যাত্রা শুরু করে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার। দায়িত্ব নিয়েই এই সরকার রাষ্ট্র এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু এবং ইমাম-মোয়াজ্জিন-খতিব ও অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষক, কৃষি এবং কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে শুরু হলো কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি। আগামী দিনগুলোতে এই কৃষক কার্ড বাংলাদেশের কৃষক ও কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে—বাংলা নববর্ষে এটিই হোক আমাদের প্রত্যয় ও প্রত্যাশা।

তিনি আরও বলেন, আমি আশা করি, বাংলাদেশের জনগণের যার যার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। বিশ্ব আজ নানা সংকট ও সংঘাতে বিপর্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি—এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে আমরা অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি। নববর্ষ সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। দেশবাসীকে আবারও জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।

 

দেশবাসী ও প্রবাসীদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন জামায়াত আমির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ
দেশবাসী ও প্রবাসীদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন জামায়াত আমির

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসী ও প্রবাসী ভাই-বোনদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। (সোমবার, ১৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান।

বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, মহাকালের পরিক্রমায় আমাদের দুয়ারে সমাগত আরও একটি বাংলা নববর্ষ। এবারের নববর্ষ আমাদের জীবনে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে এসেছে। বাংলা নববর্ষে দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি ভাই-বোনদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমে প্রিয় দেশ ও জাতিকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করার আপোসহীন লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে জনগণের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তিত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। আসুন, সবার জন্য ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক মুক্তি ও মানবিক সমাজ গড়ার লক্ষ্যে একধাপ এগিয়ে যাই। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

জ্বালানি সংকটের মধ্যেই ৫০ গাড়ি নিয়ে মহড়া দিয়ে পদ হারালেন ছাত্রদল নেতা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
জ্বালানি সংকটের মধ্যেই ৫০ গাড়ি নিয়ে মহড়া দিয়ে পদ হারালেন ছাত্রদল নেতা

জ্বালানি সংকটের মধ্যেই নাটোরের গুরুদাসপুরে ৫০ গাড়ির বহর নিয়ে মহড়া দেওয়ার ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রামানিককে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গির আলম স্বাক্ষরিত পত্রে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা জানান দিতেই শোডাউন দেন মাসুদ রানা। ছাত্রদল নেতার গাড়ি বহরের এই শোডাউন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। শোডাউনে যোগান দেওয়া অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। নানা সমালোচনার মুখে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নজরে সোমবার তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এর আগে রোববার বিকেলে ৫০টি মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার নিয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারে গিয়ে শেষ হয় সেই শোডাউন। এতে অংশ নেয় অন্তত চারশ’ নেতাকর্মী। পরে শোডাউনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় নীতির বিপরীতে বিপুল পরিমাণ তেল পুড়িয়ে এমন কর্মকাণ্ডে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সদ্য বহিষ্কৃত নেতা মাসুদ রানা ৫০টি যানবাহন অংশ নেওয়ার কথা নিশ্চিত করলেও ব্যয়ের উৎস নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বলেন, শোডাউনের গাড়িগুলো জ্বালানি তেলে চালিত নয়। বেশিরভাগই এলপিজি ও সিএনজিচালিত গাড়ি। দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েও কোনো মন্তব্য করেননি।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, মাসুদ রানা দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজের জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যেই তিনি এই গাড়ি বহরের আয়োজন করেন।

নাটোর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজন বলেন, ছাত্রদল নেতা মাসুদ রানা গাড়ি বহরের বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নজরে এসেছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট কারণে সোমবার ওই নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।