খুঁজুন
সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩ কার্তিক, ১৪৩৩

বিএনপির বিজয়: পরিবর্তনের পক্ষে জনগণের স্পষ্ট রায়

মোহাম্মদ নাহিয়ান
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
বিএনপির বিজয়: পরিবর্তনের পক্ষে জনগণের স্পষ্ট রায়

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ব্যাপক বিজয় দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই ফলাফল কেবল একটি নির্বাচনী সাফল্য নয়; বরং এটি জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সুস্পষ্ট প্রতিফলন। বিএনপির এই জয়ের পেছনে একাধিক ইতিবাচক ও বাস্তব কারণ রয়েছে, যা গভীরভাবে বিশ্লেষণের দাবি রাখে।

প্রথমত, জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ছিল এই নির্বাচনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষ কার্যকর গণতন্ত্র, জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে উদ্বিগ্ন ছিল। বিএনপি তাদের রাজনৈতিক বক্তব্যে এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে জনগণের কণ্ঠস্বরকে প্রতিনিধিত্ব করেছে। ফলে ভোটারদের একটি বড় অংশ দলটির প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে।

দ্বিতীয়ত, দলীয় সংগঠনের পুনর্গঠন ও তৃণমূলের সক্রিয়তা বিএনপির সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দলটি তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি জোরদার করে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা, ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বিএনপিকে মাঠের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থানে নিয়ে আসে।

তৃতীয়ত, নেতৃত্বের ধৈর্যশীল ও কৌশলগত ভূমিকা দলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। সংঘাতমুখী রাজনীতির পরিবর্তে বিএনপি তুলনামূলকভাবে সংলাপ, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আস্থার বার্তা দিয়েছে। এই পরিমিত ও দায়িত্বশীল অবস্থান সচেতন ভোটারদের আস্থা অর্জনে সহায়ক হয়েছে।

চতুর্থত, তরুণ ও নতুন ভোটারদের সমর্থন বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বিএনপি তাদের নির্বাচনী বক্তব্যে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরে। দেশের বড় একটি তরুণ জনগোষ্ঠী এই বার্তার সঙ্গে নিজেদের ভবিষ্যৎ যুক্ত করতে পেরেছে, যা ভোটের ফলাফলে স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে।

পঞ্চমত, নির্বাচনী পরিবেশ তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল হওয়া জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটাতে সহায়তা করেছে। ভোটাররা বাধাহীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় জনগণের প্রকৃত পছন্দ ব্যালট বাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে। এতে বিএনপির প্রতি বিদ্যমান জনসমর্থন আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

ষষ্ঠত, ইতিবাচক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক বার্তা বিএনপির প্রতি আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নির্বাচনের পর দলের নেতারা প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গঠনের অঙ্গীকার করেছেন। এই সহনশীল ও ঐক্যমুখী দৃষ্টিভঙ্গি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশী জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে, বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো জনগণের প্রত্যাশার প্রতি দায়িত্বশীল থাকা। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আস্থার জায়গাটিকে সুদৃঢ় করতে হবে। বিশেষ করে আইনের শাসন, প্রশাসনিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। জনগণ যে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে, তার বাস্তব প্রতিফলন শাসনকার্যে দৃশ্যমান না হলে এই সমর্থন দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

এ ছাড়া অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা প্রদর্শন করা বিএনপির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদার করা- এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ জনগণের জীবনযাত্রায় সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও আরও শক্ত ভিত্তি পাবে।

বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রতি সহনশীল আচরণ এবং সংসদকে কার্যকর গণতান্ত্রিক মঞ্চ হিসেবে গড়ে তোলাও এই সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা। শক্তিশালী ও কার্যকর বিরোধীদল গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ। বিএনপি যদি ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে এবং সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর করে তোলে, তবে তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এই নির্বাচনের তাৎপর্য রয়েছে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও জনগণের রায়ে গঠিত সরকার হিসেবে বিএনপি যদি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হতে পারে। বাণিজ্য, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিএনপির এই বিজয় কেবল একটি দলীয় সাফল্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি জনগণের আশা, প্রত্যাশা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো- এই জনসমর্থনকে কীভাবে কার্যকর সুশাসন, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং গণতন্ত্র সুদৃঢ় করার কাজে রূপান্তর করা যায়। তা করতে পারলে এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ইতিবাচক ও স্মরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থান করে নেবে।

লেখক: মোহাম্মদ নাহিয়ান
সাংবাদিক

দল ও প্রধানমন্ত্রীকে বিব্রত করতে চাইনি, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি: ইশরাক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
দল ও প্রধানমন্ত্রীকে বিব্রত করতে চাইনি, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি: ইশরাক

মুক্তিযুক্ত বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন বলে জানালেন ইশরাক হোসেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ও দল যাতে বিব্রত না হয়, এজন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আমি ঢাকা-৬ আসন ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাদক নির্মূলের পাশাপাশি জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা সমাধানে কাজ করতে চাই।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করতে হয়েছে।

স্বাধীনতা অর্জনের পরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, মাদকবিরোধী ও সীমান্ত নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে এই লড়াই অব্যাহত রাখা জরুরি।

মাদকের বিস্তারকে দেশের ভবিষ্যৎ ও রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, মাদক শুধু ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করছে না, এটি বাংলাদেশের অস্তিত্বকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এ কারণে মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষিত অভিযান অব্যাহত রাখতে চাই।

সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে বিভিন্ন টকশোতে আইনজীবীদের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ঢাকা-৬ আসনের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা ওই অভিযানে অংশ নিয়েছি। স্থানীয় থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ বিষয়ে অবগত ছিলেন এবং অভিযানে যুক্ত ছিলেন। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি অভিযানের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেছি।

ইশরাক বলেন, অভিযানে জনপ্রতিনিধির ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের কারণে মাদকের মূল সমস্যা আড়ালে চলে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সমালোচনা না করে মাদকের স্পট, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং মূল হোতারা কারা, সে বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।

মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার ওপর জোর দিয়ে ইশরাক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে চাই।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি। এখন থেকে ঢাকা-৬ আসন, পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং প্রয়োজনে অন্যান্য এলাকায় মাদক নির্মূল ও জনজীবনের সমস্যা সমাধানে কাজ করতে চাই।

সেনাবাহিনীর প্রকৃত শক্তি শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নৈতিকতা ও জনগণের আস্থা: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
সেনাবাহিনীর প্রকৃত শক্তি শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নৈতিকতা ও জনগণের আস্থা: প্রধানমন্ত্রী

সেনাবাহিনীর প্রকৃত শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম কিংবা জনবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ এবং জনগণের আস্থার মধ্যেই একটি বাহিনীর মূল শক্তি নিহিত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সাভার সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সৈনিক সংবিধান, আইন, সামরিক বিধিবিধান এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকবেন, এটাই জনগণের প্রত্যাশা। একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা শুধু অস্ত্র ও সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করে না। বরং শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ এবং জনগণের আস্থা একটি বাহিনীর প্রকৃত শক্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সঙ্গে সেনাবাহিনীর জন্মের ইতিহাস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সেনাসদস্যরা সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। স্বাধীনতার জন্য তাদের সেই প্রতিরোধ বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে নিরাপত্তা পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের ধরন ও কৌশল। স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশীয়ভাবে উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। প্রতিরক্ষা খাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম উৎপাদনে দেশীয় সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়টি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রযুক্তি কখনোই মানুষের বিকল্প নয়। তাই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও পেশাদারিত্ব বাড়াতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে জাতীয় প্রয়োজনে তিন বাহিনী একযোগে দায়িত্ব পালন করতে পারে। দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করার ক্ষেত্রে বাহিনীগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সশস্ত্র বাহিনীর বহুমুখী দায়িত্বের বিষয়টি উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড এবং অন্যান্য জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিদেশের শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

সেনাসদস্যদের কল্যাণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন এবং অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। জাতীয় পে স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ শতাংশ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করার লক্ষ্যে ‘ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা প্রদান করা হয়। সাভার সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থেকে ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা প্রদান করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা অর্জনকারী সাতটি ইউনিটকে এই গৌরবময় স্বীকৃতির মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে একটি আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় পতাকা অর্জনকারী ইউনিটগুলোকে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর কোনো ইউনিটের জন্য জাতীয় পতাকা শুধু একটি আনুষ্ঠানিক প্রতীক নয়, বরং এটি সেই ইউনিটের গৌরবময় ঐতিহ্য, বীরত্ব, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের প্রতীক। লাল-সবুজের এই পতাকার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অসংখ্য বীরের আত্মত্যাগের ইতিহাস। জাতীয় পতাকা প্রদানের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের আস্থা, স্বীকৃতি ও সম্মানের প্রতিফলন ঘটে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রধান, সংসদ সদস্য, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন পর্যায়ের সেনাসদস্য এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদল: ট্রাম্প কার্ড হতে পারেন মওদুদ আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৯ অপরাহ্ণ
ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদল: ট্রাম্প কার্ড হতে পারেন মওদুদ আহমেদ

মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্তির পর নতুন নেতৃত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতার নাম ঘুরেফিরে সামনে এলেও সাংগঠনিক শক্তি, রাজনৈতিক যোগাযোগ ও অনুসারীদের সমর্থনের হিসাব-নিকাশে আলোচনায় আসছেন মিরপুর কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মওদুদ আহমেদ। সংশ্লিষ্ট মহলে গুঞ্জন, শেষ মুহূর্তে হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়ে ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে ‘ট্রাম্প কার্ড’ হয়ে উঠতে পারেন তিনি।

ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সাংগঠনিক পরিধিতে রয়েছে মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ, আলহাজ্ব মকবুল হোসেন কলেজ, সরকারি গ্রাফিক্স আর্টস কলেজ, মিরপুর কলেজ, দুয়ারিপাড়া সরকারি কলেজ, পল্লবী সরকারি কলেজ, হারুন মোল্লা ডিগ্রি কলেজ, ইউনানি আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মহানগর পশ্চিমের একাধিক থানা এলাকায় সংগঠনটির সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তৃত।

এই ইউনিটের আওতাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মিরপুর কলেজের সাংগঠনিক গুরুত্ব বিশেষভাবে আলোচিত। বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এখানে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নতুন কমিটি গঠনের আলোচনায় বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে মিরপুর কলেজ শাখা থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব মহানগর পশ্চিমের কমিটিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও চলছে আলোচনা।

মিরপুর কলেজ থেকে নেতৃত্বের দৌড়ে মওদুদ

নতুন কমিটি ঘিরে আলোচনায় থাকা মওদুদ আহমেদ বর্তমানে মিরপুর কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে, তিনি ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী।

কমিটি বিলুপ্তির পর নতুন সমীকরণ

গত ৩০ সেপ্টেম্বর মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সংসদ। কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের নয় সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই কমিটিতে সভাপতি করা হয় মো. রবিন খানকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় আকরাম আহমেদকে। পরে চলতি বছরের ৪ এপ্রিল কমিটিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার কয়েক মাসের মধ্যেই তা বিলুপ্ত করা হয়।

নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরাম আহমেদ এবং সদ্য সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গোলাম মওলা গোলাপের নামও আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল সোহেল, সহসভাপতি কাওসার খান, সৈয়দ নেছার উদ্দিন রুজেন ও কাজী শাওন আলম, দপ্তর সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া খান সিজার এবং শেরেবাংলা নগর থানা ছাত্রদলের আহবায়ক রাজা আহমেদ মিন্টুর নামও সম্ভাব্য নেতৃত্ব হিসেবে সামনে আসছে।

এমন পরিস্থিতিতে মিরপুর কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মওদুদ আহমেদের অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে পরিচিতি ও রাজনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, সাংগঠনিক সক্রিয়তা এবং নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্ব পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য। ফলে ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের পরবর্তী কমিটিতে মওদুদ আহমেদ সত্যিই ‘ট্রাম্প কার্ড’ হয়ে উঠবেন, নাকি অভিজ্ঞ ও আলোচনায় থাকা অন্য প্রার্থীরা নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যাবেন- সেই উত্তর মিলবে কেন্দ্রীয় সংসদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে।