সাতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সদ্য সাবেক সভাপতি এবং এক অভিভাবক প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতের কথা উল্লেখ করে সামাজের বিত্তবানদের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা সংগ্রহ করা হলেও সেই অর্থের সঠিক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের জন্য বই কেনার নামে মাত্র ১২ হাজার টাকার বই সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো স্বচ্ছ তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সর্বেশ্বর বিশ্বাস বলেন, ‘লক্ষাধিক টাকার বিষয়ে আমার জানা নেই, প্রথমবার জানলাম। এ বছর আমার কাছে ১২ হাজার টাকা আসে, যা দিয়ে ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করা হয়েছে।’
এদিকে বিদ্যালয়ের নিজস্ব জমি দখল করে সেখানে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, এসব দোকান থেকে নিয়মিত ভাড়া ও চাঁদা আদায় করা হলেও সেই অর্থ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে সর্বেশ্বর বিশ্বাস বলেন, ‘বাজার সংলগ্ন একটা জায়গা ছিল, ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত সেখানে স্কুল ছিল। সেবছর বন্যার সময় সেই জায়গা ভেঙে গেলে স্কুল সরিয়ে নেওয়া হয়। তখনকার স্কুল কর্তৃপক্ষ ওই জায়গায়টি আর নিয়ন্ত্রণে নেননি। এমন অবস্থায় স্থানীয় লোকজন দোকনপাট তুলে ব্যবসা করছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগের কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ব্যবস্থা গ্রহণের কিন্তু সরকার পতনের পর সেই কমিটি ভেঙে গেলে আর কাজটি আগায়নি। এরপর নতুন কমিটি এসে মাত্র একটি দোকানের সঙ্গে চুক্তি করেছিল। বাকি দোকানগুলোর সঙ্গে চুক্তি করার আগেই ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।’
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গায় নতুন করে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে।
এদিকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিভাবক ও এলাকাবাসীর ভাষ্য, নির্ধারিত নিয়ম-কানুন অনুসরণ না করে পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সামনেও একই প্রক্রিয়ায় নিজস্ব লোক দিয়ে কমিটি করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন করে কমিটি গঠন করতে চাই না। আমি নিয়মের বাইরে কিছু করব না। ম্যানেজিং কমিটি করার ক্ষেত্রে একটা নীতিমালা রয়েছে, সেটা অনুসরণ করেই করা হবে।’
তবে অভিভাবক ও স্থানীয়রা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন
Array