খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক, ১৪৩৩

দারুণ প্রত্যাবর্তনে জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ব্রাজিল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১:১০ পূর্বাহ্ণ
দারুণ প্রত্যাবর্তনে জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ব্রাজিল

ইনজুরি টাইম শেষ হওয়ার আর এক মিনিটও বাকি নেই। গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির ৯৬তম মিনিটের গোল। তাতে ২-১ গোলে এগিয়ে গেল ব্রাজিল।

প্রথমার্ধে গোল খাওয়া ব্রাজিল ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেছে। দলে পরিবর্তন এনেছে তারা। পাকেতার বদলে এন্দ্রিককে মাঠে নামানো হয়েছে। বিরতির পর ব্রাজিল ছন্দে ফেরে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কয়েকটি সুযোগ নষ্ট হওয়ার পর ৫৬ মিনিটে কাসেমিরো গোল শোধ দেন।

এর আগে হাইড্রেশন ব্রেকের পরপর জাপান ব্রাজিলকে গোল দেয়। মাঝমাঠে দানিলোর কাছ থেকে লুজ বল পান সানো। তিনি কাসেমিরোকে গতিতে পরাস্ত করে এগিয়ে যান এবং বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটটি নিখুঁতভাবে পোস্টের নিচের বাম কোণ দিয়ে ভেতরে ঢুকে যায়। ২৯ মিনিটে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় জাপান।

অথচ হাইড্রেশন ব্রেকের আগে ব্রাজিল বেশ আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। তারা পানি পানের বিরতির আগে প্রায় ৭৫ শতাংশ বল দখলে রেখে চারটি শট নিলেও গোল পায়নি। জাপানের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও স্কোরে কোনো ব্যবধান তৈরি করতে পারেনি।

৩ মিনিটে ব্রাজিল আক্রমণের সুযোগ পায়। বক্সের প্রান্ত থেকে গিমারায়েসের শট প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। পাঁচ মিনিটে ওপর দিয়ে বল বাড়ায় ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সামনে বল পড়ার আগেই জাপানি গোলকিপার সুজুকি সামনে এগিয়ে এসে দুই হাত দিয়ে পাঞ্চ করে বল ক্লিয়ার করেন। সম্ভবত এটি ম্যাচের শুরুর দিকের স্নায়ুচাপের লক্ষণ, কারণ তিনি চাইলেই সেখানে বলটি সহজেই ধরে ফেলতে পারতেন।

জাপান তেমন কিছুই করে উঠতে পারেনি শুরুর দিকে। তারা নিজেদের অর্ধেকের মধ্য থেকে বের হতেই হিমশিম খাচ্ছিল। ব্রাজিল একটি সুযোগের খোঁজে বল পাস করে খেলছে, তবে জাপানের রক্ষণভাগ বেশ সুসংগঠিত দেখাচ্ছে।

১০ মিনিটে দানিলো বাইলাইনে পৌঁছে বক্সের ভেতর বল বাড়ান। বলটি একজন ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ের পায়ে পড়ে, যিনি সজোরে শট মেরে বসেন তারই সতীর্থের মুখে। চার মিনিট পর কুনহা বক্সের বাইরে থেকে শট নেন। সুজুকি বল মাঠের বাইরে পাঠিয়ে কর্নার বানান। দ্রুত কর্নার নেয় ব্রাজিল। পাকেতার শট ডানপাশের পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।

১৬ মিনিটে বিপদজনক জায়গা থেকে ফ্রি কিক পায় জাপান। জুনিয়াকে ফাউল করেন কাসেমিরো। ডি বক্সের বাঁ পাশ থেকে কামাদার শট রক্ষণদেয়ালে লেগে মাঠের বাইরে যায়। ব্রাজিল সহজেই কর্নার কিক ফিরিয়ে দেয়।

প্রথম গোল হজমের পর সমতা ফেরাতে মরিয়া ছিল ব্রাজিল। কিছুক্ষণ পর বাম পাশ থেকে পাকেতার ফ্রি কিকে মারকুইনহোসের হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। এরপর কিছুটা দূর থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট সহজেই হাতে নেন সুজুকি। ৩৯ মিনিটে কুনহার দূর থেকে নেওয়া শটও লুফে নেন জাপান কিপার।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্রাজিলকে আক্রমণে তটস্থ করে রেখেছিল জাপান। রিতসু দোয়ান ডানপ্রান্ত দিয়ে বেশ ভালোই ভোগান্তিতে ফেলেছেন তাদের। ৪৪ মিনিটে তিনি জুনিয়া ইতোকে খুঁজে নেন, যিনি বক্সের ভেতর একটি বিপজ্জনক বল বাড়ান। সেটি ক্লিয়ার করতে ব্রাজিলকে বেশ বেগ পেতে হয়।

এরপর বামপ্রান্ত থেকে হিরোকি ইতো ভেতরের দিকে একটি বাঁকানো ক্রস বাড়ান। তবে ব্রাজিল কোনোমতে সেটিও সামাল দিয়ে নেয়। এটি জাপানের জন্য বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আরও একটি ভালো সময়।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। সুযোগও তৈরি করে একাধিকবার। ৫০ মিনিটে একটি দূর থেকে বাড়ানো বল ধরে এন্দ্রিক তার রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার পাসটি ভুল জায়গায় চলে যায় এবং সুজুকি সামনে এগিয়ে এসে বলটি গ্লাভসবন্দি করেন।

৫২ মিনিটে দানিলোর বাড়ানো একটি ক্রস থেকে গিমারেস বল পেয়ে গোল লক্ষ্য করে জোরালো হেড করেন, তবে সুজুকি দারুণভাবে ডাইভ দিয়ে সেটি রুখে দেন। ৫৫ মিনিটে কাসেমিরো খুব কাছ থেকে হেড করার পর তোমিয়াসু গোললাইনের ওপর থেকে বলটি প্রতিহত করেন এবং এরপর গোলপোস্টের সামনে জটলার সৃষ্টি হলে তিনি আবারও বল ব্লক করেন। জাপান পাল্টা আক্রমণে উঠলেও তাদের ক্রসটি একটু বেশি জোরে হয়ে যায়, যার ফলে সবাই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার সুযোগ পায়!

কিছুক্ষণ আগের সুযোগ মিস করার খেসারত চুকিয়ে ব্রাজিলের হয়ে সমতাসূচক গোলটি করেন কাসেমিরো! তার ৩ মিনিট পর ভিনিসিয়ুস বামপ্রান্ত থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ গতিতে তোমিয়াসুকে নাটমেগ করেন। বক্সের ভেতরে তিনি জাপানের আরেকজন খেলোয়াড়কে পুরোপুরি বোকা বানিয়ে ড্রিবল করে কাটিয়ে এগিয়ে যান এবং ডাইভ দেওয়া সুজুকিকে ফাঁকি দিয়ে শট নেন; কিন্তু বলটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে এবং জাপানের রক্ষণভাগ বলটি ক্লিয়ার করে বিপদ মুক্ত করে।

৭৫ মিনিটে জাপানি কয়েকজন খেলোয়াড়কে ড্রিবলিংয়ে বোকা বানিয়ে ফাঁকি দিয়ে বামপ্রান্তের উইংয়ে থাকা ভিনিসিয়ুসকে বল বাড়ান এন্দ্রিক। ভিনিসিয়ুস গতি বাড়িয়ে বক্সের ভেতর ঢুকে তার ডান পায়ে বল নেন, কিন্তু তার পাসটি ভুল জায়গায় চলে যায় এবং জাপানের রক্ষণভাগ বলটি ক্লিয়ার করে।

এর কিছুক্ষণ পরেই গ্যাব্রিয়েল ব্যাক পোস্টে আরও একটি ডিপ ক্রস বাড়ান। এবার রায়ান হেডের মাধ্যমে বলের নাগাল পেলেও সুজুকির গায়ে লেগে বলটি পোস্টের বাইরে চলে যায় এবং ব্রাজিল একটি কর্নার পায়।

তবে জাপানের দৃঢ় রক্ষণের কারণে কর্নার থেকে কোনো সুযোগ তৈরি হতে পারেনি এবং তারা ব্রাজিলকে পেছনে হটে যেতে বাধ্য করে।

৮৯ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের একটি শট প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে কর্নার হয়।

 

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক মিল্টন, সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:২৯ অপরাহ্ণ
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক মিল্টন, সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার দুই সদস্যবিশিষ্ট আংশিক আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

নবগঠিত কমিটিতে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনকে আহ্বায়ক এবং এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই আংশিক আহ্বায়ক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করতে হবে।

রোববার (০১ নভেম্বর) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে, ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

 

সাতলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি নাহিয়ানের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
সাতলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি নাহিয়ানের

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ১১ জুলাই ২০২৬ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেন কমিটির সভাপতি পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাহিয়ান। তবে অভিযোগ নিষ্পত্তি না করেই গত ১৮ অক্টোবর কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

নাহিয়ানের অভিযোগ, বিধি অনুযায়ী সাধারণ সভা আয়োজন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গ্রহণ না করেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাত্র তিনজনের নামের একটি প্রস্তাব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পাঠান। কমিটি গঠনের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও বিধিমালা অনুসরণ করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেছেন। এ ছাড়া, প্রক্রিয়াটিতে নানা ধরনের অভিযোগও তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন নাহিয়ান।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, তিনি নিয়ম মেনে কমিটি গঠনের জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বলেছিলেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক কারও সঙ্গে আলোচনা করেননি এবং তাঁর কথাও শোনেননি।

তিনি আরও বলেন, “অনেক কাজের চাপ থাকে। এর মধ্যে হয়তো আমাদের দৃষ্টির বাইরে থেকে গেছে, তাই কমিটি প্রকাশ পেয়েছে। এখন বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর ড. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সন্তানকে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হতে হবে। যাঁর নাম অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে, সেই নাম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বোর্ডে পাঠিয়েছেন। বোর্ড সেই নাম রেখেছে।

তিনি বলেন, “এখন পুনরায় অভিযোগ এলে আমরা আবার বিষয়টি খতিয়ে দেখব।”

অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনে এমন ভুল কীভাবে হলো, জানতে চাইলে জসিম উদ্দিন এ ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাহিয়ান অভিযোগ করেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলী সুজা এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দায় এড়াতে পারেন না। তাঁদের ভূমিকা তদন্ত করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান নাহিয়ান।

১১ জুলাই শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া আবেদনে নাহিয়ান উল্লেখ করেন, সাধারণ সভা আয়োজন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গ্রহণ ছাড়াই কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, প্রস্তাবিত অভিভাবক সদস্যের সন্তান বর্তমানে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত হওয়ায় তাঁর সদস্যপদের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। প্রযোজ্য বিধিমালা অনুযায়ী ওই ব্যক্তি অভিভাবক সদস্য হওয়ার যোগ্য নন, বলে দাবি করেন নাহিয়ান।

আবেদনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সদ্য সাবেক অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও অভিভাবক প্রতিনিধির বিরুদ্ধে অতীতের আর্থিক অনিয়ম এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়।

নাহিয়ানের দাবি, পূর্ববর্তী আবেদনের পর অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি ও তদন্তের বিষয়ে তাঁকে অবহিত করা হয়নি। এর মধ্যেই ১৮ অক্টোবর কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তাই কমিটি গঠনের প্রতিটি ধাপ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং বোর্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তিনি ঘোষিত কমিটির কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং বিধি অনুযায়ী কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। প্রয়োজনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তদন্ত পরিচালনারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ব্যালন ডি’অর জিতে নতুন অধ্যায় লিখলেন হ্যারি কেইন

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২২ পূর্বাহ্ণ
ব্যালন ডি’অর জিতে নতুন অধ্যায় লিখলেন হ্যারি কেইন

ট্রফির জন্য তাঁর অপেক্ষা ছিল দীর্ঘ। গোলের পর গোল করেছেন, ভেঙেছেন রেকর্ড, তবু ব্যক্তিগত অর্জনের মুকুটে যেন একটি পালক কম ছিল। সেই অপূর্ণতা ঘোচানোর গল্পে এবার নতুন অধ্যায় লিখলেন হ্যারি কেইন। ইংলিশ ফুটবলের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ব্যালন ডি’অর জয়ের স্বপ্ন পূরণ করলেন বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার।

ফুটবলে গোল করাই কেইনের সবচেয়ে বড় পরিচয়। কিন্তু তাঁর ক্যারিয়ারকে শুধু গোলের সংখ্যায় মাপলে গল্পের অনেকটাই অজানা থেকে যাবে। দীর্ঘদিন টটেনহাম হটস্পারের হয়ে খেলেছেন। ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্ব করেছেন। দেশের হয়ে গোলের পর গোল করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন প্রজন্মের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে। এত কিছুর পরও ব্যালন ডি’অর ছিল অধরা।

২০২৩ সালে টটেনহাম ছেড়ে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন কেইন। নতুন ক্লাবে যাওয়ার পেছনে বড় লক্ষ্য ছিল দলীয় শিরোপা জেতা। টটেনহামে ব্যক্তিগত সাফল্য পেলেও বড় কোনো দলীয় ট্রফি জিততে পারেননি তিনি। বায়ার্নে যোগ দিয়েও শুরুতে সেই অপেক্ষা দীর্ঘ হয়েছিল। তবে গোল করার ধারায় কখনো ভাটা পড়েনি।

২০২৫-২৬ মৌসুমে কেইন ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। বায়ার্নের হয়ে ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল করেন তিনি। জার্মান ক্লাবটিকে ঘরোয়া লিগ ও কাপের শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন। জাতীয় দলের হয়েও ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে ছয়টি গোল করেন এই স্ট্রাইকার। দলকে সমিতে তোলেন এবং তৃতীয় হতে সহায়তা করেন। সব মিলিয়ে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ও দলীয় সাফল্যের সমন্বয় তাঁকে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদারে পরিণত করে।

কেইনের গল্পের সবচেয়ে বড় দিক তাঁর ধারাবাহিকতা। গোল করার জন্য শুধু গতি কিংবা শারীরিক শক্তির ওপর নির্ভর করেন না তিনি। বক্সের মধ্যে সঠিক জায়গায় থাকা, অল্প জায়গায় শট নেওয়া, সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করা—সব ক্ষেত্রেই তাঁর দক্ষতা রয়েছে। প্রয়োজনে মাঝমাঠে নেমে খেলেন, আবার সুযোগ পেলে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে ঢুকে পড়েন। একজন আধুনিক স্ট্রাইকারের প্রায় সব গুণই রয়েছে তাঁর মধ্যে।

ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসেও এই অর্জনের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর আর কোনো ইংলিশ ফুটবলার ব্যালন ডি’অর জেতেননি। কেইনের হাতে পুরস্কার উঠলে ২৫ বছর পর আবারও এই সম্মান পাবে ইংলিশ ফুটবল। এর আগে স্ট্যানলি ম্যাথিউস, ববি চার্লটন ও কেভিন কিগানও জিতেছেন ফুটবলের এই ব্যক্তিগত স্বীকৃতি।

ব্যালন ডি’অর শুধু একটি ট্রফি নয়, ফুটবলারের পুরো মৌসুমের পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি। কেইনের ক্ষেত্রে গোলের হিসাবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দলকে শিরোপা জেতানোর অবদান। যে ফুটবলারকে একসময় বড় ট্রফি জিততে না পারার প্রশ্ন শুনতে হয়েছে, তাঁর ক্যারিয়ারে এমন স্বীকৃতি যোগে রচিত হলো দীর্ঘ পথচলার বিশেষ এক অধ্যায়।

হ্যারি কেইনের বয়স এখন ৩৩। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে ব্যালন ডি’অর জিতলেন, নিশ্চয়ই তা এক দীর্ঘ অপেক্ষার পুরস্কারই। গোলের পর গোল করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন তিনি। এবার সেই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি মিলল।

কিলিয়ান এমবাপে, লিওনেল মেসি, রদ্রি, লামিন ইয়ামালদের মতো তারকাদের পেছনে ফেলে এই অর্জন কঠিন, তবে হ্যারি কেইনের জন্য এখন ঠিক ততটা মধুরই।