খুঁজুন
সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩

তিন ঘণ্টার মহানাটকীয় ম্যাচে ইরাককে ৩-০ হারিয়ে নকআউট পর্বে ফ্রান্স

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৮:২৭ পূর্বাহ্ণ
তিন ঘণ্টার মহানাটকীয় ম্যাচে ইরাককে ৩-০ হারিয়ে নকআউট পর্বে ফ্রান্স

ফিলাডেলফিয়ার আকাশ জুড়ে প্রকৃতির রুদ্র তাণ্ডব আর দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা চরম অনিশ্চয়তা- কোনো কিছুই থামাতে পারল না অপ্রতিরোধ্য ফরাসিদের। প্রথম ম্যাচের দুর্দান্ত সাফল্যের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও দেখা গেল সেই চেনা ফরাসি ঝলক।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় শুরু হয়ে, বজ্রঝড়ের কারণে দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে গিয়ে শেষ হওয়া সাড়ে তিন ঘণ্টার এক মহানাটকীয় ম্যাচ শেষে ইরাককে ৩-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ফ্রান্স। আর এই দাপুটে জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম দলগুলোর একটি হিসেবে ‘রাউন্ড অব ৩২’ বা নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের দল।

ম্যাচের প্রথমার্ধেই অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের দর্শনীয় গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল লে ব্লুজরা। তবে প্রথমার্ধ শেষ হতেই ফিলাডেলফিয়ার ওপর দিয়ে বয়ে যায় তীব্র বজ্রঝড়, যার কারণে স্টেডিয়ামের আলো নিভিয়ে খেলা বন্ধ রাখতে হয় ভোর ৬টা পর্যন্ত। সব শঙ্কা উড়িয়ে বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় যখন দ্বিতীয়োর্ধের খেলা আবার শুরু হয়, তখন মাঠের দখল নিতে একটুও সময় নেয়নি ফ্রান্স। ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে ইরাকি ডিফেন্সের এক মারাত্মক ব্যাকপাসের ভুলকে কাজে লাগিয়ে বল জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করেন এমবাপ্পে।

এই গোলটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে ফরাসি অধিনায়কের চতুর্থ এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসে তার সব মিলিয়ে ১৬তম গোল। যার মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে স্পর্শ করে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেছেন।

ইরাকের ঘুরে দাঁড়ানোর সব আশার প্রদীপ এরপর পুরোপুরি নিভিয়ে দেন পিএসজি তারকা উসমান দেম্বেলে। ম্যাচের শেষ দিকে ফরাসি উইঙ্গারদের এক নিখুঁত কম্বিনেশন থেকে ইরাকের জাল কাঁপিয়ে দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন দেম্বেলে। ৩-০ গোলের এই বিধ্বংসী জয়ে গত দুটি ম্যাচের টানা হতাশা ভুলে ফরাসি ডেরায় এখন বাঁধভাঙা উল্লাস।

আরো একটি প্রত্যাবর্তনের গল্প, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে মেসিরা ফাইনালে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:১১ পূর্বাহ্ণ
আরো একটি প্রত্যাবর্তনের গল্প, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে মেসিরা ফাইনালে

আরেকটি অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। গোলশূণ্য প্রথমার্ধের পর ৫৫ মিনিটে গর্ডনের গোলে লিড নিয়েছিল ইংল্যান্ড। এরপর থেকেই আর্জেন্টিনার মরিয়া চেষ্টা ম্যাচে ফেরার।

এই ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলের দরজা খোলা কঠিণ ছিল লিওনেল মেসির জন্য। সে চেষ্টা না করে বাঁ পায়ের জাদুকর মনযোগ দেন সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোয়।

শেষ পর্যন্ত ৮৫ মিনিটে মেসির অ্যাসিস্টে অসাধারণ গোলে ম্যাচে সমতা ফেরান এনসো ফের্নান্দেস। আর ৯ মিনিট যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বদলী নামা লাউতারো মার্তিনেস খুঁজে নেন জাল। এবারও ডান দিক থেকে মেসির ক্রসে নিখুঁত হেডে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো।

তাতেই হৃদয় ভেঙে যায় ইংলিশদের। দীর্ঘ ৬০ বছর পর শিরোপা জয়ের আশা শেষ হয়ে যায় হ্যারি কেইনদের।

অন্যদিকে চল্লিশের মেসির চোখে এখন টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় নিউ জার্সিতে ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ফ্রান্সকে হারানো স্পেন।

আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে মাঠে নামবে যারা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে মাঠে নামবে যারা

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে মাঠে নামছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচের শুরুর একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছেন আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। মিডফিল্ডে রদ্রিগো দে পলের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন জুলিয়ানো সিমিওনে। এছাড়া বাকি ১০জন সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা একাদশের শুরুতে ছিলেন।

গোলকিপিংয়ে যথারীতি আছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। রক্ষণে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। লেফট-ব্যাকে থাকছেন নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। আর রাইট-ব্যাকে নাহুয়েল মলিনা। মিডমফিল্ডে আগের ম্যাচেগোল পাওয়া আলেক্সিস মাক অ্যালিস্টারের ওপর ভরসা রাখছেন স্কালোনি। তার সঙ্গে আছেন এনজো ফার্নান্দেজ, পারেদেস।

আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেবেন লিওনেল মেসি। অধিনায়কের সঙ্গে আছেন হুলিয়ান আলভারেজ। ৪-৪-২ ফর্মেশনে মাঠে নামছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

আর্জেন্টিনার চূড়ান্ত একাদশ

গোলকিপার: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ

রক্ষণভাগ: নাহুয়েল মোলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো

মিডফিল্ড: জিলিয়ানো সিমিওনে, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস মাক অ্যালিস্টার

ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি এবং হুলিয়ান আলভারেজ

ফ্রান্সের দম্ভ চূর্ণ করে ফাইনালে স্পেন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ
ফ্রান্সের দম্ভ চূর্ণ করে ফাইনালে স্পেন

এই দিনটির অপেক্ষা ঠিক ১৬ বছরের। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের শিরোপা মঞ্চে পা রেখেছিল স্পেনের সোনালী প্রজন্ম। সেবার নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় লা রোসারা। এরপর থেকেই শুরু অপেক্ষার। একে একে তিনটি বিশ্বকাপে ফুটবল দুনিয়া দেখেছে স্পেনের ফুটবলের পতন।

২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পাড় করা গেলেও বেশিদূর এগুতে পারেনি, শেষ-১৬ থেকেই ফিরতে হয়েছে। এবার লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে বদলে যাওয়া এক স্পেনকে দেখলো বিশ্ববাসী।

ফরাসি দম্ভ চূর্ণ করে তারা পা রেখেছে বিশ্বকাপের ফাইনালে। কিলিয়ান এমবাপ্পের দলকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে এবার বিশ্বজয়ের অপেক্ষায় ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।

টানা তিন ম্যাচে ফ্রান্সকে হারাল স্পেন। ২২ মিনিটে মিকেল ওয়ারসাবালের পেনাল্টি গোলে লিড নিয়েছিল স্পেন। সেই লিড ধরে রেখে বিরতিতে যায় তারা। ফ্রান্সের আগ্রাসি আক্রমণভাগকে মাঝমাঠ থেকেই অকার্যকর করার কৌশলে নেমেছিল স্পেন। রোদ্রির নেতৃত্ব স্প্যানিয়ার্ড মিডফিল্ড খেলেছে ছকে বাঁধা ফুটবল। সহযাত টিকিটাকা নয়, বল পজেশন ধরে রেখে তারা আক্রমণে গেছে। তাতেই দিশেহারা ফ্রান্স। চার ফরোয়ার্ড নিয়ে নেমেও তারা সুবিধা করতে পারেনি।

বিরতি থেকে ফিরে কেবল ঘর সামলানোয় মনযোগ দেয়নি স্পেন। বরং মাঝমাঠের আধিপত্য ধরে রেখে তারা চেয়েছে ব্যবধান বাড়াতে। ৫৮ মিনিটে ব্যবধান ঠিকই বাড়িয়ে নেয় দলটি। দানি ওলমোর সাজানো বলকে গোলের ঠিকানায় পাঠান পেদ্রো পারো। বাকিটা সময় একই তালে এবং একই কৌশলে খেলে ফরাসিদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়ে জয় তুলে নেয় স্পেন।

রেকর্ড ২৬তম বিশ্বকাপ ম্যাচে ফ্রান্সের ডাগআউটে দাঁড়ানো দিদিয়ের দেশম আরেকবার কৌশলের লড়াইয়ে হার মানলেন চৌকস লুইস দে লা ফুয়েন্তের কাছে। এর আগে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও নেশন্স লিগে হার মানা দেশম বিশ্বকাপের মঞ্চে ভাগ্য বদলাতে পারেননি। তাই ২০১৮ ও ২০২২ ফাইনাল খেলা ফরাসিদের এবার বাড়ি ফিরতে হচ্ছে আগেভাগেই।

সোমবার নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে হবে ফাইনাল। স্পেন এখন অপেক্ষায় থাকবে শিরোপা মঞ্চে তাদের প্রতিপক্ষের। বুধবার আটলান্টায় অপর সেমিফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।