খুঁজুন
সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩

লাল কার্ডের রাজা ব্রাজিল, হলুদ কার্ডে আর্জেন্টিনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
লাল কার্ডের রাজা ব্রাজিল, হলুদ কার্ডে আর্জেন্টিনা

বিশ্বমঞ্চে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখা দলের নাম ব্রাজিল। ১১৫টি ম্যাচ খেলে ১১টি লাল কার্ড নিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবার ওপরে রয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে আর্জেন্টিনা ও ক্যামেরুন; ৯টি করে লাল কার্ড নিয়ে তারা যৌথভাবে রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে।

এই তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে ক্যামেরুন। কারণ আর্জেন্টিনার চেয়ে ৬২টি ম্যাচ কম খেলেই তারা আলবিসেলেস্তেদের সমান লাল কার্ডের লজ্জায় পড়েছে। আর ব্রাজিলের চেয়ে ৮৯টি ম্যাচ কম খেলার পরও সেলেসাওদের চেয়ে মাত্র ২টি লাল কার্ডের ব্যবধানে পিছিয়ে আছে আফ্রিকার এই সিংহরা।

৮টি করে লাল কার্ড নিয়ে ঠিক পেছনে আছে নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও উরুগুয়ে। তবে এখানেও ম্যাচের ব্যবধানটা চোখে পড়ার মতো—ডাচরা ৮টি লাল কার্ড পেয়েছে ৫৬ ম্যাচে, উরুগুয়ে ৫৯ ম্যাচে আর ইতালির লেগেছে ৮৩টি ম্যাচ।

এরপর ৭টি করে লাল কার্ড নিয়ে তালিকায় রয়েছে জার্মানি ও মেক্সিকো। কিন্তু এখানেও পথটা সম্পূর্ণ ভিন্ন; জার্মানির যেখানে লেগেছে ১১৩টি ম্যাচ, মেক্সিকো সেখানে মাত্র ৬১ ম্যাচেই লাল কার্ডের এই কোটা পূরণ করেছে।

আর ৬টি করে লাল কার্ড নিয়ে শীর্ষ ১০-এর তালিকাটি শেষ করেছে ফ্রান্স ও পর্তুগাল। তবে ফরাসোরা যেখানে ৭৩টি ম্যাচ খেলে এই সংখ্যায় পৌঁছেছে, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর দেশ পর্তুগালের সেখানে লেগেছে মাত্র ৩৫টি ম্যাচ!

হলুদ কার্ডে শীর্ষে আর্জেন্টিনা:
সর্বকালের সবচেয়ে বেশি হলুদ কার্ড পাওয়া দলগুলোর তালিকাটা মূলত এমন সব দেশ দিয়ে ভরা, যাদের বিশ্বকাপের ইতিহাস জুড়েই রয়েছে নিয়মিত অংশগ্রহণ এবং টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার লম্বা পথচলা। এই তালিকায় ১১৮টি হলুদ কার্ড নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে বসে আছে জার্মানি, আর ১১১টি কার্ড নিয়ে তাদের ঠিক পরেই রয়েছে ব্রাজিল। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডস ১০৩টি কার্ড নিয়ে চতুর্থ এবং ইতালি ৯০টি কার্ড নিয়ে রয়েছে পঞ্চম স্থানে। তালিকার পরের জায়গাগুলোতে যথাক্রমে রয়েছে মেক্সিকো (৮৬তম স্থানে ৮৫টি কার্ড), ফ্রান্স (৭৭টি), দক্ষিণ কোরিয়া (৭৬টি), উরুগুয়ে (৭৪টি) এবং দশম স্থানে থাকা স্পেন (৬৬টি)।

শীর্ষ ১০ দেশের ঠিক বাইরে থাকা দলগুলোর মধ্যকার ব্যবধানটাও কিন্তু খুব বেশি নয়। ৭৪টি ম্যাচ থেকে ৬০টি হলুদ কার্ড নিয়ে ইংল্যান্ড রয়েছে ১১ নম্বরে। তবে তাদের ঠিক পেছনে থাকা ক্রোয়েশিয়া মাত্র ৩০টি ম্যাচ খেলেই পকেটে পুরেছে ৫৮টি হলুদ কার্ড; যার ফলে ম্যাচ প্রতি তাদের কার্ড দেখার গড় দাঁড়িয়েছে ১.৯৩—যা ইংল্যান্ডের চেয়ে অনেক বেশি।

আরো একটি প্রত্যাবর্তনের গল্প, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে মেসিরা ফাইনালে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:১১ পূর্বাহ্ণ
আরো একটি প্রত্যাবর্তনের গল্প, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে মেসিরা ফাইনালে

আরেকটি অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। গোলশূণ্য প্রথমার্ধের পর ৫৫ মিনিটে গর্ডনের গোলে লিড নিয়েছিল ইংল্যান্ড। এরপর থেকেই আর্জেন্টিনার মরিয়া চেষ্টা ম্যাচে ফেরার।

এই ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলের দরজা খোলা কঠিণ ছিল লিওনেল মেসির জন্য। সে চেষ্টা না করে বাঁ পায়ের জাদুকর মনযোগ দেন সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোয়।

শেষ পর্যন্ত ৮৫ মিনিটে মেসির অ্যাসিস্টে অসাধারণ গোলে ম্যাচে সমতা ফেরান এনসো ফের্নান্দেস। আর ৯ মিনিট যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বদলী নামা লাউতারো মার্তিনেস খুঁজে নেন জাল। এবারও ডান দিক থেকে মেসির ক্রসে নিখুঁত হেডে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো।

তাতেই হৃদয় ভেঙে যায় ইংলিশদের। দীর্ঘ ৬০ বছর পর শিরোপা জয়ের আশা শেষ হয়ে যায় হ্যারি কেইনদের।

অন্যদিকে চল্লিশের মেসির চোখে এখন টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় নিউ জার্সিতে ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ফ্রান্সকে হারানো স্পেন।

আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে মাঠে নামবে যারা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে মাঠে নামবে যারা

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে মাঠে নামছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচের শুরুর একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছেন আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। মিডফিল্ডে রদ্রিগো দে পলের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন জুলিয়ানো সিমিওনে। এছাড়া বাকি ১০জন সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা একাদশের শুরুতে ছিলেন।

গোলকিপিংয়ে যথারীতি আছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। রক্ষণে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। লেফট-ব্যাকে থাকছেন নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। আর রাইট-ব্যাকে নাহুয়েল মলিনা। মিডমফিল্ডে আগের ম্যাচেগোল পাওয়া আলেক্সিস মাক অ্যালিস্টারের ওপর ভরসা রাখছেন স্কালোনি। তার সঙ্গে আছেন এনজো ফার্নান্দেজ, পারেদেস।

আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেবেন লিওনেল মেসি। অধিনায়কের সঙ্গে আছেন হুলিয়ান আলভারেজ। ৪-৪-২ ফর্মেশনে মাঠে নামছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

আর্জেন্টিনার চূড়ান্ত একাদশ

গোলকিপার: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ

রক্ষণভাগ: নাহুয়েল মোলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো

মিডফিল্ড: জিলিয়ানো সিমিওনে, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস মাক অ্যালিস্টার

ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি এবং হুলিয়ান আলভারেজ

ফ্রান্সের দম্ভ চূর্ণ করে ফাইনালে স্পেন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ
ফ্রান্সের দম্ভ চূর্ণ করে ফাইনালে স্পেন

এই দিনটির অপেক্ষা ঠিক ১৬ বছরের। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের শিরোপা মঞ্চে পা রেখেছিল স্পেনের সোনালী প্রজন্ম। সেবার নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় লা রোসারা। এরপর থেকেই শুরু অপেক্ষার। একে একে তিনটি বিশ্বকাপে ফুটবল দুনিয়া দেখেছে স্পেনের ফুটবলের পতন।

২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পাড় করা গেলেও বেশিদূর এগুতে পারেনি, শেষ-১৬ থেকেই ফিরতে হয়েছে। এবার লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে বদলে যাওয়া এক স্পেনকে দেখলো বিশ্ববাসী।

ফরাসি দম্ভ চূর্ণ করে তারা পা রেখেছে বিশ্বকাপের ফাইনালে। কিলিয়ান এমবাপ্পের দলকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে এবার বিশ্বজয়ের অপেক্ষায় ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।

টানা তিন ম্যাচে ফ্রান্সকে হারাল স্পেন। ২২ মিনিটে মিকেল ওয়ারসাবালের পেনাল্টি গোলে লিড নিয়েছিল স্পেন। সেই লিড ধরে রেখে বিরতিতে যায় তারা। ফ্রান্সের আগ্রাসি আক্রমণভাগকে মাঝমাঠ থেকেই অকার্যকর করার কৌশলে নেমেছিল স্পেন। রোদ্রির নেতৃত্ব স্প্যানিয়ার্ড মিডফিল্ড খেলেছে ছকে বাঁধা ফুটবল। সহযাত টিকিটাকা নয়, বল পজেশন ধরে রেখে তারা আক্রমণে গেছে। তাতেই দিশেহারা ফ্রান্স। চার ফরোয়ার্ড নিয়ে নেমেও তারা সুবিধা করতে পারেনি।

বিরতি থেকে ফিরে কেবল ঘর সামলানোয় মনযোগ দেয়নি স্পেন। বরং মাঝমাঠের আধিপত্য ধরে রেখে তারা চেয়েছে ব্যবধান বাড়াতে। ৫৮ মিনিটে ব্যবধান ঠিকই বাড়িয়ে নেয় দলটি। দানি ওলমোর সাজানো বলকে গোলের ঠিকানায় পাঠান পেদ্রো পারো। বাকিটা সময় একই তালে এবং একই কৌশলে খেলে ফরাসিদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়ে জয় তুলে নেয় স্পেন।

রেকর্ড ২৬তম বিশ্বকাপ ম্যাচে ফ্রান্সের ডাগআউটে দাঁড়ানো দিদিয়ের দেশম আরেকবার কৌশলের লড়াইয়ে হার মানলেন চৌকস লুইস দে লা ফুয়েন্তের কাছে। এর আগে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও নেশন্স লিগে হার মানা দেশম বিশ্বকাপের মঞ্চে ভাগ্য বদলাতে পারেননি। তাই ২০১৮ ও ২০২২ ফাইনাল খেলা ফরাসিদের এবার বাড়ি ফিরতে হচ্ছে আগেভাগেই।

সোমবার নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে হবে ফাইনাল। স্পেন এখন অপেক্ষায় থাকবে শিরোপা মঞ্চে তাদের প্রতিপক্ষের। বুধবার আটলান্টায় অপর সেমিফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।