খুঁজুন
শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮ কার্তিক, ১৪৩৩

বিএনপিকে অভিনন্দন জা‌নালেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
বিএনপিকে অভিনন্দন জা‌নালেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় বিজয়ের জন্য বিএনপি ও তারেক রহমানকে অভিনন্দন জা‌নি‌য়ে‌ছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তি‌নি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সামা‌জিকমাধ্যম ফেসবু‌কের এক পো‌স্টে লি‌খে‌ছেন, আমি তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে তাদের বড় নির্বাচনী বিজয়ের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। এটি গণতন্ত্রের বিজয়। বাংলাদেশের জনগণ কঠিন চ্যালেঞ্জের সময় ব্যালট বাক্সে তা‌দের কথা বলেছে।

আনোয়ার ইব্রাহিম লি‌খে‌ছেন, আমি আমার প্রিয় বন্ধু ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছেও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, এই গুরুত্বপূর্ণ ক্রান্তিকালে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে চলা নিশ্চিত করার জন্য।

তি‌নি লি‌খে‌ছেন, আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন উদ্যম আনতে নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করার জন্য মালয়েশিয়া উন্মুখ।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি: শীর্ষ পদে আলোচনার কেন্দ্রে মিল্টন-জাহাঙ্গীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ণ
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি: শীর্ষ পদে আলোচনার কেন্দ্রে মিল্টন-জাহাঙ্গীর

ঢাকা: ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ। সভাপতি বা আহ্বায়ক এবং সাধারণ সম্পাদক পদে কারা আসছেন, তা নিয়ে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় অভিজ্ঞ ও পরিচিত কয়েকজন নেতার নাম উঠে এলেও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর।

দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় মিল্টনকে সভাপতি বা আহ্বায়ক এবং এসএম জাহাঙ্গীরকে সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এমনকি দলীয় একটি সূত্রের দাবি, এই দুই নেতাকে নিয়ে নেতৃত্বের সমীকরণ অনেকটাই এগিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপির আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না আসায় বিষয়টি এখনো সম্ভাবনার মধ্যেই রয়েছে।

দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দলের ভেতরে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক স্থবিরতা ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ কাটিয়ে মহানগর উত্তর বিএনপিকে সক্রিয় করতে সক্ষম নেতৃত্ব বেছে নেওয়াই হবে নতুন কমিটির অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

সভাপতি পদে আলোচনার কেন্দ্রে মিল্টন

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির শীর্ষ পদে সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নাম। মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি তিনি।

বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মিল্টন। দায়িত্ব নেওয়ার পর নগর পরিচ্ছন্নতা, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং নাগরিক সেবা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকার কারণে আলোচনায় এসেছেন তিনি। এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দলীয় পর্যায়ের আলোচনায় আরও উঠে এসেছে, আগামী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের সম্ভাব্য হিসাবেও মিল্টনের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মহানগর উত্তর বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে নগর প্রশাসক হিসেবে তাঁর কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী সমীকরণ- সব মিলিয়ে মিল্টনকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হলেও সভাপতি বা আহ্বায়ক পদে তাঁর নিয়োগ এখনো নিশ্চিত নয়।

আলোচনায় নীরব, আমিনুল ও মামুন হাসান

সভাপতি বা আহ্বায়ক পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব। জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক সভাপতি হিসেবে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক দুঃসময়ে ভূমিকার কারণে নতুন কমিটি ঘিরে তাঁর নাম আবারও আলোচনায় এসেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে বিএনপি জোটের শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন নীরব। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড পরিচালনার কারণে তাঁকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন কমিটিতে তাঁর সম্ভাব্য অবস্থান নিয়ে দলের ভেতরে নানা আলোচনা রয়েছে।

এ ছাড়া সদ্য সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নামও সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছে। মহানগর উত্তর বিএনপির নেতৃত্বে আবারও ফেরার বিষয়ে তাঁর আগ্রহ রয়েছে বলে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।

একই পদে সম্ভাব্য নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচনায় রয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুন হাসান। যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতার তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক মামলা থাকার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে সভাপতি পদে তাঁর নামও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সেগুন ও আঞ্জুর নামও আলোচনায়

সভাপতি বা আহ্বায়ক পদে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই ছাত্রনেতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার কারণে নেতৃত্বের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছেন তিনি। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততাও তাঁর পক্ষে বিবেচনায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

এ ছাড়া বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুন্সি বজলুল বাছিত আঞ্জুর নামও সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে সভাপতি বা আহ্বায়ক পদে একাধিক নেতার নাম সামনে এলেও কার পক্ষে শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত আসে, তা নির্ভর করছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মূল্যায়ন ও সাংগঠনিক সমীকরণের ওপর।

সাধারণ সম্পাদক পদে এগিয়ে এসএম জাহাঙ্গীর?

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর উত্তর বিএনপির সদ্য সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম জাহাঙ্গীর, সাবেক কমিশনার আনারুজ্জামান আনোয়ার, সাবেক সদস্যসচিব হাজী মোস্তফা জামান, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী ইউসুফ এবং সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক।

তবে আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্যে এসএম জাহাঙ্গীরের নামই তুলনামূলকভাবে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। মহানগর উত্তর বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং সংসদ সদস্য হিসেবে বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে নতুন কমিটিতে তাঁর দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

দলীয় একটি সূত্রের দাবি, সভাপতি বা আহ্বায়ক পদে মিল্টন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে এসএম জাহাঙ্গীরকে নিয়ে নেতৃত্বের একটি সমীকরণ তৈরি হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

কমিটি বিলুপ্তির পর নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষা

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সাম্প্রতিক কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত আসে।

কমিটি বিলুপ্তির পর থেকেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। দলটির নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছেন, নতুন কমিটিতে এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যাঁরা একদিকে সাংগঠনিক সংকট মোকাবিলা করতে পারবেন, অন্যদিকে তৃণমূলের মধ্যে ঐক্য ও সমন্বয় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবেন।

এ ক্ষেত্রে শুধু রাজনৈতিক জ্যেষ্ঠতা নয়, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং দলের ভেতরে গ্রহণযোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে মহানগর উত্তর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করার বিষয়টিও নতুন নেতৃত্বের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকবে।

শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে শীর্ষ পদ?

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি ঘিরে সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনা এখন তুঙ্গে। সভাপতি বা আহ্বায়ক পদে মিল্টন, নীরব, আমিনুল হক, মামুন হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন ও মুন্সি বজলুল বাছিত আঞ্জুর নাম আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে এসএম জাহাঙ্গীরকে ঘিরে আগ্রহ তুলনামূলক বেশি।

তবে আলোচনায় এগিয়ে থাকা আর দলীয় মনোনয়ন পাওয়া এক বিষয় নয়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, সাংগঠনিক বাস্তবতা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের গ্রহণযোগ্যতার ওপরই নির্ভর করবে নতুন কমিটির নেতৃত্ব নির্বাচন।

এখন দেখার বিষয়, নতুন কমিটিতে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে, নাকি সাংগঠনিক পুনর্গঠনের স্বার্থে নতুন সমীকরণ সামনে আসবে। বিএনপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত মিল্টন-জাহাঙ্গীরের সম্ভাব্য নেতৃত্বসহ আলোচনায় থাকা সব নামই থাকছে অনুমান ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের পর্যায়ে।

ইন্ডিয়ান এম্পায়ার ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন

নতুন অধ্যায় সূচনার অপেক্ষায় বাংলাদেশ-ভারত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
নতুন অধ্যায় সূচনার অপেক্ষায় বাংলাদেশ-ভারত

দিল্লিতে বন্ধুত্বের হাত মেলানোর অপেক্ষায় ভারত ও বাংলাদেশ। প্রতিবেশী দেশ দুটির সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচনার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে চলছে আলোচনা। সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে চলতি বছরের নভেম্বর মাস বিবেচনাধীন থাকলেও উভয়পক্ষই অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশের ইঙ্গিত দিয়েছে।

তারেক রহমানের জন্য ভারতে যাওয়ার আমন্ত্রণ উন্মুক্ত থাকলেও সফরটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ভৌগোলিক নৈকট্য, ইতিহাস ও বাণিজ্যে আবদ্ধ দুই প্রতিবেশী অবিশ্বাসের অস্থির সময় পেছনে ফেলে কার্যকর সম্পর্ক পুনর্নির্মাণ শুরু করতে পারবে কি না, এই হাত মেলানো সেই ইঙ্গিতই দেবে।

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে কূটনৈতিক পর্যায়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।

এর আগে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকা সফর করে মোদির ব্যক্তিগত সমবেদনা বার্তা পৌঁছে দেন। কূটনৈতিক সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিতে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামকে দিল্লিতে পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে পাঠাচ্ছে ঢাকা।

অন্যদিকে নয়াদিল্লিও তাদের একজন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তবে ভারতের নতুন দূত মনে করেন, শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের জন্য তাড়াহুড়ো না করে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ক্ষমতায় আসার পর প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক গতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিচ্ছেন তিনি। নির্বাচনের আগে গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারলে সামনে এগোনো সম্ভব নয়। প্রতিশোধের রাজনীতি দেশের কোনো উপকারে আসবে না।

সম্প্রতি দুর্গাপূজায় রংপুরের একটি মন্দিরে উপস্থিত হয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ সমানভাবে সব ধর্মের মানুষের। একই সঙ্গে বিএনপির ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আওতায় কোনো একক দেশের ওপর অতি-নির্ভরশীল না হয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে, যাকে ওয়াশিংটন ও বেইজিংও স্বাগত জানিয়েছে।

তবে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে টেকসই সম্পর্ক তৈরিতে বেশ কিছু স্পর্শকাতর ও অমীমাংসিত ইস্যু বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। তিস্তার পানিবণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও ভারতে শেখ হাসিনার উপস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের যেমন নিজস্ব উদ্বেগ রয়েছে, তেমনি ভারতের ক্ষেত্রেও আঞ্চলিক ভারসাম্য ও নিরাপত্তা প্রধান বিবেচ্য।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরনো কাঠামোর পুনরাবৃত্তি না করে পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা ও পারস্পরিক স্বার্থের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এগোতে হবে। দিল্লিতে দুই নেতার সম্ভাব্য সাক্ষাৎ কেবল কোনো আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি নয়, বরং একটি নতুন সম্পর্কের সূচনা মাত্র। তবে নতুন এই সূচনা দুই দেশের মানুষের কল্যাণে কার্যকর রূপ নেবে কি না তা পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।

রাস্তার পাশের পুরি-পেঁয়াজুর দোকানেও লাগবে নিবন্ধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
রাস্তার পাশের পুরি-পেঁয়াজুর দোকানেও লাগবে নিবন্ধন

দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং খাদ্য ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগামী ১ নভেম্বর থেকে নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন ও বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক হচ্ছে। নতুন নিয়মের আওতায় রাস্তার পাশের পিঠা, পুরি-পেঁয়াজুর দোকান থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য ব্যবসা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’-এর আওতায় এ ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) উদ্যোগে প্রণীত প্রবিধানমালাটি গত ১৬ জুলাই সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসায়ীদের ১ নভেম্বর থেকে প্রযোজ্য নিবন্ধন ও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।

নতুন বিধান অনুযায়ী, রাস্তার পাশের খাবারের দোকান ছাড়াও রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী, প্যাকেটজাত খাবারের উৎপাদক, খাদ্য সংরক্ষণাগার, কোল্ড স্টোরেজ এবং নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের এ ব্যবস্থার আওতায় আসতে হবে।

প্রবিধানমালায় নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে করার বিধান রাখা হয়েছে। তবে বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি ও বিপণনের ক্ষেত্রে ব্যবসার ধরন অনুযায়ী লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে। নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করলে তা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

নতুন ব্যবস্থায় খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এর ফলে উৎপাদক ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করা সহজ হবে। পাশাপাশি ভোক্তারা পণ্যের প্যাকেট থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে অভিযোগ জানাতে পারবেন। তবে শুধু নিবন্ধন নম্বর থাকলেই কোনো পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না; খাদ্যের মান বজায় রাখতে অন্যান্য প্রযোজ্য বিধিবিধানও মানতে হবে।

প্রবিধানমালায় বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের জন্য পৃথক অনুমোদনব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। শিশুদের ফর্মুলা দুধ, বয়স্ক ব্যক্তি ও নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য তৈরি বিশেষ খাদ্য, স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য এবং নিউট্রাসিউটিক্যালের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি ও বিপণনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য লাইসেন্স নিতে হবে।

এ ছাড়া জিনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত খাদ্য, জৈব খাদ্য, কিরণ-সম্পাতকৃত খাদ্য, অভিনব খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ বা ফোর্টিফায়েড খাদ্য এবং স্বাস্থ্য সহায়তা বা রোগের ঝুঁকি কমানোর দাবি-সংবলিত পণ্যের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী নিবন্ধন ও লাইসেন্স নিশ্চিত করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে শুধু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনই যথেষ্ট নয়; পণ্যের ধরন ও কার্যক্রম অনুযায়ী অতিরিক্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে।

লাইসেন্সের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের আয়তন অনুযায়ী ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রবিধানমালার তথ্য অনুযায়ী, ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্স ফি ১০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্স ফি ৬০ হাজার টাকা। আবেদন করার আগে ব্যবসায়ীদের প্রবিধানমালার তফসিল-১০-এ উল্লেখিত ফি ও নিজ নিজ ব্যবসার জন্য প্রযোজ্য শর্ত যাচাই করতে হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয় থেকে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আবেদন করা যাবে। পর্যায়ক্রমে শতভাগ অনলাইনে আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়মে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হবে।