বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিগত ১৬ বছরে উন্নয়নের নাম করে দেশের জনগণের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিএনপির জনসভায় এ কথা বলেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো সক্রিয়। দেশে-বিদেশে বসে যারা ষড়যন্ত্র করছেন, তাদের থেকে সচেতন থাকতে হবে।
দেশের মানুষ আগেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছে। আগামীতেও জনগণ ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।
এর আগে, দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে মঞ্চে উঠেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এটি বিএনপির প্রথম নির্বাচনী জনসভা।
এদিন বেলা পৌনে ১১টার দিকে সিলেট নগরীর ঐতিহাসিক সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে কুরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে সমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। জনসভাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের রাস্তাঘাটে অবস্থান নিয়েছেন নেতাকর্মীরা।
আমরা ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলের রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আজকে আমাদের আট দফা দাবি। মনে রাখবেন, এটা ৯ দফা হতে পারে, ১০ দফাও হতে পারে। আবার জাতির প্রয়োজনে যেকোনো সময় এটা এক দফায় পরিণত হতে পারে। এক দফায় যখন পরিণত হবে তখন কিন্তু পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আগে সম্প্রতি অতীত থেকে শিক্ষা নিন। শিক্ষা নিয়ে জনগণের দাবি মেনে নিন। যদি দাবি মানতে ব্যর্থ হন, তাহলে পরিষ্কার বলে দিচ্ছি কোনো চক্রান্ত কোনো কাজ হবে না।’
১১ দলের প্রথম লংমার্চ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এতে অনেকের মাথা গরম হয়ে গিয়েছে। মাথা গরমের কিছু লক্ষণ গত দুই দিন ধরে রাজধানীতে আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমরা অনুরোধ করব, হতাশ হয়ে মাথা গরম করবেন না। বরং জনতার দাবি মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা কোনো কিছুই পরোয়া করব না। কারণ, আমরা কোনো দলের দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। আমরা ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি।’
রাজধানীর মিরপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে নতুন কফি শপ ‘বিন্স অ্যান্ড ব্রু কফি’।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৭টা ৩০ মিনিটে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠানটির গ্র্যান্ড ওপেনিং। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পরিচিত ড্যান্সার, ফ্যাশন ডিজাইনার ও কোরিওগ্রাফার রুমি কারিম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রুমি কারিম ‘বিন্স অ্যান্ড ব্রু কফি’-এর সফলতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণীয় মুহূর্ত ছিল তার বিশেষ মোনাজাত। নতুন এই কফি শপের সফলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনায় দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে মোনাজাত করেন রুমি কারিম।
মোনাজাত শেষে রুমি কারিম নতুন কফি শপের পরিবেশ ও আয়োজনের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা যেন এখানে এসে কফি পান করেন, সময় কাটান এবং প্রতিষ্ঠানটির নতুন যাত্রার সঙ্গে যুক্ত হন এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
‘বিন্স অ্যান্ড ব্রু কফি’-এর উদ্যোক্তা ও প্রধান রাঁধুনি আজম খান। রান্নার জগতে অভিজ্ঞ এই রাঁধুনি বাংলাদেশের বিভিন্ন রান্নাবিষয়ক রিয়েলিটি শোতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিনের রান্নার অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা ও খাবারের প্রতি ভালোবাসাকে কাজে লাগিয়ে এবার নিজের উদ্যোগে কফি ও খাবারের নতুন এই ঠিকানা তৈরি করেছেন তিনি।
উদ্বোধনী আয়োজনে অতিথিদের জন্য ছিল প্রায় ১২০ পদের খাবারের আয়োজন। কফির পাশাপাশি বৈচিত্র্যময় খাবারের স্বাদ ও মানের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন উদ্যোক্তা আজম খান। তার পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে ‘বিন্স অ্যান্ড ব্রু কফি’ মিরপুরে খাবার ও কফিপ্রেমীদের জন্য নতুন একটি জায়গা হিসেবে পরিচিতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘বিন্স অ্যান্ড ব্রু কফি’ হাউজটি অবস্থিত রাজধানীর মিরপুর-১-এর শাহ আলী এলাকায়, ১/১ ও ১/২, রোড-২, ব্লক-জি, শাহ আলী, মিরপুর-১, ঢাকা (টেক-আউট রেস্টুরেন্টের ভবন) ঠিকানায়।
আজ ১৮ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব বাঁশ দিবস। পরিবেশ, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রায় বাঁশের বহুমুখী ব্যবহার ও গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতি বছর দিবসটি পালিত হয়। বিশ্ব বাঁশ সংস্থার উদ্যোগে ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালন করা হয়।
চলতি বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘Bamboo Beyond Borders’, যার অর্থ ‘সীমানা ছাড়িয়ে বাঁশ’।
গ্রামীণ জীবনের ঐতিহ্যবাহী এই উদ্ভিদ এখন পরিবেশবান্ধব শিল্প, নির্মাণ, খাদ্য ও জীবিকার অন্যতম সম্ভাবনাময় উপাদান হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশ্ব বাঁশ সংস্থার উদ্যোগে প্রতি বছর ১৮ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালিত হয়। ২০০৫ সালে World Bamboo Organization (WBO) প্রতিষ্ঠার পর বাঁশের সম্ভাবনা ও ব্যবহার নিয়ে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরির কার্যক্রম আরও জোরদার হয়। পরে ২০০৯ সালে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত অষ্টম বিশ্ব বাঁশ কংগ্রেসে ১৮ সেপ্টেম্বরকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব বাঁশ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
বাঁশ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আগ্রহ অবশ্য আরও পুরোনো। ১৯৯১ সালে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাইয়ে আন্তর্জাতিক বাঁশ কর্মশালায় একটি বৈশ্বিক বাঁশ সংগঠনের ধারণা সামনে আসে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ও সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সেই উদ্যোগ বিস্তৃত হয়।
দ্রুত বর্ধনশীল ও নবায়নযোগ্য উদ্ভিদ হিসেবে বাঁশকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ঘরবাড়ি নির্মাণ থেকে শুরু করে আসবাব, হস্তশিল্প, কাগজ ও বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরিতে বাঁশের ব্যবহার রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে বাঁশ এখন পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী ও বিভিন্ন শিল্পপণ্যের কাঁচামাল হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশ সংরক্ষণেও বাঁশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দ্রুত বেড়ে ওঠার কারণে বাঁশের বাগান ভূমিক্ষয় কমাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে বাঁশভিত্তিক শিল্প গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গেও বাঁশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ঘরের বেড়া, চাল, খুঁটি, ঝুড়ি, কুলা, ডালা, মাছ ধরার সরঞ্জামসহ নানা ধরনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরিতে বাঁশ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাঁশের তৈরি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প এখনো মানুষের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম মাধ্যম।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক নকশা, প্রযুক্তি ও বাজারব্যবস্থার সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্পের সমন্বয় করা গেলে এ খাতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব বিকল্প পণ্য হিসেবে বাঁশের ব্যবহার বাড়ানো গেলে প্লাস্টিক ও অন্যান্য দূষণকারী উপকরণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন
Array