খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ, ১৪৩৩

একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করবেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করবেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঈদের নামাজ আদায় করবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি এখানে ঈদের নামাজ আদায় করবেন এবং প্রধানমন্ত্রীও এতে অংশ নেয়ার সম্মতি দিয়েছেন। ফলে একসঙ্গে দুই ভিভিআইপিকে নামাজ আদায় করতে দেখা যাবে।

তিনি আরও জানান, জাতীয় ঈদগাহে নারীসহ প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঈদগাহের সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন।

এদিকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল সাড়ে ৮টায় তাদের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করবেন বলে সম্মতি দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ের জন্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

এর আগে, গত সোমবার (১৬ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। তিনি জানান, বৈরি আবহাওয়ার কারণে জাতীয় ঈদগাহে জামাত আয়োজন সম্ভব না হলে, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৯টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক

‘পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ’ উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি আমাদের জীবনে প্রতি বছর ফিরে আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে। নতুন বছরের আগমনে পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বাংলা ১৪৩২ সালকে বিদায় জানিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ কে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে আমাদের এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্পর্ক নিবিড়। তথ্যপ্রযুক্তির এই সুবর্ণ সময়েও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কৃষক তার ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করে। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়। বৈশাখী মেলা, বৈশাখী শোভাযাত্রা, হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং আমাদেরকে ঐক্যবোধে উজ্জীবিত করে। বাংলা নববর্ষ আমাদের সামনে এনেছে নতুন প্রত্যাশা ও নতুন সম্ভাবনা। প্রকৃতির নবজাগরণ আর মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলেমিশে সৃষ্টি করে এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যাত্রা শুরু করে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার। দায়িত্ব নিয়েই এই সরকার রাষ্ট্র এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু এবং ইমাম-মোয়াজ্জিন-খতিব ও অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষক, কৃষি এবং কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে শুরু হলো কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি। আগামী দিনগুলোতে এই কৃষক কার্ড বাংলাদেশের কৃষক ও কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে—বাংলা নববর্ষে এটিই হোক আমাদের প্রত্যয় ও প্রত্যাশা।

তিনি আরও বলেন, আমি আশা করি, বাংলাদেশের জনগণের যার যার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। বিশ্ব আজ নানা সংকট ও সংঘাতে বিপর্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি—এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে আমরা অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি। নববর্ষ সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। দেশবাসীকে আবারও জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।

 

দেশবাসী ও প্রবাসীদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন জামায়াত আমির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ
দেশবাসী ও প্রবাসীদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন জামায়াত আমির

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসী ও প্রবাসী ভাই-বোনদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। (সোমবার, ১৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান।

বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, মহাকালের পরিক্রমায় আমাদের দুয়ারে সমাগত আরও একটি বাংলা নববর্ষ। এবারের নববর্ষ আমাদের জীবনে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে এসেছে। বাংলা নববর্ষে দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি ভাই-বোনদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমে প্রিয় দেশ ও জাতিকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করার আপোসহীন লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে জনগণের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তিত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। আসুন, সবার জন্য ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক মুক্তি ও মানবিক সমাজ গড়ার লক্ষ্যে একধাপ এগিয়ে যাই। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

জ্বালানি সংকটের মধ্যেই ৫০ গাড়ি নিয়ে মহড়া দিয়ে পদ হারালেন ছাত্রদল নেতা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
জ্বালানি সংকটের মধ্যেই ৫০ গাড়ি নিয়ে মহড়া দিয়ে পদ হারালেন ছাত্রদল নেতা

জ্বালানি সংকটের মধ্যেই নাটোরের গুরুদাসপুরে ৫০ গাড়ির বহর নিয়ে মহড়া দেওয়ার ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রামানিককে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গির আলম স্বাক্ষরিত পত্রে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা জানান দিতেই শোডাউন দেন মাসুদ রানা। ছাত্রদল নেতার গাড়ি বহরের এই শোডাউন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। শোডাউনে যোগান দেওয়া অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। নানা সমালোচনার মুখে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নজরে সোমবার তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এর আগে রোববার বিকেলে ৫০টি মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার নিয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারে গিয়ে শেষ হয় সেই শোডাউন। এতে অংশ নেয় অন্তত চারশ’ নেতাকর্মী। পরে শোডাউনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় নীতির বিপরীতে বিপুল পরিমাণ তেল পুড়িয়ে এমন কর্মকাণ্ডে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সদ্য বহিষ্কৃত নেতা মাসুদ রানা ৫০টি যানবাহন অংশ নেওয়ার কথা নিশ্চিত করলেও ব্যয়ের উৎস নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বলেন, শোডাউনের গাড়িগুলো জ্বালানি তেলে চালিত নয়। বেশিরভাগই এলপিজি ও সিএনজিচালিত গাড়ি। দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েও কোনো মন্তব্য করেননি।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, মাসুদ রানা দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজের জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যেই তিনি এই গাড়ি বহরের আয়োজন করেন।

নাটোর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজন বলেন, ছাত্রদল নেতা মাসুদ রানা গাড়ি বহরের বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নজরে এসেছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট কারণে সোমবার ওই নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।