খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

শিল্পসাহিত্য চর্চায় রাজনীতিকীকরণ সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয়: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:২১ অপরাহ্ণ
শিল্পসাহিত্য চর্চায় রাজনীতিকীকরণ সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয়: প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্পসাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ করা কখনই সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে আয়োজিত একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ উপলব্ধি থেকেই স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একুশে পদক প্রবর্তন করেছিলেন। এ পদক শুধু একটি সম্মাননা নয়, বরং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনসহ দেশের ঐতিহাসিক ঘটনাবলির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা ও গবেষণায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের সমাজের সামনে তুলে ধরার একটি অনন্য উদ্যোগ।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৬ সালে মাত্র তিনটি বিষয়ে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এর যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্তত ১২টি ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। এটিকে তিনি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক অর্জন হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পসাহিত্য চর্চার ধারা আরও বিকশিত হওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষা, গবেষণা এবং সংস্কৃতিচর্চা জোরদারে রাষ্ট্র ও সরকারের দায়িত্ব অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

‘আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষা-গবেষণা ও শিল্প-সাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ করা কখনই সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয়। শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব শাখায় যাতে দেশ এগিয়ে যেতে পারে, সে লক্ষ্যে নৈতিক মানসম্পন্ন একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার কাজ করছে। আমাদের এ যাত্রায় দেশের বিজ্ঞজনদের দিকনির্দেশনা অবশ্যই প্রত্যাশিত।’

জাতীয় ইতিহাসে ফেব্রুয়ারি মাসের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি আমাদের আত্মপরিচয়ের স্মারক। বলা যায়, আমাদের সংস্কৃতিচেতনার প্রাণপ্রবাহ একুশে ফেব্রুয়ারি। একুশে ফেব্রুয়ারি একদিকে মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, অন্যদিকে জালেমের বিরুদ্ধে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। সুতরাং ফেব্রুয়ারি মানেই আত্মপরিচয় উপলব্ধির মাস— আমাদের শেকড় সন্ধানী মাস।’

প্রতি বছরের মতো এ বছরও দেশের জ্ঞানী-গুণী কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও ভাষাসংগ্রামীদের একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্ঞানী গুণীদের কর্মময় জীবনের সঙ্গে আপামর জনগণের পরিচয় করিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।

তিনি বলেন, ‘একুশ আমাদের অবিনাশী চেতনা, স্বাধিকার অর্জনের বীজমন্ত্র। এবার আমরা ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর অতিক্রম করে ৭৫ বছরে পদার্পণ করেছি। অমর একুশের ভাষাশহীদদের স্মরণে প্রবর্তিত আজকের একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে ভাষাসংগ্রামীদের স্মরণ করছি। আল্লাহ তাদের মৃত্যুকে শহিদি মৃত্যু হিসেবে কবুল করুন।’

এ বছর একুশে পদকে ভূষিত সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সৃজনমুখর জীবন আরও দীর্ঘ হোক, কল্যাণময় হোক— আল্লাহর দরবারে সেই প্রার্থনা করছি।’

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য একদিন বিশ্বসাহিত্যের জগতে উজ্জ্বলভাবে আলো ছড়াবে— এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

নতুন ২ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত সরকারের, একদিন থাকবে ছুটি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
নতুন ২ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত সরকারের, একদিন থাকবে ছুটি

৬ জুলাই পল্লী উন্নয়ন দিবস এবং ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

তিনি বলেন, ৬ জুলাই পল্লী উন্নয়ন দিবস হিসেবে পালন করা হবে। তবে এদিন সরকারি ছুটি থাকবে না। এছাড়া ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি ছুটি হিসেবে দিনটি পালিত হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে সচিব বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা, ২০২৫ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সোলার পাওয়ার দিয়ে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে।

এ সময় সরকার মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী মো. আরিফুল হক চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানমসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সিলেটে একসঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে ১২৬ তরুণ-তরুণী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
সিলেটে একসঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে ১২৬ তরুণ-তরুণী

সম্পূর্ণ বিনা খরচে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন হতদরিদ্র, এতিম ও অসহায় ১২৬ তরুণ-তরুণী। বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) সিলেটের একটি কনভেনশন হলে এসব বিবাহ সম্পন্ন হয়।

প্রাপ্তবয়স্ক হলেও অর্থাভাবে এই ১২৬ জন তরুণ-তরুণীর বিয়ের পিঁড়িতে বসা হচ্ছিল না। তাদের সংসার সাজাতে মহাধুমধামে গণবিবাহের আয়োজন করে স্থানীয় মানবিক সংগঠন সিডস অব ব্লেসিংস।

সম্ভ্রান্ত পরিবারের স্বপ্নময় বিয়ের মতো বর্ণিল, উৎসবমুখর আর ঝমকালো আয়োজনে এসব বিয়ে হয়। খাবার-দাবারসহ কোনো কিছুর কমতি ছিল না এই গণবিয়েতে। যুক্তরাজ্য প্রবাসী তরুণদের মানবিক সংগঠন সিডস অব সাদাকাহ’র অর্থায়নে এই গণবিবাহ সম্পন্ন হয়।

উপহার হিসেবে নবদম্পতিগুলোর নতুন জীবনকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে প্রায় দুই লক্ষ টাকা সমমূল্যের ৭৭ প্রকারের গৃহস্থালি সামগ্রী দেওয়া হয়।

সিডস অব সাদাকাহ সংগঠনের প্রধান মো. জয়নুল আবেদিন বলেন, আমাদের লক্ষ্য সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষদের জন্য আনন্দ এবং স্বনির্ভরতার পথ তৈরি করা। আজকের এই আয়োজন তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

সিডস অব সাদাকাহ’র আয়োজক ওরকাতুল জান্নাত বলেন, নতুন জীবনের শুরুতে এই সঙ্গ ও সহায়তা তাদের মনে নতুন আশা ও উদ্দীপনা জাগাবে।

সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন আয়োজকরা।

উজিরপুর ছাত্রদলে বহিষ্কার নিয়ে বিতর্ক, ৯ দিনেই পদে ফেরত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
উজিরপুর ছাত্রদলে বহিষ্কার নিয়ে বিতর্ক, ৯ দিনেই পদে ফেরত

বরিশালের উজিরপুর উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে ‘বহিষ্কার বাণিজ্য’র অভিযোগ উঠেছে। টাকার বিনিময়ে বহিষ্কার এবং পরে আবার অর্থের বিনিময়ে স্বপদে ফেরানোর মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

সম্প্রতি সাতলা ইউনিয়নে মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাতলা ইউনিয়নে ছাত্রদলের এক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। ৬ এপ্রিল রাতে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তারেক সুজন ও সদস্যসচিব মুরাদ হাওলাদার রনি স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বহিষ্কৃত রাফিন খন্দকার রাহাত সাতলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

এরপর ১৫ এপ্রিল তাকে আবার একই পদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যা নিয়ে সংগঠনের ভেতরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা এ ঘটনাকে ‘বহিষ্কার বাণিজ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সদস্য সচিব মুরাদ হাওলাদার রনি বলেন, “দলীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধে তাকে পুনর্বহাল করা হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, বিষয়টি রাজনৈতিক নয় বরং পারিবারিক।

তবে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা বলেন, “আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই উপজেলা ছাত্রদলের দুই নেতা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তারেক সুজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।