কর্মসংস্থান ও দুর্নীতিবিরোধী কঠোরতার অঙ্গীকার তারেক রহমানের
নিরাপত্তা নিশ্চিত, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স এবং তরুণ-নারী-কৃষককেন্দ্রিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (২৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের পোলোগ্রাউন্ড ময়দানে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব প্রতিশ্রুতি দেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বাস্তব পরিবর্তন নিশ্চিত করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, শুধুমাত্র সমালোচনার রাজনীতি করে জনগণের উপকার হয় না, প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা ও সুশাসন।
চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। এ সময় তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা, তার শাহাদাত এবং খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্থানের ইতিহাস স্মরণ করেন।
তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষ স্পষ্টভাবে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে। সেই পরিবর্তনের অর্থ শুধু সরকার বদল নয় বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।
তারেক রহমান জানান, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই তরুণ। এ বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি বিএনপির অগ্রাধিকার। চট্টগ্রামের ইপিজেড ও কেপিজেডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে নতুন ইপিজেড স্থাপন ও শিল্পাঞ্চল সম্প্রসারণের মাধ্যমে লাখো তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, নিরাপদ পরিবেশ। বিএনপি ক্ষমতায় এলে ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
স্বাস্থ্যখাতে বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বড় বড় হাসপাতালের প্রতিশ্রুতির চেয়ে গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া জরুরি। এ লক্ষ্যে এক লাখ হেলথকেয়ার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
নারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী। তাদের কর্মহীন রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিএনপি সরকার গঠন করলে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেয়া হবে।
কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে হবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ঋণসহ নানা সুবিধা দেয়া হবে।
চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা বড় সমস্যা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি চালু করে জলাবদ্ধতা ও বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির প্রশ্নে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। অপরাধী যে দলেরই হোক, আইনের আওতায় আনা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ছাড়া কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাই সফল হতে পারে না।
নির্বাচন ঘিরে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে তারেক রহমান ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভোটের অধিকার রক্ষায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে এবং নির্বাচনের দিন সকাল থেকে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দিতে হবে।
সবশেষে তারেক রহমান বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এ নীতিকে সামনে রেখে গণতন্ত্রপন্থী সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে সরকার গঠনের সুযোগ দিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন
Array