খুঁজুন
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৭ ভাদ্র, ১৪৩৩

তাসনিম জারার নির্বাচনি ইশতেহারে কী আছে?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ
তাসনিম জারার নির্বাচনি ইশতেহারে কী আছে?

ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা নির্বাচনি ইশতেহার-২০২৬ প্রকাশ করেছেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) তার ভেরিয়ায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এই ইশতেহার প্রকাশ করেন।

পাঠকদের জন্য ডা. তাসনিম জারা নির্বাচনি ইশতেহার-২০২৬ হুবহু নিচে দেওয়া হলো-

নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬
ডা. তাসনিম জারা | ঢাকা ৯ | মার্কা ফুটবল

ঢাকা-৯ এই শহরের প্রাণ, অথচ আমাদের সাথেই বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়। আমরা গুলশান-বনানীর সমান ট্যাক্স দেই, সমান বিল দেই, কিন্তু সেবা পাই তৃতীয় শ্রেণীর। ভোটের সময় নেতারা আসেন, ভোট নেন, তারপর উধাও হয়ে যান। রাষ্ট্র আমাদের কেবল ‘রাজস্ব আদায়ের উৎস’ মনে করে। টাকা নেওয়ার সময় আছেন, কিন্তু সেবা দেওয়ার সময় নেই।

আমি পেশাদার রাজনীতিবিদ নই, আমি এই এলাকার মেয়ে। আমার কথা পরিষ্কার: ঢাকা ৯-কে অবহেলার দিন শেষ। আমরা সমান ট্যাক্স দেই, আমাদের অধিকারও সমান। আমাদের ন্যায্য পাওনা এবার আমরা বুঝে নিবো।

১. গ্যাস, রাস্তা ও জলাবদ্ধতা: বাসযোগ্য ঢাকা-৯ চাই
সমস্যা: প্রতি মাসে আমরা গ্যাসের জন্য বিল দিচ্ছি। কিন্তু চুলা জ্বালালে কী বের হয়? বাতাস। গ্যাস নেই, কিন্তু বিল ঠিকই দিতে হচ্ছে। এটা একধরনের প্রতারণা। এর সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে আমাদের জিম্মি করে ফেলে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য অব্যবস্থাপনা। যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে বাসার পাশে ও রাস্তায় দুর্গন্ধে টেকা দায়। রাস্তাগুলো বছরের পর বছর ভাঙ্গাচোরা বা কাজ চলমান অবস্থায় পড়ে থাকে।
সমাধান:
ক) ন্যায্য বিল: সংসদে আমার প্রথম কাজ হবে “সেবা না দিলে বিল নেই” (No Service, No Bill) নীতির জন্য খসড়া আইন প্রস্তাব করা এবং চাপ সৃষ্টি করা। তিতাস যদি গ্যাস দিতে না পারে, তারা টাকা নিতে পারবে না। গ্যাস না থাকলে মাসিক বিল মওকুফ করার প্রস্তাব থাকবে এই বিলে।
খ) সিন্ডিকেট ভাঙবো: পাইপলাইন গ্যাসের ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকারকে এই এলাকায় ভর্তুকি মূল্যে বা ন্যায্যদামে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাধ্য করব। সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে চাপ দেব।
গ) জলাবদ্ধতা নিরসন: ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বর্ষার আগেই খাল ও নর্দমা পরিষ্কার নিশ্চিত করতে আমি ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশনের ওপর কঠোর নজরদারি রাখব।
ঘ) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পার্ক: ঘরের সামনে বা রাস্তায় ময়লার স্তূপ জমতে দেওয়া হবে না। আধুনিক বর্জ্য অপসারণ (Secondary Transfer Station) ব্যাবস্থা নিশ্চিত করতে ও এলাকার পার্কগুলোতে হাঁটার পরিবেশ উন্নত করতে সিটি কর্পোরেশন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয়ে কাজ করবো।
ঙ) সমন্বয় ও জবাবদিহিতা: রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখা চলবে না। ওয়াসা বা সিটি কর্পোরেশন, যে-ই রাস্তা কাটবে, কাজ শেষ করার নির্দিষ্ট ‘ডেডলাইন’ থাকবে। ডেডলাইন মিস করলে ঠিকাদারকে জরিমানা গুনতে হবে।

২. স্বাস্থ্য: চিকিৎসায় অবহেলা আর মানব না
সমস্যা: ঢাকা-৯ এলাকায় আমরা ৭-৮ লাখ মানুষ বাস করি, অথচ আমাদের জন্য বড় হাসপাতাল মাত্র একটি, মুগদা মেডিক্যাল। এটা একটা নিষ্ঠুর কৌতুক। ৫০০ বেডের এই হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ডাক্তার-নার্সরা অমানবিক চাপে কাজ করছেন, আর রোগীরা সেবা না পেয়ে ধুঁকছেন। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো ডেঙ্গু। প্রতি বছর বর্ষা এলেই লোক দেখানো মশার ওষুধ ছিটানো হয়, অথচ আমাদের প্রিয়জনরা মারা যায়।
সমাধান: একজন ডাক্তারের হাতেই সমাধান হবে ঢাকা-৯ এর স্বাস্থ্য সমস্যা। আমি একজন ডাক্তার। আমার দেশ-বিদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতার আলোকে আমি এই সমস্যা সমাধানে কাজ করবো।
ক) মুগদা হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সচল রাখতে আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করব এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনব। এটি যেন একটি আদর্শ সেবাকেন্দ্র হয়, সেই উদ্যোগ আমি নেব।
খ) কমিউনিটি ক্লিনিক হবে ‘মিনি-হাসপাতাল’: পাড়ার ক্লিনিকগুলোকে আধুনিকায়নে বিশেষ বরাদ্দ আনার উদ্যোগ নেব, যাতে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বড় হাসপাতালে ছুটতে না হয়।
গ) ডেঙ্গু টাস্কফোর্স (সারা বছর): বৃষ্টি আসার পর ওষুধ ছিটিয়ে লাভ নেই। আমরা একটি ‘স্থায়ী মশা নিধন স্কোয়াড’ গঠন করবো যারা সারা বছর ড্রেন পরিষ্কার ও লার্ভা নিধনের কাজ করবে। ডেঙ্গু মৌসুম আসার আগেই আমরা মশা মারব।
ঘ) নারী স্বাস্থ্য: গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং হাসপাতাল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নারী-বান্ধব টয়লেট ও ব্রেস্টফিডিং নিশ্চিত করতে কাজ করবো।

৩. নিরাপত্তা: মাদক সিন্ডিকেট হটিয়ে রাস্তা হবে জনগণের
সমস্যা: আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট এখন সাধারণ মানুষের নেই, চলে গেছে মাদক সিন্ডিকেটের দখলে। সন্ধ্যার পর খিলগাঁও বা বাসাবোর অলিগলি দিয়ে মা-বোনেরা হাঁটতে ভয় পান। যে শহর নারীকে নিরাপত্তা দিতে পারে না, সে শহর উন্নত হতে পারে না। আমরা ট্যাক্স দিই রাস্তার বাতির জন্য, আর সেই বাতি নষ্ট থাকে যাতে অপরাধীরা অন্ধকারে রাজত্ব করতে পারে।
সমাধান:
ক) ‘নিরাপদ করিডোর’: স্কুল, কলেজ এবং গার্মেন্টসের রাস্তায় আমি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিসি ক্যামেরা এবং উচ্চ-ক্ষমতার ল্যাম্পপোস্ট বসাব। অন্ধকার রাস্তা মানেই অপরাধের আখড়া। আমরা ঢাকা-৯ এর কোনো রাস্তা অন্ধকার থাকতে দেব না।
খ) মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ: মাদকাসক্তদের আমরা ঘৃণা করব না, তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। কিন্তু যারা মাদক ব্যবসা করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে, তাদের আমরা এক বিন্দু ছাড় দেব না। প্রশাসনকে সাথে নিয়ে এলাকা মাদক-ব্যবসায়ী মুক্ত করব।
গ) নারীবান্ধব পরিবহন: বাসে নারীদের সিট পাওয়া যুদ্ধজয়ের মতো। আমি পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের সাথে বসে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যাবস্থা তৈরি করব।

৪. শিক্ষা: আমাদের সন্তানদের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ হোক
সমস্যা: অপরিকল্পিত কারিকুলাম আর ঘন ঘন নীতি পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের ‘গিনিপিগ’ বানিয়ে ফেলেছে। তার ওপর আছে স্কুলের ‘ভর্তি বাণিজ্য’। টাকা বা সুপারিশ ছাড়া ভালো স্কুলে ভর্তি হওয়া যায় না। এই দুর্নীতি আমাদের মেধাবী সন্তানদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিচ্ছে।
সমাধান: আমি বিশ্বমানের শিক্ষা লাভ করার সুযোগ পেয়েছি। আমি চাই আমার এলাকার প্রতিটি সন্তান যেন বিশ্বমানের শিক্ষার সুযোগ পায়। তা নিশ্চিত করার জন‍্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
ক) এমপির কোনো কোটা থাকবে না: আমি কথা দিচ্ছি, স্কুল ভর্তিতে এমপির কোনো সুপারিশ বা কোটা থাকবে না। ভর্তি বাণিজ্য আমি কঠোর হাতে দমন করব। মেধা ও স্বচ্ছতাই হবে একমাত্র যোগ্যতা।
খ) স্কুল হবে ল্যাবরেটরি: আমার বরাদ্দের টাকা দিয়ে আমি স্কুলগুলোতে আধুনিক সায়েন্স ল্যাব, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব এবং কোডিং শেখানোর ব্যবস্থা করব। এতে আমাদের ছেলেমেয়েরা ফ্রিল্যান্সিং বা উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে পারবে। প্রত্যেকটি স্কুলে লাইব্রেরি গড়ে তোলা হবে যাতে আমাদের শিশু কিশোরদের মানসিক বিকাশ যথাযথভাবে ঘটে।
গ) স্মার্ট প্রজন্ম: শুধু বইয়ের পড়া নয়, মানসিক স্বাস্থ্য, সহ-শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শেখার ওপর জোর দেব। আমাদের তরুণরা যেন বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করার উপযুক্ত হয়ে গড়ে উঠতে পারে।
ঘ) অভিভাবক-শিক্ষক ফোরাম: শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সংসদে লড়ব। একই সাথে, স্কুলে বুলিং বা হয়রানি বন্ধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করব। স্কুলগুলোতে যেন অভিভাবক-শিক্ষক ফোরাম তৈরি হয় এবং তা যথাযথ ভাবে কাজ করে তা নিশ্চিত করব।

৫. অর্থনীতি ও জীবিকা: মেধা আমাদের সবার, সুযোগ কেন কেবল ধনীদের?
সমস্যা: আমাদের অনেক তরুণ-তরুণীরা বেকার, কারণ সিস্টেম তাদের পক্ষে নেই। তাদের মেধা আছে, কিন্তু পুঁজি নেই। রাষ্ট্র কেবল বড় শিল্পপতিদের ঋণ মওকুফ করে, কিন্তু আমাদের ছোট ব্যবসায়ী বা নতুন উদ্যোক্তারা ব্যাংকের বারান্দায় ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে যায়। আমাদের মায়েরা কাজ করতে চান, কিন্তু ডে-কেয়ার সেন্টার না থাকায় সন্তানকে ঘরে রেখে তারা কাজে যেতে পারেন না। এটা অর্থনীতির ব্যর্থতা।
সমাধান:
ক) ‘স্টার্ট-আপ ঢাকা-৯’ ফান্ড: আমি এমপি হলে আমার বিশেষ বরাদ্দ থেকে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ‘সিডিং ফান্ড’ বা প্রাথমিক পুঁজির ব্যবস্থা করব। জামানত ছাড়া সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার জন্য আমি ব্যাংকের সাথে লড়াই করব।
খ) কর্মজীবী মায়েদের মুক্তি: প্রতিটি ওয়ার্ডে সরকারি খরচে বা ভর্তুকি দিয়ে ‘কমিউনিটি ডে-কেয়ার সেন্টার’ চালু করব। যাতে মায়েরা নিশ্চিন্তে কাজে যেতে পারেন।
গ) শ্রমিকের মর্যাদা: গৃহকর্মী থেকে শুরু করে অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক, সবার জন্য ‘ন্যায্য মজুরি’ ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমি সংসদে কথা বলব। কেউ যেন তাদের দুর্বলতার সুযোগ না নিতে পারে।
ঘ) স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য ই-কমার্স প্রশিক্ষণ ও অনলাইন মার্কেট অ্যাক্সেস নিশ্চিত করবো। যেন তারা শুধু দোকানে নয়, মোবাইলেও ব্যবসা করতে পারেন। আরও বেশী কাস্টোমারকে আকৃষ্ট করতে পারেন।

৬. এমপির জবাবদিহিতা: আমি ‘অতিথি পাখি’ নই, আমি আপনাদের ঘরের মেয়ে
সমস্যা: ভোটের আগে নেতারা পায়ে ধরেন, আর ভোটের পরে তাদের টিকিটিও দেখা যায় না। এমপি সাহেব থাকেন গুলশানে বা সংসদে, আর আপনারা থাকেন সমস্যায়। এমপিকে পাওয়া যেন ভাগ্যের ব্যাপার। এই সংস্কৃতি আর কতদিন?
সমাধান:
ক) এলাকায় স্থায়ী কার্যালয়: আমি নির্বাচিত হওয়ার এক মাসের মধ্যে এলাকার প্রাণকেন্দ্রে আমার স্থায়ী অফিস চালু করব। কর্মজীবীদের সুবিধার্থে এটি সন্ধ্যায়ও খোলা থাকবে। আমি এবং আমার অফিসের স্টাফরা আপনাদের জানানো সমস্ত সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করবো।
খ) ওপেন ড্যাশবোর্ড: আপনার অভিযোগ কোনো ফাইলে চাপা পড়ে থাকবে না। আমরা ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড করব, যেখানে আপনারা দেখতে পাবেন আপনার অভিযোগের বর্তমান অবস্থা কী।
গ) কোনো প্রটোকল নয়: আমাদের সাথে কথা বলতে কোনো “ভাই” বা “নেতা” ধরার প্রয়োজন পড়বে না।
আমার এলাকাবাসী, আপনাদেরকে একটা কথা বিশেষভাবে বলতে চাই। আমি কোনো পেশাদার রাজনীতিবিদ নই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর স্বচ্ছভাবে রাজনীতি করার ও দেশ গড়ার একটা সুযোগ এসেছে তাই রাজনীতিতে এসেছি। আমার এই ইশতেহার কোনো গতানুগতিক ‘ফাঁকা বুলি’ নয়। এটি আপনাদের সাথে আমার চুক্তি। আমি যা লিখেছি, তা কীভাবে বাস্তবায়ন করব, সেই পরিকল্পনা করেই মাঠে নেমেছি।
আপনারা অনেক নেতা দেখেছেন, অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছেন। এবার একজন ডাক্তারকে সুযোগ দিন, যে ডাক্তার জানে রোগ কোথায় আর ওষুধ কোনটা, যে ডাক্তার কথা রাখে, যে ডাক্তার বিপদে পাশে এসে দাঁড়ায়। এমন একজন শিক্ষিত সন্তানকে সুযোগ দিন, যে আপনাদের মাথা নত হতে দেবে না।

ঢাকা ৯ এর ভাগ্য বদলাতে, গ্যাস-পানির অধিকার আদায় করতে এবং মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়তে, আসন্ন নির্বাচনে ‘ফুটবল’ মার্কায় ভোট দিন। আপনারা আমার শক্তি হোন, আমি আপনাদের কণ্ঠস্বর হব। বিজয় আমাদের হবেই, ইনশাআল্লাহ।

প্রথমবার মিউজিক ভিডিওতে সেই এডলফ খান, প্রকাশ্যে এলো ভিডিও

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
প্রথমবার মিউজিক ভিডিওতে সেই এডলফ খান, প্রকাশ্যে এলো ভিডিও

দেশের কোরিওগ্রাফি অঙ্গনে পরিচিত নাম এডলফ খান। দীর্ঘদিন কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজ করার পর এবার ক্যামেরার সামনে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন তিনি। প্রথমবারের মতো মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছেন এই কোরিওগ্রাফার। মিউজিক ভিডিওটির গানের শিরোনাম ‘আমি তো সবই জানি’।

প্রায় দুই মাস পর ক্যামেরার সামনে এসে নিজের নতুন কাজের ট্রেলার প্রকাশ করেন এডলফ খান। ট্রেলার প্রকাশের পরদিনই ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি দেওয়া হয় পুরো গানটি। প্রথম মিউজিক ভিডিও হওয়ায় কাজটি নিয়ে এডলফ খানের ভক্তদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ।

‘আমি তো সবই জানি’ মিউজিক ভিডিওতে এডলফ খানের সঙ্গে রয়েছেন এই গানের গায়ক ও নির্মাতা প্রিন্স খান ও শায়ন্তা। গানটির পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। মিউজিক ভিডিওটি সুর চান্দা পেজেন্টস-এর ব্যানারে নির্মিত হয়েছে।

তবে মিউজিক ভিডিওর পাশাপাশি এডলফ খানের অভিনয় ক্যারিয়ারে যুক্ত হয়েছে আরও বড় খবর। ইতোমধ্যে তিনি নাম লিখিয়েছেন ‘গুলশানের চামেলী’ সিনেমায়।

সিনেমাটিতে এডলফ খানকে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে দেখা যাবে। গত ১ আগস্ট রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত সিনেমাটির মহরতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়। নির্মাতা মো. ইকবালের এই সিনেমায় এডলফ খানকে একজন দালালের চরিত্রে দেখা যাবে বলে জানা গেছে।

ইআ

সংসদের তৃতীয় অধিবেশন সমাপ্ত, ৬ বিল পাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
সংসদের তৃতীয় অধিবেশন সমাপ্ত, ৬ বিল পাস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ হয়েছে। এই অধিবেশনে ৯টি বৈঠকে ছয়টি বিল পাস হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশন সমাপনী সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঘোষণা পাঠের মাধ্যমে তৃতীয় অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

গত ২৭ আগস্ট তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়। ২৭ আগস্ট থেকে ৯ কার্যদিবস অধিবেশন চলার পর আজ ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ হলো। এই অধিবেশনে মোট ৬টি বিল উপস্থাপিত হয় এবং ৬টি বিল পাস হয়েছে।

আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত কার্যক্রমের পাশাপাশি এ অধিবেশনে ৩টি বিশেষ কমিটিসহ ৪৮টির অধিক সংসদীয় কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন করা হয়েছে। সংসদীয় কার্যপ্রণালির বিভিন্ন বিধির আওতায় সদস্যগণ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে নোটিশ প্রদান করেছেন। ৬৮ বিধিতে ৭টি নোটিশ পাওয়া যায়, যার মধ্যে ২টি নোটিশ গৃহীত ও আলোচিত হয়েছে। ৭১ বিধিতে ১৫টি নোটিশ গৃহীত হয় এবং এর মধ্যে ১৪টি নোটিশের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৭১ক বিধিতে দুই মিনিটের বক্তব্য প্রদানের জন্য ১২৪টি নোটিশ পাওয়া যায়। এছাড়া, ১৪৭ বিধিতে ২টি নোটিশ পাওয়া যায়, যার মধ্যে ১টি নোটিশের ওপর আলোচনা হয়েছে এবং ৩০২ বিধিতে ১টি নোটিশ উত্থাপিত হয়েছে।

অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরদানের জন্য সংসদ সদস্যগণ সর্বমোট ১৪৪টি প্রশ্নের নোটিশ দেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের উত্তরদানের জন্য মোট ২ হাজার ৬৭৬টি প্রশ্নের নোটিশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিগণ এ অধিবেশনে মোট ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেন।

জাদু দেখাতে জাপান যাচ্ছেন আলীরাজ, থাকছে মাসব্যাপী একক প্রদর্শনী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
জাদু দেখাতে জাপান যাচ্ছেন আলীরাজ, থাকছে মাসব্যাপী একক প্রদর্শনী

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের জাদুশিল্পকে নতুন উচ্চতায় তুলে ধরার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন জাদুকর আলীরাজ। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ইতোমধ্যে ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জাদু প্রদর্শন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।

এবার আন্তর্জাতিক একটি সংস্থার আমন্ত্রণে মাসব্যাপী একক জাদু প্রদর্শনীতে অংশ নিতে জাপানে যাচ্ছেন আলীরাজ। সূর্যোদয়ের দেশটির বিভিন্ন মঞ্চে নিজের উদ্ভাবনী জাদু পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করবেন এই বাংলাদেশি জাদুশিল্পী।

দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন উৎসব ও আয়োজনে নিয়মিত পারফর্ম করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন আলীরাজ। এরই মধ্যে ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার প্রায় ১৯টি দেশে একক জাদু প্রদর্শনী করেছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে বিদেশের মাটিতে টানা ৪২৫টি বাণিজ্যিক শো সম্পন্ন করার কৃতিত্বও রয়েছে তার ঝুলিতে। ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির দর্শকদের সামনে জাদুর মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতাকে তুলে ধরাই তার অন্যতম লক্ষ্য।

নিজস্ব উদ্ভাবনী কৌশল, আধুনিক পরিবেশনা ও নান্দনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিবারই দর্শকদের জন্য ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরি করেন আলীরাজ। সেই ধারাবাহিকতায় এবার জাপানে মাসব্যাপী একক প্রদর্শনীর জন্য একমাত্র মনোনীত শিল্পী হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি।

জাপানের মঞ্চে এই দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশনা শুধু ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের জাদুশিল্পকে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন আলীরাজ।