খুঁজুন
শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮ কার্তিক, ১৪৩৩

বহু বছর পর দেখা গেল নব্বই দশকের সাড়া জাগানো সেই রিয়াকে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:২৮ পূর্বাহ্ণ
বহু বছর পর দেখা গেল নব্বই দশকের সাড়া জাগানো সেই রিয়াকে

নব্বইয়ের দশকে সাড়া জাগানো মডেল ও নৃত্যশিল্পী ফারজানা রিয়া চৌধুরী। তবে অভিনয়শিল্পী হিসেবেও তাকে পর্দায় দেখা গেছে। নিজের ক্যারিয়ার আর জনপ্রিয়তার আগুনে পানি ঢেলে ২০১৩ সাল থেকেই রিয়া যুক্তরাষ্ট্রে থাকছেন। এখন স্বামী, সন্তান ও সংসার নিয়ে ব্যস্ত, শান্ত এক প্রবাসজীবনই তার নিত্যদিনের সঙ্গী।

সম্প্রতি স্বল্প সময়ের জন্য বাংলাদেশে এসেছেন নব্বইয়ের এই তারকা। দীর্ঘদিন পর ঢাকার এক ঘরোয়া আড্ডায় তার উপস্থিতি চোখে পড়তেই নস্টালজিয়ায় ভেসেছেন অনেকেই।

সেই আড্ডার কয়েকটি ছবি সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই কৌতূহল বাড়তে থাকে। কেমন আছেন আড়ালে থাকা সেই পরিচিত মুখ?

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন রিয়া।

বাংলাদেশে আসার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সৌদি আরবে গিয়ে ওমরাহ পালন করেন। দেশে ফিরে গত সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার সোবহানবাগের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত আড্ডায় অংশ নেন তিনি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রূপবিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান, মডেল সাদিয়া ইসলাম মৌ, বিশ্বরঙ ফ্যাশন হাউসের কর্ণধার বিপ্লব সাহা এবং নৃত্যশিল্পী তান্না খান। মূলত রিয়ার দেশে আসাকেই কেন্দ্র করে এই আড্ডার আয়োজন।

জানা গেছে, আগামী ৯ জানুয়ারি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবেন তিনি।

রিয়ার মিডিয়া যাত্রা শুরু হয়েছিল কোকোলা বিস্কুটের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১৯৯২ সালে। ছোটবেলা থেকেই নাচের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক ছিল তার। বুলবুল একাডেমিতে নৃত্যশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন। বাংলাভিশনে প্রচারিত নৃত্যভিত্তিক রিয়ালিটি শো ‘নাচো, বাংলাদেশ নাচো’-এর বিচারকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

মডেলিংয়ে রিয়া ছিলেন স্বতঃস্ফূর্ত ও সাবলীল। পেইলাক পেইন্টস, হাঁস মার্কা নারিকেল তেল, মেরিল ভেসলিনসহ একাধিক বিজ্ঞাপনে তার উপস্থিতি দর্শকদের মনে দাগ কেটেছে। বিশেষ করে ‘কী মিষ্টি মিষ্টি অপলক দৃষ্টি…’-এই জিঙ্গেলের বিজ্ঞাপনটি, যেখানে পল্লবের সঙ্গে তার উপস্থিতি আজও অনেকের স্মৃতিতে রয়ে গেছে।

এরপর ধীরে ধীরে অভিনয়েও যুক্ত হন রিয়া। উপস্থাপনা করেন বাংলাভিশনের নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘সৌন্দর্য কথা’। নাটকে তিনি ছিলেন বেছে বেছে কাজ করা শিল্পী। তার উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে খেলা খেলা সারাবেলা, মেট্রোপলিটন, কাগজের নৌকা ও নেকি।

ব্যক্তিগত জীবনে ২০০৮ সালে বৈমানিক মিনহাজকে বিয়ে করেন রিয়া, তবে সেই সম্পর্ক স্থায়ী হয়নি। পরে ২০১৩ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ইভান চৌধুরীর সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেন তিনি। এই বিয়ের পরই অভিনয় ও মডেলিং থেকে নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নেন রিয়া।

ইন্ডিয়ান এম্পায়ার ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন

নতুন অধ্যায় সূচনার অপেক্ষায় বাংলাদেশ-ভারত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
নতুন অধ্যায় সূচনার অপেক্ষায় বাংলাদেশ-ভারত

দিল্লিতে বন্ধুত্বের হাত মেলানোর অপেক্ষায় ভারত ও বাংলাদেশ। প্রতিবেশী দেশ দুটির সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচনার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে চলছে আলোচনা। সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে চলতি বছরের নভেম্বর মাস বিবেচনাধীন থাকলেও উভয়পক্ষই অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশের ইঙ্গিত দিয়েছে।

তারেক রহমানের জন্য ভারতে যাওয়ার আমন্ত্রণ উন্মুক্ত থাকলেও সফরটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ভৌগোলিক নৈকট্য, ইতিহাস ও বাণিজ্যে আবদ্ধ দুই প্রতিবেশী অবিশ্বাসের অস্থির সময় পেছনে ফেলে কার্যকর সম্পর্ক পুনর্নির্মাণ শুরু করতে পারবে কি না, এই হাত মেলানো সেই ইঙ্গিতই দেবে।

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে কূটনৈতিক পর্যায়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।

এর আগে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকা সফর করে মোদির ব্যক্তিগত সমবেদনা বার্তা পৌঁছে দেন। কূটনৈতিক সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিতে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামকে দিল্লিতে পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে পাঠাচ্ছে ঢাকা।

অন্যদিকে নয়াদিল্লিও তাদের একজন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তবে ভারতের নতুন দূত মনে করেন, শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের জন্য তাড়াহুড়ো না করে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ক্ষমতায় আসার পর প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক গতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিচ্ছেন তিনি। নির্বাচনের আগে গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারলে সামনে এগোনো সম্ভব নয়। প্রতিশোধের রাজনীতি দেশের কোনো উপকারে আসবে না।

সম্প্রতি দুর্গাপূজায় রংপুরের একটি মন্দিরে উপস্থিত হয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ সমানভাবে সব ধর্মের মানুষের। একই সঙ্গে বিএনপির ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আওতায় কোনো একক দেশের ওপর অতি-নির্ভরশীল না হয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে, যাকে ওয়াশিংটন ও বেইজিংও স্বাগত জানিয়েছে।

তবে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে টেকসই সম্পর্ক তৈরিতে বেশ কিছু স্পর্শকাতর ও অমীমাংসিত ইস্যু বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। তিস্তার পানিবণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও ভারতে শেখ হাসিনার উপস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের যেমন নিজস্ব উদ্বেগ রয়েছে, তেমনি ভারতের ক্ষেত্রেও আঞ্চলিক ভারসাম্য ও নিরাপত্তা প্রধান বিবেচ্য।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরনো কাঠামোর পুনরাবৃত্তি না করে পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা ও পারস্পরিক স্বার্থের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এগোতে হবে। দিল্লিতে দুই নেতার সম্ভাব্য সাক্ষাৎ কেবল কোনো আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি নয়, বরং একটি নতুন সম্পর্কের সূচনা মাত্র। তবে নতুন এই সূচনা দুই দেশের মানুষের কল্যাণে কার্যকর রূপ নেবে কি না তা পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।

রাস্তার পাশের পুরি-পেঁয়াজুর দোকানেও লাগবে নিবন্ধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
রাস্তার পাশের পুরি-পেঁয়াজুর দোকানেও লাগবে নিবন্ধন

দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং খাদ্য ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগামী ১ নভেম্বর থেকে নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন ও বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক হচ্ছে। নতুন নিয়মের আওতায় রাস্তার পাশের পিঠা, পুরি-পেঁয়াজুর দোকান থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য ব্যবসা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’-এর আওতায় এ ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) উদ্যোগে প্রণীত প্রবিধানমালাটি গত ১৬ জুলাই সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসায়ীদের ১ নভেম্বর থেকে প্রযোজ্য নিবন্ধন ও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।

নতুন বিধান অনুযায়ী, রাস্তার পাশের খাবারের দোকান ছাড়াও রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী, প্যাকেটজাত খাবারের উৎপাদক, খাদ্য সংরক্ষণাগার, কোল্ড স্টোরেজ এবং নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের এ ব্যবস্থার আওতায় আসতে হবে।

প্রবিধানমালায় নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে করার বিধান রাখা হয়েছে। তবে বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি ও বিপণনের ক্ষেত্রে ব্যবসার ধরন অনুযায়ী লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে। নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করলে তা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

নতুন ব্যবস্থায় খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এর ফলে উৎপাদক ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করা সহজ হবে। পাশাপাশি ভোক্তারা পণ্যের প্যাকেট থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে অভিযোগ জানাতে পারবেন। তবে শুধু নিবন্ধন নম্বর থাকলেই কোনো পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না; খাদ্যের মান বজায় রাখতে অন্যান্য প্রযোজ্য বিধিবিধানও মানতে হবে।

প্রবিধানমালায় বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের জন্য পৃথক অনুমোদনব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। শিশুদের ফর্মুলা দুধ, বয়স্ক ব্যক্তি ও নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য তৈরি বিশেষ খাদ্য, স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য এবং নিউট্রাসিউটিক্যালের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি ও বিপণনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য লাইসেন্স নিতে হবে।

এ ছাড়া জিনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত খাদ্য, জৈব খাদ্য, কিরণ-সম্পাতকৃত খাদ্য, অভিনব খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ বা ফোর্টিফায়েড খাদ্য এবং স্বাস্থ্য সহায়তা বা রোগের ঝুঁকি কমানোর দাবি-সংবলিত পণ্যের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী নিবন্ধন ও লাইসেন্স নিশ্চিত করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে শুধু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনই যথেষ্ট নয়; পণ্যের ধরন ও কার্যক্রম অনুযায়ী অতিরিক্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে।

লাইসেন্সের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের আয়তন অনুযায়ী ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রবিধানমালার তথ্য অনুযায়ী, ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্স ফি ১০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্স ফি ৬০ হাজার টাকা। আবেদন করার আগে ব্যবসায়ীদের প্রবিধানমালার তফসিল-১০-এ উল্লেখিত ফি ও নিজ নিজ ব্যবসার জন্য প্রযোজ্য শর্ত যাচাই করতে হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয় থেকে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আবেদন করা যাবে। পর্যায়ক্রমে শতভাগ অনলাইনে আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়মে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হবে।

দল ও প্রধানমন্ত্রীকে বিব্রত করতে চাইনি, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি: ইশরাক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
দল ও প্রধানমন্ত্রীকে বিব্রত করতে চাইনি, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি: ইশরাক

মুক্তিযুক্ত বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন বলে জানালেন ইশরাক হোসেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ও দল যাতে বিব্রত না হয়, এজন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আমি ঢাকা-৬ আসন ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাদক নির্মূলের পাশাপাশি জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা সমাধানে কাজ করতে চাই।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করতে হয়েছে।

স্বাধীনতা অর্জনের পরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, মাদকবিরোধী ও সীমান্ত নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে এই লড়াই অব্যাহত রাখা জরুরি।

মাদকের বিস্তারকে দেশের ভবিষ্যৎ ও রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, মাদক শুধু ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করছে না, এটি বাংলাদেশের অস্তিত্বকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এ কারণে মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষিত অভিযান অব্যাহত রাখতে চাই।

সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে বিভিন্ন টকশোতে আইনজীবীদের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ঢাকা-৬ আসনের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা ওই অভিযানে অংশ নিয়েছি। স্থানীয় থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ বিষয়ে অবগত ছিলেন এবং অভিযানে যুক্ত ছিলেন। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি অভিযানের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেছি।

ইশরাক বলেন, অভিযানে জনপ্রতিনিধির ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের কারণে মাদকের মূল সমস্যা আড়ালে চলে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সমালোচনা না করে মাদকের স্পট, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং মূল হোতারা কারা, সে বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।

মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার ওপর জোর দিয়ে ইশরাক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে চাই।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি। এখন থেকে ঢাকা-৬ আসন, পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং প্রয়োজনে অন্যান্য এলাকায় মাদক নির্মূল ও জনজীবনের সমস্যা সমাধানে কাজ করতে চাই।