খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ, ১৪৩৩

বহু বছর পর দেখা গেল নব্বই দশকের সাড়া জাগানো সেই রিয়াকে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:২৮ পূর্বাহ্ণ
বহু বছর পর দেখা গেল নব্বই দশকের সাড়া জাগানো সেই রিয়াকে

নব্বইয়ের দশকে সাড়া জাগানো মডেল ও নৃত্যশিল্পী ফারজানা রিয়া চৌধুরী। তবে অভিনয়শিল্পী হিসেবেও তাকে পর্দায় দেখা গেছে। নিজের ক্যারিয়ার আর জনপ্রিয়তার আগুনে পানি ঢেলে ২০১৩ সাল থেকেই রিয়া যুক্তরাষ্ট্রে থাকছেন। এখন স্বামী, সন্তান ও সংসার নিয়ে ব্যস্ত, শান্ত এক প্রবাসজীবনই তার নিত্যদিনের সঙ্গী।

সম্প্রতি স্বল্প সময়ের জন্য বাংলাদেশে এসেছেন নব্বইয়ের এই তারকা। দীর্ঘদিন পর ঢাকার এক ঘরোয়া আড্ডায় তার উপস্থিতি চোখে পড়তেই নস্টালজিয়ায় ভেসেছেন অনেকেই।

সেই আড্ডার কয়েকটি ছবি সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই কৌতূহল বাড়তে থাকে। কেমন আছেন আড়ালে থাকা সেই পরিচিত মুখ?

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন রিয়া।

বাংলাদেশে আসার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সৌদি আরবে গিয়ে ওমরাহ পালন করেন। দেশে ফিরে গত সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার সোবহানবাগের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত আড্ডায় অংশ নেন তিনি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রূপবিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান, মডেল সাদিয়া ইসলাম মৌ, বিশ্বরঙ ফ্যাশন হাউসের কর্ণধার বিপ্লব সাহা এবং নৃত্যশিল্পী তান্না খান। মূলত রিয়ার দেশে আসাকেই কেন্দ্র করে এই আড্ডার আয়োজন।

জানা গেছে, আগামী ৯ জানুয়ারি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবেন তিনি।

রিয়ার মিডিয়া যাত্রা শুরু হয়েছিল কোকোলা বিস্কুটের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১৯৯২ সালে। ছোটবেলা থেকেই নাচের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক ছিল তার। বুলবুল একাডেমিতে নৃত্যশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন। বাংলাভিশনে প্রচারিত নৃত্যভিত্তিক রিয়ালিটি শো ‘নাচো, বাংলাদেশ নাচো’-এর বিচারকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

মডেলিংয়ে রিয়া ছিলেন স্বতঃস্ফূর্ত ও সাবলীল। পেইলাক পেইন্টস, হাঁস মার্কা নারিকেল তেল, মেরিল ভেসলিনসহ একাধিক বিজ্ঞাপনে তার উপস্থিতি দর্শকদের মনে দাগ কেটেছে। বিশেষ করে ‘কী মিষ্টি মিষ্টি অপলক দৃষ্টি…’-এই জিঙ্গেলের বিজ্ঞাপনটি, যেখানে পল্লবের সঙ্গে তার উপস্থিতি আজও অনেকের স্মৃতিতে রয়ে গেছে।

এরপর ধীরে ধীরে অভিনয়েও যুক্ত হন রিয়া। উপস্থাপনা করেন বাংলাভিশনের নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘সৌন্দর্য কথা’। নাটকে তিনি ছিলেন বেছে বেছে কাজ করা শিল্পী। তার উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে খেলা খেলা সারাবেলা, মেট্রোপলিটন, কাগজের নৌকা ও নেকি।

ব্যক্তিগত জীবনে ২০০৮ সালে বৈমানিক মিনহাজকে বিয়ে করেন রিয়া, তবে সেই সম্পর্ক স্থায়ী হয়নি। পরে ২০১৩ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ইভান চৌধুরীর সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেন তিনি। এই বিয়ের পরই অভিনয় ও মডেলিং থেকে নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নেন রিয়া।

পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক

‘পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ’ উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি আমাদের জীবনে প্রতি বছর ফিরে আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে। নতুন বছরের আগমনে পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বাংলা ১৪৩২ সালকে বিদায় জানিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ কে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে আমাদের এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্পর্ক নিবিড়। তথ্যপ্রযুক্তির এই সুবর্ণ সময়েও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কৃষক তার ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করে। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়। বৈশাখী মেলা, বৈশাখী শোভাযাত্রা, হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং আমাদেরকে ঐক্যবোধে উজ্জীবিত করে। বাংলা নববর্ষ আমাদের সামনে এনেছে নতুন প্রত্যাশা ও নতুন সম্ভাবনা। প্রকৃতির নবজাগরণ আর মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলেমিশে সৃষ্টি করে এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যাত্রা শুরু করে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার। দায়িত্ব নিয়েই এই সরকার রাষ্ট্র এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু এবং ইমাম-মোয়াজ্জিন-খতিব ও অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষক, কৃষি এবং কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে শুরু হলো কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি। আগামী দিনগুলোতে এই কৃষক কার্ড বাংলাদেশের কৃষক ও কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে—বাংলা নববর্ষে এটিই হোক আমাদের প্রত্যয় ও প্রত্যাশা।

তিনি আরও বলেন, আমি আশা করি, বাংলাদেশের জনগণের যার যার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। বিশ্ব আজ নানা সংকট ও সংঘাতে বিপর্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি—এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে আমরা অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি। নববর্ষ সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। দেশবাসীকে আবারও জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।

 

দেশবাসী ও প্রবাসীদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন জামায়াত আমির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ
দেশবাসী ও প্রবাসীদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন জামায়াত আমির

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসী ও প্রবাসী ভাই-বোনদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। (সোমবার, ১৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান।

বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, মহাকালের পরিক্রমায় আমাদের দুয়ারে সমাগত আরও একটি বাংলা নববর্ষ। এবারের নববর্ষ আমাদের জীবনে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে এসেছে। বাংলা নববর্ষে দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি ভাই-বোনদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমে প্রিয় দেশ ও জাতিকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করার আপোসহীন লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে জনগণের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তিত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। আসুন, সবার জন্য ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক মুক্তি ও মানবিক সমাজ গড়ার লক্ষ্যে একধাপ এগিয়ে যাই। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

জ্বালানি সংকটের মধ্যেই ৫০ গাড়ি নিয়ে মহড়া দিয়ে পদ হারালেন ছাত্রদল নেতা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
জ্বালানি সংকটের মধ্যেই ৫০ গাড়ি নিয়ে মহড়া দিয়ে পদ হারালেন ছাত্রদল নেতা

জ্বালানি সংকটের মধ্যেই নাটোরের গুরুদাসপুরে ৫০ গাড়ির বহর নিয়ে মহড়া দেওয়ার ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রামানিককে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গির আলম স্বাক্ষরিত পত্রে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা জানান দিতেই শোডাউন দেন মাসুদ রানা। ছাত্রদল নেতার গাড়ি বহরের এই শোডাউন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। শোডাউনে যোগান দেওয়া অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। নানা সমালোচনার মুখে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নজরে সোমবার তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এর আগে রোববার বিকেলে ৫০টি মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার নিয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারে গিয়ে শেষ হয় সেই শোডাউন। এতে অংশ নেয় অন্তত চারশ’ নেতাকর্মী। পরে শোডাউনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় নীতির বিপরীতে বিপুল পরিমাণ তেল পুড়িয়ে এমন কর্মকাণ্ডে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সদ্য বহিষ্কৃত নেতা মাসুদ রানা ৫০টি যানবাহন অংশ নেওয়ার কথা নিশ্চিত করলেও ব্যয়ের উৎস নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বলেন, শোডাউনের গাড়িগুলো জ্বালানি তেলে চালিত নয়। বেশিরভাগই এলপিজি ও সিএনজিচালিত গাড়ি। দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েও কোনো মন্তব্য করেননি।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, মাসুদ রানা দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজের জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যেই তিনি এই গাড়ি বহরের আয়োজন করেন।

নাটোর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজন বলেন, ছাত্রদল নেতা মাসুদ রানা গাড়ি বহরের বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নজরে এসেছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট কারণে সোমবার ওই নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।