খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

শেখ হাসিনার ৫, রেহানার ৭ ও টিউলিপের ২ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:২৭ অপরাহ্ণ
শেখ হাসিনার ৫, রেহানার ৭ ও টিউলিপের ২ বছরের কারাদণ্ড

রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঁচ বছর ও তার বোন শেখ রেহানার সাত বছর এবং শেখ রেহানার মেয়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

তিনজনকেই এক লাখ টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বাকি আসামিদের পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

দুদকের অভিযোগের তথ্যমতে, সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া সুধা সদনের তথ‍্য গোপন, রাজউকের নির্ধারিত ফরমে আবেদন না করা, হলফনামায় অসম্পূর্ণ তথ‍্য দাখিলের পরও অবিশ্বাস‍্য দ্রুততায় রাজধানীর নতুন শহর পূর্বাচলের ডিপ্লোমেটিক জোনে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন জুলাই অভ‍্যুত্থানে ক্ষমতাচ‍্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুধু তাই নয়, দুই সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং বোন শেখ রেহানা সিদ্দিক, বোনের দুই সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও আজমিনা সিদ্দিকের নামেও বাগিয়ে নেন আরও ৫০ কাঠার প্লট। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে একাধিকবার ‘রিক্ত আমি, নিঃস্ব আমি, দেবার কিছু নাই….’ বললেও রাষ্ট্রের লক্ষ কোটি টাকা অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হাসিনা পরিবার পূর্বাচলে ৬০ কাঠা প্লটের লোভও সামলাতে পারেননি। এই দুর্নীতিতে শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করেন শেখ রেহানার মেয়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক।

সংস্থাটির অভিযোগপত্রে বলা হয়, শেখ রেহানার রাজউকের এখতিয়ারাধীন এলাকায় ফ্ল্যাট থাকার পরও হলফনামায় তথ্য গোপন করেছেন। তিনি প্লট আবেদন করার সময় রাজউকের আইন অনুসরণ করেননি। শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক বিশেষ ক্ষমতায় এবং খালা শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করে তার মা, ভাই ও বোনকে প্লট পাইয়ে দেওয়ার দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, শেখ রেহানা সিদ্দিক প্লট পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও তিনি মেয়ে টিউপিল সিদ্দিকের মাধ্যমে প্লট বরাদ্দ নেন। হলফনামায় শেখ রেহানা ঢাকার সেগুনবাগিচায় ফ্ল্যাট থাকার কথা না বললেও আয়কর রিটার্নে তিনি ফ্ল্যাটের বিবরণ দিয়েছিলেন। এ ছাড়া শেখ রেহানা রাজউকে কোনো ধরনের আবেদন না করে তার আপন বোন শেখ হাসিনার কাছে আবদার করেই রাজউকের ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন।

দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়, শেখ হাসিনা তার ক্ষমতাবলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ অন্য কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে শেখ রেহানার নামে প্লট বরাদ্দ দেন। এ ছাড়া শেখ রেহানার কোনাবাড়িতে ১৬০ শতাংশ কৃষি জমি ছিল। তিনি আয়কর রিটার্নে এই বিষয়ে বললেও হলফনামায় গোপন করেছেন। এ ছাড়া তার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকও আয়কর রিটার্নে সম্পত্তির রয়েছে বললেও হলফনামায় গোপন করেছেন। অপরদিকে, শেখ রেহানা সিদ্দিকের বড় মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকও আয়কর রিটার্নে গুলশানে ফ্ল্যাট রয়েছে বললেও হলফনামায় গোপন করেছেন।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক বর্তমানে যুক্তরাজ্যের হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেট অঞ্চলের ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। টিউলিপ ব্রিটেনে বসে জানতে পারেন, তার খালা শেখ হাসিনা, ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ (জয়) ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দ নিচ্ছেন। সে সময় তিনি ব্রিটিশ এমপির প্রভাব দেখিয়ে মা রেহানা সিদ্দিক, বোন আজমিনা সিদ্দিক ও ভাই রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের নামে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।

এতে আরও বলা হয়, দ্য ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (অ্যালটমেন্ট অব ল্যান্ডস) রুলস ১৯৬৯-এর ৯ বিধি সাপেক্ষে, ট্রাস্ট এমন ব্যক্তিকে প্লট বরাদ্দ করতে পারে যারা সরকারি চাকরি, জনসেবা কিংবা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তবে এই বিধি অনুযায়ী, কেউ নির্ধারিত ফরমে আবেদন না করলে এবং সরকার সুপারিশ না করলে তিনি বা তারা প্লট বরাদ্দ পাবেন না।

শুনানিকালে গ্রেপ্তারকৃত একমাত্র আসামি রাজউকের সদস্য খোরশেদ আলমের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম। তবে মামলার অন্য আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সুযোগ ছিল না।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, রেহানা সিদ্দিক অসৎ উদ্দেশ্যে আপন বোন শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করে রাজউকে কোনো আবেদন না করেই সরকারি জমি আত্মসাৎ করে ভোগদখল রেখেছেন। যা দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬৩, ১৬৪, ১৬৫(ক), ৪০৯, ৪২০, ১০৯ এবং দুদক আইনের ৫ (২) ধারায় অপরাধ করেছেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, রেহানা সিদ্দিক ও পরিবারের অন্য সদস্যদের রাজউক এলাকায় ফ্ল্যাট থাকার পরও হলফনামায় তথ্য গোপন করেছেন। তিনি পূর্বাচল নতুন শহর আবাসন প্রকল্পে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। তিনি রাজউকের আইন, বিধি ও নীতিমালা মানেননি এবং তার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে ও বোন শেখ হাসিনার ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্লট বরাদ্দসহ রেজিস্ট্রি করে দখল নিয়েছেন।

এ মামলায় শেখ রেহানা ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন– টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, শেখ হাসিনা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. অলিউল্লাহ, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা, রাউজকের সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) খুরশীদ আলম, রাউজকের সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, রাউজকের সাবেক সদস্য পরিকল্পনা নাসির উদ্দিন, রাজউকের সাবেক সদস্য সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মাজহারুল ইসলাম, রাজউকের উপপরিচলক নায়েব আলী শরীফ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহম্মেদ। রাজউকের কর্মকর্তা খুরশীদ আলম ছাড়া বাকি সব আসামি বর্তমানে পলাতক আছেন।

এর আগে প্লট দুর্নীতির ছয়টি মামলার মধ‍্যে গত ২৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে তিনটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এরমধ্যে শেখ হাসিনাকে তিন মামলায় ২১ বছরের কারাদণ্ড ও তিন লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে মোট ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদকে পৃথক পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে প্রত্যেককে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।

এ ছাড়া শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা শুনানির শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

নতুন ২ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত সরকারের, একদিন থাকবে ছুটি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
নতুন ২ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত সরকারের, একদিন থাকবে ছুটি

৬ জুলাই পল্লী উন্নয়ন দিবস এবং ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

তিনি বলেন, ৬ জুলাই পল্লী উন্নয়ন দিবস হিসেবে পালন করা হবে। তবে এদিন সরকারি ছুটি থাকবে না। এছাড়া ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি ছুটি হিসেবে দিনটি পালিত হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে সচিব বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা, ২০২৫ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সোলার পাওয়ার দিয়ে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে।

এ সময় সরকার মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী মো. আরিফুল হক চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানমসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সিলেটে একসঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে ১২৬ তরুণ-তরুণী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
সিলেটে একসঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে ১২৬ তরুণ-তরুণী

সম্পূর্ণ বিনা খরচে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন হতদরিদ্র, এতিম ও অসহায় ১২৬ তরুণ-তরুণী। বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) সিলেটের একটি কনভেনশন হলে এসব বিবাহ সম্পন্ন হয়।

প্রাপ্তবয়স্ক হলেও অর্থাভাবে এই ১২৬ জন তরুণ-তরুণীর বিয়ের পিঁড়িতে বসা হচ্ছিল না। তাদের সংসার সাজাতে মহাধুমধামে গণবিবাহের আয়োজন করে স্থানীয় মানবিক সংগঠন সিডস অব ব্লেসিংস।

সম্ভ্রান্ত পরিবারের স্বপ্নময় বিয়ের মতো বর্ণিল, উৎসবমুখর আর ঝমকালো আয়োজনে এসব বিয়ে হয়। খাবার-দাবারসহ কোনো কিছুর কমতি ছিল না এই গণবিয়েতে। যুক্তরাজ্য প্রবাসী তরুণদের মানবিক সংগঠন সিডস অব সাদাকাহ’র অর্থায়নে এই গণবিবাহ সম্পন্ন হয়।

উপহার হিসেবে নবদম্পতিগুলোর নতুন জীবনকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে প্রায় দুই লক্ষ টাকা সমমূল্যের ৭৭ প্রকারের গৃহস্থালি সামগ্রী দেওয়া হয়।

সিডস অব সাদাকাহ সংগঠনের প্রধান মো. জয়নুল আবেদিন বলেন, আমাদের লক্ষ্য সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষদের জন্য আনন্দ এবং স্বনির্ভরতার পথ তৈরি করা। আজকের এই আয়োজন তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

সিডস অব সাদাকাহ’র আয়োজক ওরকাতুল জান্নাত বলেন, নতুন জীবনের শুরুতে এই সঙ্গ ও সহায়তা তাদের মনে নতুন আশা ও উদ্দীপনা জাগাবে।

সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন আয়োজকরা।

উজিরপুর ছাত্রদলে বহিষ্কার নিয়ে বিতর্ক, ৯ দিনেই পদে ফেরত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
উজিরপুর ছাত্রদলে বহিষ্কার নিয়ে বিতর্ক, ৯ দিনেই পদে ফেরত

বরিশালের উজিরপুর উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে ‘বহিষ্কার বাণিজ্য’র অভিযোগ উঠেছে। টাকার বিনিময়ে বহিষ্কার এবং পরে আবার অর্থের বিনিময়ে স্বপদে ফেরানোর মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

সম্প্রতি সাতলা ইউনিয়নে মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাতলা ইউনিয়নে ছাত্রদলের এক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। ৬ এপ্রিল রাতে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তারেক সুজন ও সদস্যসচিব মুরাদ হাওলাদার রনি স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বহিষ্কৃত রাফিন খন্দকার রাহাত সাতলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

এরপর ১৫ এপ্রিল তাকে আবার একই পদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যা নিয়ে সংগঠনের ভেতরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা এ ঘটনাকে ‘বহিষ্কার বাণিজ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সদস্য সচিব মুরাদ হাওলাদার রনি বলেন, “দলীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধে তাকে পুনর্বহাল করা হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, বিষয়টি রাজনৈতিক নয় বরং পারিবারিক।

তবে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা বলেন, “আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই উপজেলা ছাত্রদলের দুই নেতা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তারেক সুজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।