ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের টাঙ্গাইল আগমন উপলক্ষে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে স্বাগত মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরান বাসস্ট্যান্ডস্থ ওয়ালটন মোড়ে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীরা ‘৩১ তারিখ সারাদিন, বিএনপির খুশির দিন’, ‘৩১ তারিখ সারাদিন, টাঙ্গাইলবাসীর খুশির দিন’ এবং ‘সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা, টুকু ভাইয়ের মার্কা, ধানের শীষ মার্কা, তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিলে নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কাজী শফিকুর রহমান লিটন, শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এজাজুল হক সবুজ, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ, টাঙ্গাইল শহর শাখা যুবদলের আহ্বায়ক রাশেদ খান সোহাগসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা সফর শেষে আগামী ৩১ জানুয়ারি টাঙ্গাইল সফরে আসবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সফরের দিন বিকাল ৪টায় জেলা বিএনপির আয়োজনে টাঙ্গাইলের দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবরে তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবার সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন।
তারেক রহমানের আগামী বৃহস্পতিবারের (২৪ সেপ্টেম্বর) ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উন্নয়নে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্য ও ক্ষুধা কেন অব্যাহত রয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং দেশগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এই ভাষণের ঠিক ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরবর্তীতে আরও কয়েকবার তিনি সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে বক্তব্য দেখন। এর মধ্যে রয়েছে, ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারক সভা এবং ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন। ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক সভাতেও বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য দেন।
জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে বক্তব্য দেন বেগম খালেদা জিয়া। এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তার অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। এতে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অগ্রাধিকার, বৈশ্বিক শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, জলবায়ু মোকাবিলা ও জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়গুলোও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে স্থান পাবে। পাশাপাশি সফরে রোহিঙ্গা সংকটকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এছাড়াও বাংলাদেশের জন্য এবারের ৮১তম অধিবেশনটি বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে। কারণ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জাতিসংঘের প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর চলবে।
১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে যে অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণে যার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল, ২০২৬ সালে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণের মধ্য দিয়ে সেই অধ্যায়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
রংপুরে ১১ দলীয় লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে সরকারকে সতর্ক করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের দাবি উপেক্ষা করে সরকার একই পথে হাঁটলে পরিণতিও একই হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই কিছু একটা হওয়ার আগেই সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। যদি না হয়, তাহলে বসে বসে আঙুল চুষবো না।’
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে রংপুরে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করলেও তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করবেন না। অন্যায়, অপশক্তি ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না বলেও জানান তিনি।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, গণভোটের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষায়, ‘মানতে হলে সবটা মানতে হবে, আর বাদ দিলে সবটা বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেন। তখন দেখা যাবে কার বুকের পাটা কতটুকু।’
বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি এখন ভুলে যাওয়া হচ্ছে। সরকার এমন একটি পথে এগোচ্ছে, যে পথে অতীতে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল। একই পথে হাঁটলে পরিণতিও একই হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
রংপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে তিস্তা বাঁচানোর কথা বলা হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। জনগণকে বারবার আশ্বাস দিয়ে তা বাস্তবায়ন না করার সমালোচনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, জনগণ তাদের সরকার গঠনের সুযোগ দিলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গকে কৃষির রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা এবং নদীগুলোর হারানো প্রাণ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও চাঁদাবাজি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, রংপুরের মানুষ গ্যাস পাচ্ছে না, কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না, আর তরুণদের একটি বড় অংশ কর্মসংস্থানের সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। চাঁদাবাজির প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি তুলে ধরা হয়।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাপনী সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত লংমার্চের বিভিন্ন পথসভায়ও এসব দাবি তুলে ধরেন জোটের নেতারা।
সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে রাজধানীর মিরপুর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদল।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সভাপতি মো. রবিন খান ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মিরপুর থানা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।
পরে একই তারিখে মিরপুর থানা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিতে তৌহিদুল ইসলাম সিফাতকে সভাপতি এবং মো. আশিক খন্দকারকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটিতে ফয়সাল হাসান লিমনকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, মো. রিদোয়ান খান, মো. ইসমাইল হোসেন সবুজ, মো. শামীম হোসেন, মো. জুনায়েদ হোসেন, মেহেদী হাসান কনক মোল্লা ও এস এম সায়েমকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে।
এ ছাড়া পিয়ারুল ইসলাম রমজানকে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এবং ইমরানুল হক ইমরান, আহাদুল ইসলাম বাঁধন, মো. হাসিবুর রহমান, কাজী ইউসুফ আব্দুল্লাহ (অভি), জহিরুল ইসলাম রাহুল, মো. আহাদ মিয়া ও আবিদ হোসেন সুমনকে যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছে।
মেহেদী হাসানকে সাংগঠনিক সম্পাদক, মো. একরাম চৌধুরীকে প্রচার সম্পাদক এবং আসাদুজ্জামান রাব্বিকে দপ্তর সম্পাদক করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রচার ও দপ্তর সম্পাদকের পদকে যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদা দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
নতুন কমিটিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন
Array