খুঁজুন
সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩

আর্জেন্টাইন সমর্থকদের হাতে ইসরায়েলি পতাকা, চটলেন ফিলিস্তিনপন্থী মিসরীয় কোচ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ণ
আর্জেন্টাইন সমর্থকদের হাতে ইসরায়েলি পতাকা, চটলেন ফিলিস্তিনপন্থী মিসরীয় কোচ

২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বনাম মিসরের মধ্যকার শেষ ১৬-এর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচটি কেবল মাঠের ফুটবল রোমাঞ্চেই সীমাবদ্ধ থাকল না; ম্যাচ শেষে তা রূপ নিল রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক উত্তেজনায়।

মঙ্গলবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারিতে থাকা আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সঙ্গে তীব্র বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন মিসরের ফিলিস্তিনপন্থী কোচ হোসাম হাসান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিওতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির চিত্র দেখা গেছে।

চলতি বিশ্বকাপে ফিলিস্তিনের পক্ষে শুরু থেকেই সোচ্চার ছিলেন মিসরীয় কোচ হোসাম হাসান।

গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর তিনি ফিলিস্তিনের পতাকা গায়ে জড়িয়ে জয়োৎসব করেছিলেন। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ফারাওদের বিদায়ের পর গ্যালারি থেকে আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা হোসাম হাসানকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক আচরণ করতে শুরু করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা যায়, গ্যালারির একটি অংশ থেকে কিছু আর্জেন্টাইন সমর্থক মিসরীয় কোচের দিকে ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শন করছেন।

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই প্রতীক দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি হোসাম হাসান।

অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত অবস্থায় তিনি গ্যালারির দিকে আঙুল উঁচিয়ে নিজের শার্টে থাকা মিসরীয় ফুটবল ফেডারেশনের লোগো প্রদর্শন করে জবাব দিতে থাকেন। অন্য একটি কোণ থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার জয়ের উল্লাসের মাঝে মিসরীয় দল যখন মাঠ ছাড়ছিল, তখন ইচ্ছাকৃতভাবেই ইসরায়েলি পতাকা বারবার নাড়ানো হচ্ছিল।

ঐতিহাসিকভাবেই মিসর স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবিকে জোরালো সমর্থন দিয়ে আসছে এবং গাজা সংকটে অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী। হোসাম হাসান এই বিশ্বকাপে ফিলিস্তিনের পক্ষে অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর তিনি বলেছিলেন, ‘এই বিজয় পুরো মিসরের জন্য এবং আমরা সব আরব ও আফ্রিকানদের গর্বিত করছি। আমরা দেখেছি ফিলিস্তিনের মানুষ আমাদের জয়ে কতটা খুশি হয়েছে। আমি এই জয় মিসর ও ফিলিস্তিনের জনগণকে উৎসর্গ করছি।’

তার এই সাহসী অবস্থানের কারণে গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত সাধারণ মানুষ মিসরীয় পতাকা হাতে বড় পর্দায় খেলা দেখেছে এবং ধ্বংসস্তূপের ওপর কোচের বড় ব্যানার টাঙিয়েছে।

আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনেও নিজের এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন মিসরীয় কোচ। যুদ্ধকে বিশ্ব মানবতার জন্য এক বড় লজ্জা আখ্যা দিয়ে হোসাম হাসান বলেছিলেন, ‘যদি কেউ ফিলিস্তিনি জনগণের কষ্ট অনুভব করতে না পারে, তবে বুঝতে হবে তার মধ্যে ন্যূনতম মনুষ্যত্ব বা মানবতাবোধ নেই। এই সংহতি আমার ভেতর থেকে এসেছে কারণ আমি একজন মানুষ, ঠিক যেমন মানুষ সেখানে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে। এটি শুধু আরব বিশ্বের জন্য নয়, পুরো পৃথিবীর জন্য একটি লজ্জার বিষয়।’

মাঠে আর্জেন্টিনার কাছে মিসরের রূপকথা থামলেও, মাঠ ছাড়ার সময় রাজনৈতিক উসকানির মুখে হোসাম হাসানের এমন কড়া প্রতিক্রিয়া ফুটবল বিশ্বে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

আরো একটি প্রত্যাবর্তনের গল্প, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে মেসিরা ফাইনালে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:১১ পূর্বাহ্ণ
আরো একটি প্রত্যাবর্তনের গল্প, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে মেসিরা ফাইনালে

আরেকটি অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। গোলশূণ্য প্রথমার্ধের পর ৫৫ মিনিটে গর্ডনের গোলে লিড নিয়েছিল ইংল্যান্ড। এরপর থেকেই আর্জেন্টিনার মরিয়া চেষ্টা ম্যাচে ফেরার।

এই ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলের দরজা খোলা কঠিণ ছিল লিওনেল মেসির জন্য। সে চেষ্টা না করে বাঁ পায়ের জাদুকর মনযোগ দেন সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোয়।

শেষ পর্যন্ত ৮৫ মিনিটে মেসির অ্যাসিস্টে অসাধারণ গোলে ম্যাচে সমতা ফেরান এনসো ফের্নান্দেস। আর ৯ মিনিট যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বদলী নামা লাউতারো মার্তিনেস খুঁজে নেন জাল। এবারও ডান দিক থেকে মেসির ক্রসে নিখুঁত হেডে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো।

তাতেই হৃদয় ভেঙে যায় ইংলিশদের। দীর্ঘ ৬০ বছর পর শিরোপা জয়ের আশা শেষ হয়ে যায় হ্যারি কেইনদের।

অন্যদিকে চল্লিশের মেসির চোখে এখন টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় নিউ জার্সিতে ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ফ্রান্সকে হারানো স্পেন।

আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে মাঠে নামবে যারা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে মাঠে নামবে যারা

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে মাঠে নামছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচের শুরুর একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছেন আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। মিডফিল্ডে রদ্রিগো দে পলের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন জুলিয়ানো সিমিওনে। এছাড়া বাকি ১০জন সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা একাদশের শুরুতে ছিলেন।

গোলকিপিংয়ে যথারীতি আছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। রক্ষণে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। লেফট-ব্যাকে থাকছেন নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। আর রাইট-ব্যাকে নাহুয়েল মলিনা। মিডমফিল্ডে আগের ম্যাচেগোল পাওয়া আলেক্সিস মাক অ্যালিস্টারের ওপর ভরসা রাখছেন স্কালোনি। তার সঙ্গে আছেন এনজো ফার্নান্দেজ, পারেদেস।

আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেবেন লিওনেল মেসি। অধিনায়কের সঙ্গে আছেন হুলিয়ান আলভারেজ। ৪-৪-২ ফর্মেশনে মাঠে নামছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

আর্জেন্টিনার চূড়ান্ত একাদশ

গোলকিপার: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ

রক্ষণভাগ: নাহুয়েল মোলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো

মিডফিল্ড: জিলিয়ানো সিমিওনে, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস মাক অ্যালিস্টার

ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি এবং হুলিয়ান আলভারেজ

ফ্রান্সের দম্ভ চূর্ণ করে ফাইনালে স্পেন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ
ফ্রান্সের দম্ভ চূর্ণ করে ফাইনালে স্পেন

এই দিনটির অপেক্ষা ঠিক ১৬ বছরের। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের শিরোপা মঞ্চে পা রেখেছিল স্পেনের সোনালী প্রজন্ম। সেবার নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় লা রোসারা। এরপর থেকেই শুরু অপেক্ষার। একে একে তিনটি বিশ্বকাপে ফুটবল দুনিয়া দেখেছে স্পেনের ফুটবলের পতন।

২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পাড় করা গেলেও বেশিদূর এগুতে পারেনি, শেষ-১৬ থেকেই ফিরতে হয়েছে। এবার লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে বদলে যাওয়া এক স্পেনকে দেখলো বিশ্ববাসী।

ফরাসি দম্ভ চূর্ণ করে তারা পা রেখেছে বিশ্বকাপের ফাইনালে। কিলিয়ান এমবাপ্পের দলকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে এবার বিশ্বজয়ের অপেক্ষায় ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।

টানা তিন ম্যাচে ফ্রান্সকে হারাল স্পেন। ২২ মিনিটে মিকেল ওয়ারসাবালের পেনাল্টি গোলে লিড নিয়েছিল স্পেন। সেই লিড ধরে রেখে বিরতিতে যায় তারা। ফ্রান্সের আগ্রাসি আক্রমণভাগকে মাঝমাঠ থেকেই অকার্যকর করার কৌশলে নেমেছিল স্পেন। রোদ্রির নেতৃত্ব স্প্যানিয়ার্ড মিডফিল্ড খেলেছে ছকে বাঁধা ফুটবল। সহযাত টিকিটাকা নয়, বল পজেশন ধরে রেখে তারা আক্রমণে গেছে। তাতেই দিশেহারা ফ্রান্স। চার ফরোয়ার্ড নিয়ে নেমেও তারা সুবিধা করতে পারেনি।

বিরতি থেকে ফিরে কেবল ঘর সামলানোয় মনযোগ দেয়নি স্পেন। বরং মাঝমাঠের আধিপত্য ধরে রেখে তারা চেয়েছে ব্যবধান বাড়াতে। ৫৮ মিনিটে ব্যবধান ঠিকই বাড়িয়ে নেয় দলটি। দানি ওলমোর সাজানো বলকে গোলের ঠিকানায় পাঠান পেদ্রো পারো। বাকিটা সময় একই তালে এবং একই কৌশলে খেলে ফরাসিদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়ে জয় তুলে নেয় স্পেন।

রেকর্ড ২৬তম বিশ্বকাপ ম্যাচে ফ্রান্সের ডাগআউটে দাঁড়ানো দিদিয়ের দেশম আরেকবার কৌশলের লড়াইয়ে হার মানলেন চৌকস লুইস দে লা ফুয়েন্তের কাছে। এর আগে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও নেশন্স লিগে হার মানা দেশম বিশ্বকাপের মঞ্চে ভাগ্য বদলাতে পারেননি। তাই ২০১৮ ও ২০২২ ফাইনাল খেলা ফরাসিদের এবার বাড়ি ফিরতে হচ্ছে আগেভাগেই।

সোমবার নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে হবে ফাইনাল। স্পেন এখন অপেক্ষায় থাকবে শিরোপা মঞ্চে তাদের প্রতিপক্ষের। বুধবার আটলান্টায় অপর সেমিফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।