খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

মা-বোনদের সম্মান রক্ষায় প্রয়োজনে আমরা জীবন দেব: ডা. শফিকুর রহমান

ইমরুল হাসান
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
মা-বোনদের সম্মান রক্ষায় প্রয়োজনে আমরা জীবন দেব: ডা. শফিকুর রহমান

মা-বোনদের সম্মান রক্ষায় প্রয়োজনে আমরা জীবন দেব। যারা নিজের মাকে সম্মান করতে জানে না, তারা অন্যের মাকেও সম্মান দিতে পারে না বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যজোট আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

লক্ষ্মীপুরের মাটি ও ঘাস একসময় শহীদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লব এসেছিল বলেই আজ আমরা প্রাণখুলে কথা বলতে পারছি। যারা এই শহীদদের অবদানকে অস্বীকার করে বা উপহাস করে, তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে জানে না। উপকারীর উপকার স্বীকার না করা লজ্জাজনক।

জামায়াত আমির বলেন, জনগণ চাঁদাবাজি এবং মা-বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠনের রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়। এই পরিবর্তনের জন্য আসন্ন নির্বাচনে প্রথমে ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল মেরে জনমত দেবেন এবং পরবর্তীতে ১১ দলের মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করবেন।

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াত ও ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি ও ‘মামলাবাণিজ্য’ মুক্ত বাংলাদেশ গড়বে।

পাচার হওয়া অর্থ প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিদেশে পাচার করা টাকা সংশ্লিষ্টদের পেটের ভেতর থেকে বের করে আনা হবে এবং সেই টাকা দিয়েই দেশের উন্নয়ন করা হবে।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, আমরা তোমাদের বেকার ভাতা দিয়ে অপমানিত করতে চাই না, বরং প্রত্যেকের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। দেশের নেতৃত্ব যুবকদের হাতে ছেড়ে দিয়ে আমরা পেছন থেকে শক্তি জোগাতে চাই।

তিনি বলেন, আমাদের জোটের মনোনীত প্রার্থীদের ৬২ শতাংশই যুবক।

আন্দোলনে নারীদের অবদানের কথা স্মরণ করে শফিকুর রহমান বলেন, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনা জাতি ভুলে যায়নি। মা-বোনদের সম্মান রক্ষায় প্রয়োজনে আমরা জীবন দেব। যারা নিজের মাকে সম্মান করতে জানে না, তারা অন্যের মাকেও সম্মান দিতে পারে না।

তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের সমান মর্যাদা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।

লক্ষ্মীপুরের আঞ্চলিক সমস্যাগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, এশিয়ার বৃহত্তম মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে এবং মেঘনা নদীর বাঁধের টাকা লোপাট হয়েছে।

দেশের সব ইসলামী ধারার (কওমি, আলিয়া, তাবলিগ) মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কওমি মাদরাসা আমাদের কলিজা। আমাদের মাঝে বিরোধ সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে।

বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, বিদেশে আমাদের বন্ধু থাকবে, কিন্তু কোনো প্রভু থাকবে না।

জামায়াতের জেলা আমির রুহুল আমিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, চাকসু জিএস সাঈদ বিন হাবিবসহ জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

নতুন ২ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত সরকারের, একদিন থাকবে ছুটি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
নতুন ২ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত সরকারের, একদিন থাকবে ছুটি

৬ জুলাই পল্লী উন্নয়ন দিবস এবং ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

তিনি বলেন, ৬ জুলাই পল্লী উন্নয়ন দিবস হিসেবে পালন করা হবে। তবে এদিন সরকারি ছুটি থাকবে না। এছাড়া ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি ছুটি হিসেবে দিনটি পালিত হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে সচিব বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা, ২০২৫ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সোলার পাওয়ার দিয়ে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে।

এ সময় সরকার মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী মো. আরিফুল হক চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানমসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সিলেটে একসঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে ১২৬ তরুণ-তরুণী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
সিলেটে একসঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে ১২৬ তরুণ-তরুণী

সম্পূর্ণ বিনা খরচে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন হতদরিদ্র, এতিম ও অসহায় ১২৬ তরুণ-তরুণী। বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) সিলেটের একটি কনভেনশন হলে এসব বিবাহ সম্পন্ন হয়।

প্রাপ্তবয়স্ক হলেও অর্থাভাবে এই ১২৬ জন তরুণ-তরুণীর বিয়ের পিঁড়িতে বসা হচ্ছিল না। তাদের সংসার সাজাতে মহাধুমধামে গণবিবাহের আয়োজন করে স্থানীয় মানবিক সংগঠন সিডস অব ব্লেসিংস।

সম্ভ্রান্ত পরিবারের স্বপ্নময় বিয়ের মতো বর্ণিল, উৎসবমুখর আর ঝমকালো আয়োজনে এসব বিয়ে হয়। খাবার-দাবারসহ কোনো কিছুর কমতি ছিল না এই গণবিয়েতে। যুক্তরাজ্য প্রবাসী তরুণদের মানবিক সংগঠন সিডস অব সাদাকাহ’র অর্থায়নে এই গণবিবাহ সম্পন্ন হয়।

উপহার হিসেবে নবদম্পতিগুলোর নতুন জীবনকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে প্রায় দুই লক্ষ টাকা সমমূল্যের ৭৭ প্রকারের গৃহস্থালি সামগ্রী দেওয়া হয়।

সিডস অব সাদাকাহ সংগঠনের প্রধান মো. জয়নুল আবেদিন বলেন, আমাদের লক্ষ্য সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষদের জন্য আনন্দ এবং স্বনির্ভরতার পথ তৈরি করা। আজকের এই আয়োজন তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

সিডস অব সাদাকাহ’র আয়োজক ওরকাতুল জান্নাত বলেন, নতুন জীবনের শুরুতে এই সঙ্গ ও সহায়তা তাদের মনে নতুন আশা ও উদ্দীপনা জাগাবে।

সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন আয়োজকরা।

উজিরপুর ছাত্রদলে বহিষ্কার নিয়ে বিতর্ক, ৯ দিনেই পদে ফেরত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
উজিরপুর ছাত্রদলে বহিষ্কার নিয়ে বিতর্ক, ৯ দিনেই পদে ফেরত

বরিশালের উজিরপুর উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে ‘বহিষ্কার বাণিজ্য’র অভিযোগ উঠেছে। টাকার বিনিময়ে বহিষ্কার এবং পরে আবার অর্থের বিনিময়ে স্বপদে ফেরানোর মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

সম্প্রতি সাতলা ইউনিয়নে মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাতলা ইউনিয়নে ছাত্রদলের এক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। ৬ এপ্রিল রাতে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তারেক সুজন ও সদস্যসচিব মুরাদ হাওলাদার রনি স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বহিষ্কৃত রাফিন খন্দকার রাহাত সাতলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

এরপর ১৫ এপ্রিল তাকে আবার একই পদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যা নিয়ে সংগঠনের ভেতরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা এ ঘটনাকে ‘বহিষ্কার বাণিজ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সদস্য সচিব মুরাদ হাওলাদার রনি বলেন, “দলীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধে তাকে পুনর্বহাল করা হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, বিষয়টি রাজনৈতিক নয় বরং পারিবারিক।

তবে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা বলেন, “আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই উপজেলা ছাত্রদলের দুই নেতা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তারেক সুজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।