খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

নির্বাচন শান্তিপূর্ণ রাখতে নেতাকর্মীদের ধৈর্য্যের আহ্বান মির্জা আব্বাসের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
নির্বাচন শান্তিপূর্ণ রাখতে নেতাকর্মীদের ধৈর্য্যের আহ্বান মির্জা আব্বাসের

ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস নির্বাচনের সময় নেতাকর্মীদের ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উস্কানিমূলক পরিস্থিতিতে শান্ত থাকবেন। বিজয় আমাদের প্রান্তে, ইনশাআল্লাহ। কয়েক দিন ধৈর্য ধরুন এবং কোনো চক্রান্তের ফাঁদে পা দেবেন না।

বুধবার রাজধানীর ব্রাদার্স ক্লাব মাঠে ধানের শীষের পক্ষে গণ মিছিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। গণমিছিলটি ব্রাদার্স ক্লাব মাঠের সামনে থেকে শুরু হয়ে ঢাকা-৮ আসনের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।

মির্জা আব্বাস বলেন, নির্বাচন আদায়ের জন্য বাংলাদেশের জনগণ গত ১৭ বছর লড়াই করেছে। বিএনপির বহু নেতাকর্মী আত্মাহতি দিয়েছে, সিনিয়র নেতারাও শাহাদাত বরণ করেছেন। দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ভুক্তভোগী হয়েছে। গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল না। এটি আমরা আন্দোলন করে অর্জন করেছি। অনেকেই বলেন সাত দিন আন্দোলন করে শেখ হাসিনাকে পরাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু ভুলবেন না, এই ১৭ বছরে দেশের জনগণ যে ত্যাগ করেছেন, যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার বিনিময়ে আজকের গণতন্ত্রের অধিকার আমরা অর্জন করেছি।

তিনি দেশের মানুষের জন্য বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রাম স্মরণ করে বলেন, আপনাদের স্মরণ রাখতে হবে, বেগম খালেদা জিয়া সংগ্রাম করেছেন এবং জীবন দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের জন্য লড়াই করেছেন। সেই কথা স্মরণ করে আমাদের আগামী দিনের পথ চলতে হবে। আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখতে হবে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

মির্জা আব্বাস সতর্ক করে বলেন, আজকের নির্বাচন বানচাল করার জন্য কিছু চক্রান্ত চলছে। নির্বাচন থেকে জনগণকে অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিএনপি বহু নির্বাচনে অংশ নিয়েও কোনো প্রতিপক্ষের ওপর হামলা ঘটায়নি। আমরা সবসময় উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন করেছি। আজও আমাদের নেতাকর্মীরা অত্যন্ত শান্ত এবং নীরব ভূমিকা পালন করছে।

তিনি আরও বলেন, যে দলটির কোনো নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নেই, যারা জীবনে দেশের জনগণের জন্য কাজ করেনি, তারা বিএনপিকে অপদস্ত করার চেষ্টা করছে। তাদের কাছে নিজেদের বলার কিছু নেই। তারা শুধু বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলাই তাদের কাজ মনে করে। তাদের উদ্দেশ্য হলো দেশের জনগণকে চিরতরে উপেক্ষিত রাখা। তবে দেশের স্বার্থ রক্ষায় একমাত্র দল হলো বিএনপি।

মির্জা আব্বাস নেতাকর্মীদের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কোনো উস্কানিমূলক কথাবার্তা বা কাজে জড়াবেন না। বিজয় আমাদের, ইনশাআল্লাহ। কয়েক দিন ধৈর্য ধরুন। নির্বাচনের পরে দেশের শান্তি বজায় রাখতে আমাদের এবং জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপি দেশের শান্তি বজায় রাখতে চায়। আমাদের লক্ষ্য দেশের মানুষকে শান্তি এবং হাসি ফিরিয়ে দেওয়া।

তিনি বলেন, বিএনপি কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে ঝগড়া বা ফ্যাসাদ করতে চায় না। আমরা দেশের মানুষকে শান্তি দিতে চাই। যারা চক্রান্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়াতে পারি। তবে, এখন প্রমাণ দেখানোর সময় নয়। নির্বাচনের পরে দেশকে শান্ত রাখতে আমরা সকল চেষ্টা করবো।

তিনি শেখ সাদীর কবিতার লাইন ‘বে-আদব বে-নসিব, বা-আদব বা-নসিব’ স্মরণ করিয়ে দেন এবং বলেন, আজকের প্রজন্মকেও শ্রদ্ধা এবং আদব শিখতে হবে। আমি আমার সন্তান তুল্য যারা আজকে আমার সঙ্গে কথা বলেন, তাদের উদ্দেশ্যেই এই উপদেশমূলক কবিতার লাইন পাঠালাম।

তিনি বলেন, ছোট বেলায় আমি সব দলকে সম্মান করেছি। আজও চাই, নেতাকর্মীরা শান্তি বজায় রাখুক। বিএনপির কর্মীরা সুশৃঙ্খল এবং চক্রান্তবাদী নয়। দেশের মানুষকে শান্তি এবং স্বাছন দিতে হলে আমাদের সতর্ক থাকা দরকার।

নতুন ২ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত সরকারের, একদিন থাকবে ছুটি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
নতুন ২ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত সরকারের, একদিন থাকবে ছুটি

৬ জুলাই পল্লী উন্নয়ন দিবস এবং ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

তিনি বলেন, ৬ জুলাই পল্লী উন্নয়ন দিবস হিসেবে পালন করা হবে। তবে এদিন সরকারি ছুটি থাকবে না। এছাড়া ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি ছুটি হিসেবে দিনটি পালিত হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে সচিব বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা, ২০২৫ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সোলার পাওয়ার দিয়ে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে।

এ সময় সরকার মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী মো. আরিফুল হক চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানমসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সিলেটে একসঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে ১২৬ তরুণ-তরুণী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
সিলেটে একসঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে ১২৬ তরুণ-তরুণী

সম্পূর্ণ বিনা খরচে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন হতদরিদ্র, এতিম ও অসহায় ১২৬ তরুণ-তরুণী। বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) সিলেটের একটি কনভেনশন হলে এসব বিবাহ সম্পন্ন হয়।

প্রাপ্তবয়স্ক হলেও অর্থাভাবে এই ১২৬ জন তরুণ-তরুণীর বিয়ের পিঁড়িতে বসা হচ্ছিল না। তাদের সংসার সাজাতে মহাধুমধামে গণবিবাহের আয়োজন করে স্থানীয় মানবিক সংগঠন সিডস অব ব্লেসিংস।

সম্ভ্রান্ত পরিবারের স্বপ্নময় বিয়ের মতো বর্ণিল, উৎসবমুখর আর ঝমকালো আয়োজনে এসব বিয়ে হয়। খাবার-দাবারসহ কোনো কিছুর কমতি ছিল না এই গণবিয়েতে। যুক্তরাজ্য প্রবাসী তরুণদের মানবিক সংগঠন সিডস অব সাদাকাহ’র অর্থায়নে এই গণবিবাহ সম্পন্ন হয়।

উপহার হিসেবে নবদম্পতিগুলোর নতুন জীবনকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে প্রায় দুই লক্ষ টাকা সমমূল্যের ৭৭ প্রকারের গৃহস্থালি সামগ্রী দেওয়া হয়।

সিডস অব সাদাকাহ সংগঠনের প্রধান মো. জয়নুল আবেদিন বলেন, আমাদের লক্ষ্য সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষদের জন্য আনন্দ এবং স্বনির্ভরতার পথ তৈরি করা। আজকের এই আয়োজন তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

সিডস অব সাদাকাহ’র আয়োজক ওরকাতুল জান্নাত বলেন, নতুন জীবনের শুরুতে এই সঙ্গ ও সহায়তা তাদের মনে নতুন আশা ও উদ্দীপনা জাগাবে।

সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন আয়োজকরা।

উজিরপুর ছাত্রদলে বহিষ্কার নিয়ে বিতর্ক, ৯ দিনেই পদে ফেরত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
উজিরপুর ছাত্রদলে বহিষ্কার নিয়ে বিতর্ক, ৯ দিনেই পদে ফেরত

বরিশালের উজিরপুর উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে ‘বহিষ্কার বাণিজ্য’র অভিযোগ উঠেছে। টাকার বিনিময়ে বহিষ্কার এবং পরে আবার অর্থের বিনিময়ে স্বপদে ফেরানোর মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

সম্প্রতি সাতলা ইউনিয়নে মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাতলা ইউনিয়নে ছাত্রদলের এক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। ৬ এপ্রিল রাতে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তারেক সুজন ও সদস্যসচিব মুরাদ হাওলাদার রনি স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বহিষ্কৃত রাফিন খন্দকার রাহাত সাতলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

এরপর ১৫ এপ্রিল তাকে আবার একই পদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যা নিয়ে সংগঠনের ভেতরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা এ ঘটনাকে ‘বহিষ্কার বাণিজ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সদস্য সচিব মুরাদ হাওলাদার রনি বলেন, “দলীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধে তাকে পুনর্বহাল করা হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, বিষয়টি রাজনৈতিক নয় বরং পারিবারিক।

তবে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা বলেন, “আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই উপজেলা ছাত্রদলের দুই নেতা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তারেক সুজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।