খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

দেশের জন্য সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই: জাইমা রহমান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:২৪ অপরাহ্ণ
দেশের জন্য সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই: জাইমা রহমান

একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কথা জানান। তার সেই পোস্ট বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে শেয়ার করা হয়।

পোস্টে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে জাইমা রহমান বলেন, ‘দাদুকে নিয়ে আমার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলোর একটি হলো, পরিবারকে আগলে রাখা একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি কতটা মমতাময়ী ছিলেন! আমার বয়স তখন এগারো।

আমাদের স্কুলের ফুটবল টিম একটা টুর্নামেন্ট জিতেছিল, আর আমি মেডেল পেয়েছিলাম। আম্মু আমাকে সরাসরি দাদুর অফিসে নিয়ে গিয়েছিলেন, আমি যেন নিজেই দাদুকে আমার বিজয়ের গল্পটা বলতে পারি; তাঁকে আমার বিজয়ের মেডেলটা দেখাতে পারি। আমি খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে গোলকিপার হিসেবে কী-কী করেছি, সেটা বলছিলাম; আর স্পষ্ট টের পাচ্ছিলাম, দাদু প্রচণ্ড মনোযোগ নিয়ে আমাকে শুনছেন। তিনি এতটাই গর্বিত হয়েছিলেন যে, পরে সেই গল্পটা তিনি অন্যদের কাছেও বলতেন।’

‘আমি সব সময়ই জানতাম, আমার দাদুর কাঁধে একটা দেশের দায়িত্ব। তবুও আমার স্মৃতিতে দাদু হলেন পরিবারকে আগলে রাখা একজন মমতাময়ী অভিভাবক। লাখো মানুষের কাছে তিনি ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আমার আর আমার কাজিনদের কাছে তিনি ছিলেন ‘দাদু’।

আমাদের ‘দাদু’। তিনি সব সময় আমাদের খেয়াল রাখতেন, আমাদের জন্য সময় বের করতেন, আর যেসব মুহূর্ত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেগুলোতে আমাদের সাহস দিতেন, উজ্জীবিত করতেন। এই ছোট-ছোট মুহূর্তগুলো থেকেই আমি নেতৃত্বের প্রথম শিক্ষা পাই। সেটি হলো, নম্রতা, আন্তরিকতা আর মন দিয়ে শোনার মানসিকতা।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বাইরে কাটানো সতেরোটা বছর আমার জীবন অনেকভাবে বদলে দিয়েছে। কিন্তু আমি কখনোই আমার শিকড় ভুলে যাইনি। কারণ, আমাদের সত্তার যে ভিত্তি, আমাদের যে সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ; সেটিই আমাদেরকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে, পরিচয় বহন করে। প্রবাসে থাকা দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের অনেক বাংলাদেশির মতো আমিও নিজ দেশের বাইরে, ভিন্ন দেশে অনেকগুলো বছর কাটিয়েছি। লন্ডনের দিনগুলো আমাকে বাস্তববাদী করেছে, একটা বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে। যদিও আমার হৃদয়-মন সব সময় বাংলাদেশেই ছিল।’

ব্যারিস্টার জাইমা বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আমাকে শৃঙ্খলা ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান শিখিয়েছে। তবে মানুষের সঙ্গে কাজ করা আমাকে শিখিয়েছে আরও অনেক বেশি; শিখিয়েছে দায়িত্বশীল হতে, বিপদগ্রস্তের পাশে দাঁড়াতে। আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে আলোড়িত করে। প্রত্যেক ক্লায়েন্ট, প্রতিটি মামলা, প্রতিটি মানুষের সমস্যা, কারো না কারো জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। যারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, অবহেলার শিকার হয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সেই বিশ্বাস দিতে হয় যে, তাদের বিষয়টি দেখা হচ্ছে, শোনা হচ্ছে, সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। কারো জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনে তার পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা যে শিক্ষাটা দেয়, সেটা কোনো ক্লাসরুম দিতে পারে না। এই প্রতিটা ধাপ আমাকে ভাবতে শিখিয়েছে, মানুষ হিসেবে কেমন হতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমি আমার ‘দাদা’কে কখনো দেখিনি। কিন্তু তাঁর সততা আর দেশপ্রেমের কথা সব সময় শুনে এসেছি। ‘দাদু’ আর ‘আব্বু’ সেই আদর্শটাই বয়ে নিয়ে চলেছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং ৫ আগস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। অধিকাংশ সময় বলেছি কম, বরং শুনেছি বেশি। ছোট-ছোট কাজের মাধ্যমে তাঁদের বোঝা একটু হালকা করার চেষ্টা করেছি।’

দেশে ফেরা নিয়ে জাইমা রহমান বলেন, ‘অনেকগুলো বছর পর দেশে ফিরছি। দেশে ফেরা মানে আবেগ আর অনুভূতির এক অনন্য সংমিশ্রণ। দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি ‘দাদু’র পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। নিজের চোখে, নিজের অভিজ্ঞতায় প্রিয় বাংলাদেশকে নতুন করে জানতে চাই; মানুষের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলতে চাই। যেভাবে এগুনো দরকার, আমি চাই বাংলাদেশ আবারো সেভাবে সামনে এগিয়ে যাক, গর্জে উঠুক।’

‘আমি জানি, আমার পরিবারকে ঘিরে দেশের জনগণের কৌতূহল রয়েছে, প্রত্যাশা রয়েছে। সেটি কখনো আশার, কখনো প্রশ্নের। সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়ভারও রয়েছে। জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণের চাপ আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে অনুভব করি; পরিবারে, বন্ধুত্বে, সমাজে। সংক্ষেপে, আমার নিজের ভাষায়, এই হলো আমার গল্প। আমাদের প্রত্যেকের জীবনে একটা নিজস্ব গল্প আছে। এই গল্পগুলোকে ধারণ করে, আমরা সবাই হয়তো একসঙ্গে বাকি পথটা হাঁটতে পারি।’

নতুন ২ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত সরকারের, একদিন থাকবে ছুটি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
নতুন ২ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত সরকারের, একদিন থাকবে ছুটি

৬ জুলাই পল্লী উন্নয়ন দিবস এবং ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

তিনি বলেন, ৬ জুলাই পল্লী উন্নয়ন দিবস হিসেবে পালন করা হবে। তবে এদিন সরকারি ছুটি থাকবে না। এছাড়া ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি ছুটি হিসেবে দিনটি পালিত হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে সচিব বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা, ২০২৫ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সোলার পাওয়ার দিয়ে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে।

এ সময় সরকার মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী মো. আরিফুল হক চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানমসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সিলেটে একসঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে ১২৬ তরুণ-তরুণী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
সিলেটে একসঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে ১২৬ তরুণ-তরুণী

সম্পূর্ণ বিনা খরচে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন হতদরিদ্র, এতিম ও অসহায় ১২৬ তরুণ-তরুণী। বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) সিলেটের একটি কনভেনশন হলে এসব বিবাহ সম্পন্ন হয়।

প্রাপ্তবয়স্ক হলেও অর্থাভাবে এই ১২৬ জন তরুণ-তরুণীর বিয়ের পিঁড়িতে বসা হচ্ছিল না। তাদের সংসার সাজাতে মহাধুমধামে গণবিবাহের আয়োজন করে স্থানীয় মানবিক সংগঠন সিডস অব ব্লেসিংস।

সম্ভ্রান্ত পরিবারের স্বপ্নময় বিয়ের মতো বর্ণিল, উৎসবমুখর আর ঝমকালো আয়োজনে এসব বিয়ে হয়। খাবার-দাবারসহ কোনো কিছুর কমতি ছিল না এই গণবিয়েতে। যুক্তরাজ্য প্রবাসী তরুণদের মানবিক সংগঠন সিডস অব সাদাকাহ’র অর্থায়নে এই গণবিবাহ সম্পন্ন হয়।

উপহার হিসেবে নবদম্পতিগুলোর নতুন জীবনকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে প্রায় দুই লক্ষ টাকা সমমূল্যের ৭৭ প্রকারের গৃহস্থালি সামগ্রী দেওয়া হয়।

সিডস অব সাদাকাহ সংগঠনের প্রধান মো. জয়নুল আবেদিন বলেন, আমাদের লক্ষ্য সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষদের জন্য আনন্দ এবং স্বনির্ভরতার পথ তৈরি করা। আজকের এই আয়োজন তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

সিডস অব সাদাকাহ’র আয়োজক ওরকাতুল জান্নাত বলেন, নতুন জীবনের শুরুতে এই সঙ্গ ও সহায়তা তাদের মনে নতুন আশা ও উদ্দীপনা জাগাবে।

সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন আয়োজকরা।

উজিরপুর ছাত্রদলে বহিষ্কার নিয়ে বিতর্ক, ৯ দিনেই পদে ফেরত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
উজিরপুর ছাত্রদলে বহিষ্কার নিয়ে বিতর্ক, ৯ দিনেই পদে ফেরত

বরিশালের উজিরপুর উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে ‘বহিষ্কার বাণিজ্য’র অভিযোগ উঠেছে। টাকার বিনিময়ে বহিষ্কার এবং পরে আবার অর্থের বিনিময়ে স্বপদে ফেরানোর মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

সম্প্রতি সাতলা ইউনিয়নে মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাতলা ইউনিয়নে ছাত্রদলের এক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। ৬ এপ্রিল রাতে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তারেক সুজন ও সদস্যসচিব মুরাদ হাওলাদার রনি স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বহিষ্কৃত রাফিন খন্দকার রাহাত সাতলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

এরপর ১৫ এপ্রিল তাকে আবার একই পদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যা নিয়ে সংগঠনের ভেতরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা এ ঘটনাকে ‘বহিষ্কার বাণিজ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সদস্য সচিব মুরাদ হাওলাদার রনি বলেন, “দলীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধে তাকে পুনর্বহাল করা হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, বিষয়টি রাজনৈতিক নয় বরং পারিবারিক।

তবে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা বলেন, “আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই উপজেলা ছাত্রদলের দুই নেতা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তারেক সুজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।