খুঁজুন
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু, সঙ্গে ৫ মন্ত্রীও

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু, সঙ্গে ৫ মন্ত্রীও

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তার নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গঠন করল ভারতীয় জনতা পার্টি। একই সঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করেছেন।

গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে বিজেপি বিপুল ভোটে জয়ী হয়। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দলের বিধায়কদের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীকে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করল বিজেপি।

কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। আজ শনিবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় (বাংলাদেশ সময় সাড়ে ১১টা) শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা।

নতুন মন্ত্রিসভায় পাঁচজন সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু। শুভেন্দুর পর পর্যায়ক্রমে এই পাঁচজন মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টার একটু পর রাজ্যপাল আর এন রবির উপস্থিতিতে শপথ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর শুভেন্দুর পিঠ চাপড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং তাকে অভিনন্দন জানান।

রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হবেন, এমন আলোচনা আগে থেকেই রাজনৈতিক মহলে চলছিল। বিজেপির জয়ের পর সেই জল্পনা হলো সত্যি।

শুক্রবার বিধায়ক দলের বৈঠকে তাকে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, সব প্রস্তাবেই একমাত্র নাম হিসেবে শুভেন্দুর নাম এসেছে। অন্য কোনো প্রার্থী সামনে আসেনি। এই কারণে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুভেন্দু অধিকারীকেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা

এক লাফে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন- চার ধরনের তেলের দামই লিটার প্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন দাম কার্যকর হবে আগামীকাল সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। ফলে ডিজেলের দাম বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রল ১৬০ এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটার হবে।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা
এর আগে ডিজেল ১১৫, কেরোসিন ১৩৫, পেট্রল ১৪০ এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ এক দিনেই চার ধরনের জ্বালানির দাম ২০ টাকা করে বাড়ল।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থে দেশে তা পুরোপুরি সমন্বয় করা হয়নি। এতে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।

এর আগে ১৯ এপ্রিল থেকে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়। একই সময়ে কেরোসিন ১৮, পেট্রল ১৯ এবং অকটেন ২০ টাকা বাড়ানো হয়। জুনে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম আরও ৫ টাকা করে বাড়ে। এরপর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাম অপরিবর্তিত ছিল।

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে ডিজেলে প্রতি লিটারে বিপিসির লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে। লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ালে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন দাম কার্যকর হলে পরিবহন, কৃষি ও পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে নিত্যপণ্যের বাজারেও।

 

সাতক্ষীরার এমপি গাজী নজরুলের স্ত্রীর ঝুলন্ত ম র দে হ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার এমপি গাজী নজরুলের স্ত্রীর ঝুলন্ত ম র দে হ উদ্ধার

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ৭টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

এসময় ন্যাম ভবনের একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ পাওয়া যায়।

শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মনিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আমরা এখনও ঘটনাস্থলে আছি। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৮ পূর্বাহ্ণ
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবরে তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবার সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন।

তারেক রহমানের আগামী বৃহস্পতিবারের (২৪ সেপ্টেম্বর) ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উন্নয়নে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্য ও ক্ষুধা কেন অব্যাহত রয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং দেশগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

এই ভাষণের ঠিক ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরবর্তীতে আরও কয়েকবার তিনি সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে বক্তব্য দেখন। এর মধ্যে রয়েছে, ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারক সভা এবং ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন। ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক সভাতেও বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য দেন।

জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে বক্তব্য দেন বেগম খালেদা জিয়া। এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তার অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। এতে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অগ্রাধিকার, বৈশ্বিক শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, জলবায়ু মোকাবিলা ও জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়গুলোও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে স্থান পাবে। পাশাপাশি সফরে রোহিঙ্গা সংকটকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এছাড়াও বাংলাদেশের জন্য এবারের ৮১তম অধিবেশনটি বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে। কারণ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতিসংঘের প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর চলবে।

১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে যে অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণে যার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল, ২০২৬ সালে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণের মধ্য দিয়ে সেই অধ্যায়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।