আমরা চাই কিছু হওয়ার আগেই সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হোক: শফিকুর রহমানে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ২:০৮ পূর্বাহ্ণ

রংপুরে ১১ দলীয় লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে সরকারকে সতর্ক করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের দাবি উপেক্ষা করে সরকার একই পথে হাঁটলে পরিণতিও একই হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই কিছু একটা হওয়ার আগেই সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। যদি না হয়, তাহলে বসে বসে আঙুল চুষবো না।’

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে রংপুরে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করলেও তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করবেন না। অন্যায়, অপশক্তি ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না বলেও জানান তিনি।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, গণভোটের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষায়, ‘মানতে হলে সবটা মানতে হবে, আর বাদ দিলে সবটা বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেন। তখন দেখা যাবে কার বুকের পাটা কতটুকু।’

বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি এখন ভুলে যাওয়া হচ্ছে। সরকার এমন একটি পথে এগোচ্ছে, যে পথে অতীতে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল। একই পথে হাঁটলে পরিণতিও একই হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

রংপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে তিস্তা বাঁচানোর কথা বলা হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। জনগণকে বারবার আশ্বাস দিয়ে তা বাস্তবায়ন না করার সমালোচনা করেন তিনি।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, জনগণ তাদের সরকার গঠনের সুযোগ দিলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গকে কৃষির রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা এবং নদীগুলোর হারানো প্রাণ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও চাঁদাবাজি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, রংপুরের মানুষ গ্যাস পাচ্ছে না, কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না, আর তরুণদের একটি বড় অংশ কর্মসংস্থানের সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। চাঁদাবাজির প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি তুলে ধরা হয়।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাপনী সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত লংমার্চের বিভিন্ন পথসভায়ও এসব দাবি তুলে ধরেন জোটের নেতারা।

প্রিন্ট করুন